সূরা ইয়াসিন কোরআনের ৩৬তম সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ একটি মক্কী সূরা এবং এতে মোট ৮৩টি আয়াত রয়েছে। মুসলমানরা সূরাটিকে “কুরআনের হৃদয়” নামে পরিচিত করেছেন। সূরা ইয়াসিন মানুষের হৃদয় আলোকিত করে এবং ঈমান দৃঢ় করার আহ্বান জানায়। এটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর রাসুল হিসেবে সত্যতা ও তাদের বার্তা গ্রহণের গুরুত্ব নির্দেশ করে। এছাড়াও সূরায় কিয়ামত, পরকালের জীবন এবং ঈমানদার ও অজ্ঞেয়কারীর পরিণতি সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে।
সূরার উদ্দেশ্য হলো মানুষের মন ও হৃদয় আলোকিত করা, আল্লাহর একত্ব ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষকে সৎকর্মে উৎসাহিত করা। মুসলমানরা সূরা ইয়াসিন নিয়মিত পড়ে মানসিক প্রশান্তি, বরকত এবং আল্লাহর রহমত লাভ করেন।
সূরা ইয়াসিনের মূল উদ্দেশ্য
সূরা ইয়াসিনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সামনে আল্লাহর একত্ব, রিসালাতের সত্যতা এবং পরকালের অনিবার্যতার অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করা। এর প্রধান বার্তাগুলো নিম্নরূপ:
এক আল্লাহর উপাসনা
- এই সূরার মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ)। এটি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে আল্লাহ এক এবং তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য সত্তা।
- ইসলামে একত্বের এই বার্তা মানুষকে শিরক থেকে বিরত থাকতে এবং একমাত্র সৃষ্টিকর্তার প্রতি অবিচল আস্থা রাখতে শেখায়।
নবী এবং রাসূলের সত্যতা
- আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রেরিত রাসূলদের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েতের পথে আহ্বান করেছেন। সূরা ইয়াসিন নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর রিসালাতের সত্যতা প্রমাণ করে এবং তাঁর মাধ্যমে প্রেরিত ওহীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান জানায়।
কিয়ামত ও পুনরুত্থান
- সূরাটি কিয়ামতের দিন সংঘটিত ঘটনাবলী, পুনরুত্থানের বাস্তবতা এবং মানুষের চূড়ান্ত বিচারের সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়।
- জান্নাত (পুরস্কার) ও জাহান্নামের (শাস্তি) চিত্র তুলে ধরে মানুষকে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
অস্বীকারকারীদের পরিণতি ও ঈমানদারদের পুরস্কার
- যারা আল্লাহর নির্দেশ এবং রাসূলের বাণী অস্বীকার করে, তাদের করুণ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
- পক্ষান্তরে, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সুমহান পুরস্কার ও চিরশান্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সূরা ইয়াসিন আরবি, বাংলা উচ্চারণসহ অর্থ
এখানে সূরা ইয়াসিনের আরবি, বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থ দেওয়া হলো।
সূরা ইয়াসিন আরবি উচ্চারণ পার্ট ১
یٰسٓ ۚ ١ وَالۡقُرۡاٰنِ الۡحَکِیۡمِ ۙ ٢ اِنَّکَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۙ ٣ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ؕ ٤ تَنۡزِیۡلَ الۡعَزِیۡزِ الرَّحِیۡمِ ۙ ٥ لِتُنۡذِرَ قَوۡمًا مَّاۤ اُنۡذِرَ اٰبَآؤُہُمۡ فَہُمۡ غٰفِلُوۡنَ ٦ لَقَدۡ حَقَّ الۡقَوۡلُ عَلٰۤی اَکۡثَرِہِمۡ فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ٧ اِنَّا جَعَلۡنَا فِیۡۤ اَعۡنَاقِہِمۡ اَغۡلٰلًا فَہِیَ اِلَی الۡاَذۡقَانِ فَہُمۡ مُّقۡمَحُوۡنَ ٨ وَجَعَلۡنَا مِنۡۢ بَیۡنِ اَیۡدِیۡہِمۡ سَدًّا وَّمِنۡ خَلۡفِہِمۡ سَدًّا فَاَغۡشَیۡنٰہُمۡ فَہُمۡ لَا یُبۡصِرُوۡنَ ٩ وَسَوَآءٌ عَلَیۡہِمۡ ءَاَنۡذَرۡتَہُمۡ اَمۡ لَمۡ تُنۡذِرۡہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ١۰ اِنَّمَا تُنۡذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّکۡرَ وَخَشِیَ الرَّحۡمٰنَ بِالۡغَیۡبِ ۚ فَبَشِّرۡہُ بِمَغۡفِرَۃٍ وَّاَجۡرٍ کَرِیۡمٍ ١١ اِنَّا نَحۡنُ نُحۡیِ الۡمَوۡتٰی وَنَکۡتُبُ مَا قَدَّمُوۡا وَاٰثَارَہُمۡ ؕؑ وَکُلَّ شَیۡءٍ اَحۡصَیۡنٰہُ فِیۡۤ اِمَامٍ مُّبِیۡنٍ ٪ ١٢ وَاضۡرِبۡ لَہُمۡ مَّثَلًا اَصۡحٰبَ الۡقَرۡیَۃِ ۘ اِذۡ جَآءَہَا الۡمُرۡسَلُوۡنَ ۚ
١٣ اِذۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہِمُ اثۡنَیۡنِ فَکَذَّبُوۡہُمَا فَعَزَّزۡنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوۡۤا اِنَّاۤ اِلَیۡکُمۡ مُّرۡسَلُوۡنَ ١٤ قَالُوۡا مَاۤ اَنۡتُمۡ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا ۙ وَمَاۤ اَنۡزَلَ الرَّحۡمٰنُ مِنۡ شَیۡءٍ ۙ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا تَکۡذِبُوۡنَ ١٥ قَالُوۡا رَبُّنَا یَعۡلَمُ اِنَّاۤ اِلَیۡکُمۡ لَمُرۡسَلُوۡنَ ١٦ وَمَا عَلَیۡنَاۤ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ١٧ قَالُوۡۤا اِنَّا تَطَیَّرۡنَا بِکُمۡ ۚ لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہُوۡا لَنَرۡجُمَنَّکُمۡ وَلَیَمَسَّنَّکُمۡ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ١٨ قَالُوۡا طَآئِرُکُمۡ مَّعَکُمۡ ؕ اَئِنۡ ذُکِّرۡتُمۡ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ
সূরা ইয়াসিন আরবি উচ্চারণ পার্ট ২
مُّسۡرِفُوۡنَ ١٩ وَجَآءَ مِنۡ اَقۡصَا الۡمَدِیۡنَۃِ رَجُلٌ یَّسۡعٰی قَالَ یٰقَوۡمِ اتَّبِعُوا الۡمُرۡسَلِیۡنَ ۙ ٢۰ اتَّبِعُوۡا مَنۡ لَّا یَسۡـَٔلُکُمۡ اَجۡرًا وَّہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ ٢١ وَمَا لِیَ لَاۤ اَعۡبُدُ الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٢٢ ءَاَتَّخِذُ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً اِنۡ یُّرِدۡنِ الرَّحۡمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغۡنِ عَنِّیۡ شَفَاعَتُہُمۡ شَیۡئًا وَّلَا یُنۡقِذُوۡنِ ۚ ٢٣ اِنِّیۡۤ اِذًا لَّفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٢٤ اِنِّیۡۤ اٰمَنۡتُ بِرَبِّکُمۡ فَاسۡمَعُوۡنِ ؕ ٢٥ قِیۡلَ ادۡخُلِ الۡجَنَّۃَ ؕ قَالَ یٰلَیۡتَ قَوۡمِیۡ یَعۡلَمُوۡنَ ۙ ٢٦ بِمَا غَفَرَ لِیۡ رَبِّیۡ وَجَعَلَنِیۡ مِنَ الۡمُکۡرَمِیۡنَ ٢٧ وَمَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلٰی قَوۡمِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ مِنۡ جُنۡدٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَمَا کُنَّا مُنۡزِلِیۡنَ ٢٨ اِنۡ کَانَتۡ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً فَاِذَا ہُمۡ خٰمِدُوۡنَ ٢٩ یٰحَسۡرَۃً عَلَی الۡعِبَادِ ۚؑ مَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا کَانُوۡا بِہٖ
یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٣۰ اَلَمۡ یَرَوۡا کَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ اَنَّہُمۡ اِلَیۡہِمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ ؕ ٣١ وَاِنۡ کُلٌّ لَّمَّا جَمِیۡعٌ لَّدَیۡنَا مُحۡضَرُوۡنَ ٪ ٣٢ وَاٰیَۃٌ لَّہُمُ الۡاَرۡضُ الۡمَیۡتَۃُ ۚۖ اَحۡیَیۡنٰہَا وَاَخۡرَجۡنَا مِنۡہَا حَبًّا فَمِنۡہُ یَاۡکُلُوۡنَ ٣٣ وَجَعَلۡنَا فِیۡہَا جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّاَعۡنَابٍ وَّفَجَّرۡنَا فِیۡہَا مِنَ الۡعُیُوۡنِ ۙ ٣٤ لِیَاۡکُلُوۡا مِنۡ ثَمَرِہٖ ۙ وَمَا عَمِلَتۡہُ اَیۡدِیۡہِمۡ ؕ اَفَلَا یَشۡکُرُوۡنَ ٣٥ سُبۡحٰنَ الَّذِیۡ خَلَقَ الۡاَزۡوَاجَ کُلَّہَا مِمَّا تُنۡۢبِتُ الۡاَرۡضُ وَمِنۡ
সূরা ইয়াসিন আরবি উচ্চারণ পার্ট ৩
اَنۡفُسِہِمۡ وَمِمَّا لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٣٦ وَاٰیَۃٌ لَّہُمُ الَّیۡلُ ۚۖ نَسۡلَخُ مِنۡہُ النَّہَارَ فَاِذَا ہُمۡ مُّظۡلِمُوۡنَ ۙ ٣٧ وَالشَّمۡسُ تَجۡرِیۡ لِمُسۡتَقَرٍّ لَّہَا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ؕ ٣٨ وَالۡقَمَرَ قَدَّرۡنٰہُ مَنَازِلَ حَتّٰی عَادَ کَالۡعُرۡجُوۡنِ الۡقَدِیۡمِ ٣٩ لَا الشَّمۡسُ یَنۡۢبَغِیۡ لَہَاۤ اَنۡ تُدۡرِکَ الۡقَمَرَ وَلَا الَّیۡلُ سَابِقُ النَّہَارِ ؕ وَکُلٌّ فِیۡ فَلَکٍ یَّسۡبَحُوۡنَ ٤۰ وَاٰیَۃٌ لَّہُمۡ اَنَّا حَمَلۡنَا ذُرِّیَّتَہُمۡ فِی الۡفُلۡکِ الۡمَشۡحُوۡنِ ۙ ٤١ وَخَلَقۡنَا لَہُمۡ مِّنۡ مِّثۡلِہٖ مَا یَرۡکَبُوۡنَ ٤٢ وَاِنۡ نَّشَاۡ نُغۡرِقۡہُمۡ فَلَا صَرِیۡخَ لَہُمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡقَذُوۡنَ ۙ ٤٣ اِلَّا رَحۡمَۃً مِّنَّا وَمَتَاعًا اِلٰی حِیۡنٍ ٤٤ وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمُ اتَّقُوۡا مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡکُمۡ وَمَا خَلۡفَکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ٤٥ وَمَا تَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ اٰیَۃٍ مِّنۡ اٰیٰتِ رَبِّہِمۡ اِلَّا کَانُوۡا عَنۡہَا مُعۡرِضِیۡنَ ٤٦ وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ اَنۡفِقُوۡا مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰہُ ۙ قَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنُطۡعِمُ مَنۡ لَّوۡ یَشَآءُ اللّٰہُ اَطۡعَمَہٗۤ ٭ۖ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا فِیۡ
ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٤٧ وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٤٨ مَا یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً تَاۡخُذُہُمۡ وَہُمۡ یَخِصِّمُوۡنَ ٤٩ فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ تَوۡصِیَۃً وَّلَاۤ اِلٰۤی اَہۡلِہِمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ٪ ٥۰ وَنُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَاِذَا ہُمۡ مِّنَ الۡاَجۡدَاثِ اِلٰی رَبِّہِمۡ یَنۡسِلُوۡنَ ٥١ قَالُوۡا یٰوَیۡلَنَا مَنۡۢ بَعَثَنَا مِنۡ مَّرۡقَدِنَا ٜۘؐ ہٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحۡمٰنُ وَصَدَقَ الۡمُرۡسَلُوۡنَ ٥٢ اِنۡ کَانَتۡ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً فَاِذَا ہُمۡ جَمِیۡعٌ لَّدَیۡنَا مُحۡضَرُوۡنَ ٥٣ فَالۡیَوۡمَ لَا تُظۡلَمُ نَفۡسٌ شَیۡئًا وَّلَا تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٥٤ اِنَّ اَصۡحٰبَ الۡجَنَّۃِ الۡیَوۡمَ فِیۡ شُغُلٍ فٰکِہُوۡنَ ۚ ٥٥ ہُمۡ وَاَزۡوَاجُہُمۡ فِیۡ ظِلٰلٍ عَلَی الۡاَرَآئِکِ مُتَّکِـُٔوۡنَ ٥٦ لَہُمۡ فِیۡہَا فَاکِہَۃٌ وَّلَہُمۡ مَّا یَدَّعُوۡنَ ۚۖ ٥٧ سَلٰمٌ ۟ قَوۡلًا مِّنۡ رَّبٍّ رَّحِیۡمٍ ٥٨ وَامۡتَازُوا الۡیَوۡمَ اَیُّہَا الۡمُجۡرِمُوۡنَ ٥٩ اَلَمۡ اَعۡہَدۡ اِلَیۡکُمۡ یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوا الشَّیۡطٰنَ ۚ اِنَّہٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ ۙ ٦۰ وَّاَنِ اعۡبُدُوۡنِیۡ ؕؔ
