পবিত্র কোরআন মাজিদের প্রথম সূরা হলো সূরা আল-ফাতেহা (Surah Al-Fatihah)। এর গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। এই সূরাটিকে কেবল কোরআনের সূচনা নয়, বরং এটি সমস্ত নামাজের ভিত্তি এবং আরোগ্য লাভের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত। প্রতিটি মুসলমানের জন্য সূরা ফাতেহার সঠিক উচ্চারণ, অর্থ ও তাৎপর্য জানা আবশ্যক, কারণ এটি ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হয় না।
সূরা ফাতেহা হলো আল্লাহ তায়ালার প্রতি বান্দার এক সুন্দর প্রার্থনা এবং কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। এই সূরাটি মূলত একজন মুমিনের মনের কথা এবং আল্লাহর কাছে সঠিক পথের জন্য তার বিনম্র আবেদন। এটি জানা থাকলে ইবাদতে মনোযোগ বাড়ে এবং সালাতে (নামাজ) পূর্ণতা আসে। এই সম্পূর্ণ গাইডটিতে আমরা সূরা ফাতেহার আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ, এর ফজিলত এবং ইসলামে এর গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।
সূরা ফাতেহা পরিচিতি
এই সূরা ফাতেহার পরিচিতি, নাম এবং আয়াত সংখ্যা জানা থাকলে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা সহজ হয়।
সূরা ফাতেহার নাম ও অর্থ
আল-ফাতেহা শব্দের অর্থ হলো সূচনা বা উন্মোচনকারী। এই সূরাটিকে কোরআন মাজিদের ‘উম্মুল কিতাব’ (কিতাবের জননী) বা ‘কোরআনের দরজা’ বলা হয়, কারণ এটি দিয়েই পবিত্র কোরআন শুরু হয়েছে। এটি মক্কায় অবতীর্ণ (মাক্কী সূরা)।
সূরা ফাতেহা কত আয়াত
এই সূরা ফাতেহা হলো সাত (৭) আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা। তবে এই সাতটি আয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত এবং ইবাদতের মূলনীতিগুলো সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।
সূরা ফাতেহার অন্য নামসমূহ
এর বিশেষ গুরুত্বের কারণে এর অনেকগুলো নাম রয়েছে। এদের মধ্যে জনপ্রিয় কিছু নাম হলো:
- উম্মুল কিতাব: কিতাবের জননী
- উম্মুল কোরআন: কোরআনের জননী
- আস-সাব’উল মাছানি: বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (নামাজে বারবার পড়া হয় বলে)
- আশ-শিফা: আরোগ্য বা রোগমুক্তি দানকারী
- আস-সালাত: নামাজ
সূরা ফাতেহার আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
সহজ ও সরল ভাষায় সূরা ফাতেহার আরবি মূল, বাংলা উচ্চারণ এবং প্রতিটি আয়াতের অর্থ নিচে দেওয়া হলো।
সূরা ফাতেহার আরবি উচ্চারণ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
১। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَۙ
২। اَلرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِۙ
৩। مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِؕ
৪। اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَاِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُؕ
৫। اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَۙ
৬। صِرَاطَ الَّذِيْنَ اَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْۙ
৭। غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّآلِّيْنَؒ
সূরা ফাতেহার বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম।
১। আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ-লামীন।
২। আর-রাহমানির রাহীম।
৩। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন।
৪। ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন।
৫। ইহ্দিনাস সিরা-তাল মুস্তাকীম।
৬। সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম।
৭। গাইরিল মাগদূবি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্ দা-ল্লীন।
সূরা ফাতেহার বাংলা অর্থ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
১.সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই।
২.যিনি পরম করুণাময়, পরম দয়াময়;
৩.বিচার দিনের মালিক।
৪.আমরা তোমারই উপাসনা করি, তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি;
৫.তুমি আমাদের চালিত করো সঠিক পথে,
৬.তাঁদের পথে, যাঁদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছ,
৭.যারা (তোমার) রোষে পতিত হয়নি, পথভ্রষ্ট হয়নি।
সূরা ফাতেহার ফজিলত
হাদীসে এবং সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যে সূরা ফাতেহার বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
রোগমুক্তির ফজিলত
সূরা ফাতেহাকে আশ-শিফা (আরোগ্যকারী) বলা হয়। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রুকইয়া (ঝাড়ফুঁক) হিসেবে সূরা ফাতেহা ব্যবহার করতে শিখিয়েছেন। কোনো অসুস্থ ব্যক্তি বা বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসায় সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিলে আরোগ্য লাভের আশা করা যায়।
কোরআনের দরজা উন্মোচনের সূরা
এটি কোরআনের প্রথম সূরা হওয়ায় এটিকে ‘উম্মুল কোরআন’ বলা হয়। এই সূরাটি কোরআনের মূল বিষয়বস্তু, যেমন আল্লাহর একত্ব, তাঁর দয়া, বিচার দিবস, সঠিক পথ ও বিপথগামীদের পরিচয় এগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরে।
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য সূরা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নামাজে সূরা ফাতেহা পাঠ করল না, তার নামাজ হলো না।” এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করা ফরজ বা রুকন।
রুকইয়া হিসেবে সূরা ফাতেহার ব্যবহার
এই সূরা ফাতেহা নিজেই একটি শক্তিশালী রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক। অসুস্থতা বা কোনো বিপদ থেকে মুক্তি পেতে এটি পাঠ করা একটি পরীক্ষিত আমল।
সূরা ফাতেহার শানে নুজুল (অবতীর্ণ হওয়ার কারণ)
সূরা ফাতেহা মাক্কী সূরা এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগেই এটি অবতীর্ণ হয়।
নবীজি (সা.) এর সময়ে সূরাটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট
মুফাসসিরগণ মনে করেন, এই সূরাটি এমন সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে যখন মুসলমানদের একটি নির্দিষ্ট প্রার্থনা এবং আল্লাহর প্রতি আহ্বান জানানোর পদ্ধতির প্রয়োজন ছিল। এই সূরাটিই সেই চাহিদা পূরণ করে, যা মুসলমানদের আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করে এবং এরপর তাদের জীবন পরিচালনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিরাতুল মুস্তাকীম (সরল সঠিক পথ) এর জন্য প্রার্থনা করতে শেখায়। এটিই ছিল প্রথম পূর্ণাঙ্গ সূরা যা মুসলমানরা নামাজে এবং অন্য সময় পাঠ করা শুরু করে।
সূরা ফাতেহার শিক্ষা ও উপকারিতা
সূরা ফাতেহার সাতটি আয়াত মুসলমানদের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে।
আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা
সূরাটির শুরু হয়েছে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান দিয়ে (আলহামদু লিল্লাহ), যা বান্দাকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখায়।
আল্লাহর একত্ব স্বীকার
এই সূরা আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ) শিক্ষায় ভরপুর। এটি বলে, আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি এবং কেবল তাঁরই কাছে সাহায্য চাই।
সঠিক পথ প্রার্থনা
সূরাটির মূল অংশ হলো আল্লাহর কাছে সরল সঠিক পথের (সিরাতুল মুস্তাকীম) জন্য প্রার্থনা করা। এটি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর নির্দেশনা চাওয়ার শিক্ষা দেয়।
বিচার দিবসের স্মরণ
সূরাটি আমাদের বিচার দিনের (ইয়াওমিদ্দীন) মালিকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা বান্দাকে দুনিয়ায় জবাবদিহিতা ও সচেতন জীবন যাপনে উৎসাহিত করে।
নামাজে সূরা ফাতেহার গুরুত্ব
নামাজে সূরা ফাতেহার স্থান প্রশ্নাতীতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ফাতেহা ছাড়া নামাজ পূর্ণ হয় না
হাদীসের আলোকে সমস্ত ফিকাহবিদরা একমত যে, ইমামের পেছনে মুক্তাদি ছাড়া (মুক্তাদির বিষয়ে মতভেদ আছে) প্রত্যেক নামাজীর জন্য প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করা ফরজ বা নামাজের অন্যতম প্রধান রুকন। সূরা ফাতেহা ছাড়া নামাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ইমামের পেছনে সূরা ফাতেহা পড়ার হুকুম
মুক্তাদি বা ইমামের পেছনে নামাজ আদায়কারীর জন্য সূরা ফাতেহা পড়ার হুকুম নিয়ে ফিকাহবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:
- হানাফী মাযহাব: ইমাম যখন উচ্চস্বরে কেরাত পড়েন, তখন মুক্তাদির জন্য সূরা ফাতেহা পড়া মাকরূহ। তারা মনে করেন, ইমামের কেরাতই মুক্তাদির কেরাত হিসেবে গণ্য হবে।
- শাফেয়ী, হাম্বলী ও মালেকী মাযহাবের অধিকাংশ: ইমামের পেছনে মুক্তাদিকেও সূরা ফাতেহা পড়তে হবে, কারণ হাদীসে নামাজে ফাতেহা না পড়াকে নামাজ না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- নিরপেক্ষ মত: অনেকে মনে করেন, ইমাম নীরবে কেরাত পড়লে মুক্তাদি পড়বেন, আর উচ্চস্বরে পড়লে মনোযোগ সহকারে শুনবেন।
সূরা ফাতেহা মুখস্থ করার সহজ উপায়
সূরা ফাতেহা মুখস্থ করা তুলনামূলকভাবে সহজ।
শিশুদের শেখানোর টিপস
- ছোট ছোট ভাগে শেখানো: সূরাটিকে ৪-৫টি ছোট ভাগে ভাগ করে প্রতিদিন শেখান।
- শোনা ও পুনরাবৃত্তি: শুদ্ধ তেলাওয়াত বারবার শোনান এবং শিশুদের দিয়ে বারবার পুনরাবৃত্তি করান।
- অর্থসহ শেখানো: শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে আয়াতের অর্থগুলো সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিন।
উচ্চারণ ঠিক করার কৌশল
- মাখরাজ অনুযায়ী উচ্চারণ: আরবির প্রতিটি অক্ষরের সঠিক মাখরাজ (উচ্চারণ স্থান) অনুযায়ী উচ্চারণ করার অনুশীলন করুন।
- ধীর তেলাওয়াত: প্রথম দিকে ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করুন যাতে উচ্চারণ ভুল না হয়।
- শুদ্ধ কারীর অনুসরণ: একজন শুদ্ধ কারী বা শিক্ষকের কাছ থেকে তেলাওয়াত শুনে তাদের অনুসরণ করুন।
সূরা ফাতেহা হলো আমাদের দ্বীনের ভিত্তি এবং কোরআন মাজিদের সারসংক্ষেপ। এই সূরাটি আমাদের শেখায় কীভাবে আল্লাহর প্রশংসা করতে হয়, তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে হয় এবং জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাওয়া সরল পথের নির্দেশনা, কীভাবে প্রার্থনা করতে হয়। এর শুদ্ধ উচ্চারণ ও অর্থ জানা এবং ইবাদতে এর অনুশীলন করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমান ও আমলের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সূরা ফাতেহার শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার তৌফিক দিন।
সূরা ফাতেহা সম্পর্কিত ২০টি প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা কত আয়াত বিশিষ্ট?
উত্তর: সূরা ফাতেহা হলো সাত (৭) আয়াত বিশিষ্ট।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহার অন্য নাম কী?
উত্তর: সূরা ফাতেহার অন্য জনপ্রিয় নাম হলো উম্মুল কিতাব (কিতাবের জননী) এবং আস-সাব’উল মাছানি (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত)।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা কোন সূরা? মাক্কী নাকি মাদানী?
উত্তর: সূরা ফাতেহা হলো মাক্কী সূরা, অর্থাৎ এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল।
প্রশ্ন: নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কি সূরা ফাতেহা পড়া আবশ্যক?
উত্তর: হ্যাঁ, হাদীস অনুযায়ী সূরা ফাতেহা ছাড়া নামাজ পূর্ণ হয় না। এটি প্রতিটি রাকাতের একটি ফরজ রুকন।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহার অর্থ কী?
উত্তর: সূরা ফাতেহার অর্থ হলো সূচনা বা উন্মোচনকারী (The Opening)।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মূল চাওয়া কী?
উত্তর: সূরা ফাতেহার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মূল চাওয়া হলো সিরাতুল মুস্তাকীম (সরল সঠিক পথ)।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহার একটি আরোগ্যমূলক নাম কী?
উত্তর: সূরা ফাতেহার একটি আরোগ্যমূলক নাম হলো আশ-শিফা (Ash-Shifa) বা রোগমুক্তি দানকারী।
প্রশ্ন: ইমামের পেছনে মুক্তাদির সূরা ফাতেহা পড়ার হুকুম কী?
উত্তর: ইমামের পেছনে মুক্তাদির সূরা ফাতেহা পড়ার বিষয়ে ফিকাহবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে অনেক মাযহাবে পড়া বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা কি কোরআনের দরজা বলা হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, সূরা ফাতেহাকে কোরআনের দরজা বা উম্মুল কোরআন বলা হয়।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহার প্রথম আয়াতের বাংলা অর্থ কী?
উত্তর: সূরা ফাতেহার প্রথম আয়াতের অর্থ হলো: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে কোন ইবাদতের সূচনা হয়?
উত্তর: সূরা ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে নামাজ (সালাত) ইবাদতের সূচনা হয়।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহার কোন আয়াতটি আল্লাহর একত্ব প্রকাশ করে?
উত্তর: সূরা ফাতেহার ৪ নম্বর আয়াত, “ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন” (আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি এবং শুধু আপনারই সাহায্য চাই), আল্লাহর একত্ব প্রকাশ করে।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা পড়ার আগে কি বিসমিল্লাহ পড়তে হয়?
উত্তর: সূরা ফাতেহা পড়ার আগে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম পাঠ করা সুন্নত। তবে সূরা ফাতেহার আয়াত সংখ্যার হিসেবে বিসমিল্লাহ গণনা করা হয় না (মতভেদ আছে)।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা কি রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক হিসেবে ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, হাদীস অনুসারে সূরা ফাতেহা রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা মুখস্থ করার সহজ উপায় কী?
উত্তর: সূরাটিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে বারবার শোনা ও পুনরাবৃত্তি করা সহজ উপায়।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা মাক্কী সূরা হওয়ার অর্থ কী?
উত্তর: মাক্কী সূরা হওয়ার অর্থ হলো এটি হিজরতের আগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহার ভুল উচ্চারণ হলে কি নামাজ হবে?
উত্তর: সূরা ফাতেহার ভয়াবহ ভুল উচ্চারণ হলে অর্থের বিকৃতি ঘটে এবং নামাজ অশুদ্ধ হয়ে যায়। তাই শুদ্ধ উচ্চারণে পড়া জরুরি।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহা কি কিরাত হিসেবে গণ্য হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, সূরা ফাতেহা নামাজের কিরাত হিসেবে গণ্য হয় এবং এর পাঠ বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: সূরা ফাতেহার মাধ্যমে আল্লাহর কোন গুণগুলো প্রকাশ পায়?
উত্তর: সূরা ফাতেহার মাধ্যমে আল্লাহর রবুবিয়্যাহ (প্রতিপালকত্ব), রহমত (করুণা) এবং মালকিয়্যাহ (কর্তৃত্ব) গুণগুলো প্রকাশ পায়।
প্রশ্ন: নামাজে সূরা ফাতেহা পড়ার সময় কখন ‘আমীন’ বলতে হয়?
উত্তর: সূরা ফাতেহার শেষ আয়াত ‘ওয়ালাদ্ দা-ল্লীন’ বলার পর নীরবে বা সশব্দে ‘আমীন’ বলতে হয়।
কুরআনের অন্যান্য সূরা ও ফজিলত সম্পর্কে জানুন
- আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ পূর্ণ ব্যাখ্যা
- সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ কুরআনের বরকতময় রাতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ পূর্ণাঙ্গ আলোচনা
- সূরা কাওসার বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা
- সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা
- সূরা মুলক বাংলা, আরবি উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা কাফিরুন বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা আসর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, তাফসির ও ফজিলতসহ পূর্ণাঙ্গ গাইড
- সূরা লাহাব বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
- সূরা আর রহমান বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত তাফসির: আল্লাহর অসীম দয়ার ঘোষণা
- সূরা মূলক-এর ফজিলত, গুরুত্ব, হাদিস ও উপকারিতা: সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- সূরা ইখলাস বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ: ফজিলত, ব্যাখ্যা ও সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- সূরা বাকারার ফজিলত: কুরআনের দীর্ঘতম সূরার অসংখ্য বরকত ও উপকারিতা