সূরা ইয়াসিন আরবি উচ্চারণ পার্ট ৪
ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ ٦١ وَلَقَدۡ اَضَلَّ مِنۡکُمۡ جِبِلًّا کَثِیۡرًا ؕ اَفَلَمۡ تَکُوۡنُوۡا تَعۡقِلُوۡنَ ٦٢ ہٰذِہٖ جَہَنَّمُ الَّتِیۡ کُنۡتُمۡ تُوۡعَدُوۡنَ ٦٣ اِصۡلَوۡہَا الۡیَوۡمَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ ٦٤ اَلۡیَوۡمَ نَخۡتِمُ عَلٰۤی اَفۡوَاہِہِمۡ وَتُکَلِّمُنَاۤ اَیۡدِیۡہِمۡ وَتَشۡہَدُ اَرۡجُلُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ٦٥ وَلَوۡ نَشَآءُ لَطَمَسۡنَا عَلٰۤی اَعۡیُنِہِمۡ فَاسۡتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَاَنّٰی یُبۡصِرُوۡنَ ٦٦ وَلَوۡ نَشَآءُ لَمَسَخۡنٰہُمۡ عَلٰی مَکَانَتِہِمۡ فَمَا اسۡتَطَاعُوۡا مُضِیًّا وَّلَا یَرۡجِعُوۡنَ ٪ ٦٧ وَمَنۡ نُّعَمِّرۡہُ نُنَکِّسۡہُ فِی الۡخَلۡقِ ؕ اَفَلَا یَعۡقِلُوۡنَ ٦٨ وَمَا عَلَّمۡنٰہُ الشِّعۡرَ وَمَا یَنۡۢبَغِیۡ لَہٗ ؕ اِنۡ ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ وَّقُرۡاٰنٌ مُّبِیۡنٌ ۙ ٦٩ لِّیُنۡذِرَ مَنۡ کَانَ حَیًّا وَّیَحِقَّ الۡقَوۡلُ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ٧۰ اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا خَلَقۡنَا لَہُمۡ مِّمَّا عَمِلَتۡ اَیۡدِیۡنَاۤ اَنۡعَامًا فَہُمۡ لَہَا مٰلِکُوۡنَ ٧١ وَذَلَّلۡنٰہَا لَہُمۡ فَمِنۡہَا رَکُوۡبُہُمۡ وَمِنۡہَا یَاۡکُلُوۡنَ ٧٢ وَلَہُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ ؕ اَفَلَا یَشۡکُرُوۡنَ ٧٣ وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ
اللّٰہِ اٰلِہَۃً لَّعَلَّہُمۡ یُنۡصَرُوۡنَ ؕ ٧٤ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ نَصۡرَہُمۡ ۙ وَہُمۡ لَہُمۡ جُنۡدٌ مُّحۡضَرُوۡنَ ٧٥ فَلَا یَحۡزُنۡکَ قَوۡلُہُمۡ ۘ اِنَّا نَعۡلَمُ مَا یُسِرُّوۡنَ وَمَا یُعۡلِنُوۡنَ ٧٦ اَوَلَمۡ یَرَ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰہُ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ فَاِذَا ہُوَ خَصِیۡمٌ مُّبِیۡنٌ ٧٧ وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَّنَسِیَ خَلۡقَہٗ ؕ قَالَ مَنۡ یُّحۡیِ الۡعِظَامَ وَہِیَ رَمِیۡمٌ ٧٨ قُلۡ یُحۡیِیۡہَا الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَہَاۤ اَوَّلَ مَرَّۃٍ ؕ وَہُوَ بِکُلِّ خَلۡقٍ عَلِیۡمُۨ ۙ ٧٩ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنَ الشَّجَرِ الۡاَخۡضَرِ نَارًا فَاِذَاۤ اَنۡتُمۡ مِّنۡہُ تُوۡقِدُوۡنَ ٨۰ اَوَلَیۡسَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنۡ یَّخۡلُقَ مِثۡلَہُمۡ ؕ بَلٰی ٭ وَہُوَ الۡخَلّٰقُ الۡعَلِیۡمُ ٨١ اِنَّمَاۤ اَمۡرُہٗۤ اِذَاۤ اَرَادَ شَیۡئًا اَنۡ یَّقُوۡلَ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ٨٢ فَسُبۡحٰنَ الَّذِیۡ بِیَدِہٖ مَلَکُوۡتُ کُلِّ شَیۡءٍ وَّاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٪ ٨٣
সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ( আয়াত ১-২০ )
১.ইয়াসিন।
২. ওয়াল কোরআনিল হাকিম।
৩. ইন্নাকা লা-মিনাল মুরসালিন।
৪. আলা সিরাতিম মুসতাকিম।
৫. তানজিলাল ‘আজিজির রাহিম।
৬.লিতুনজিরা কাওমাম্মা-উনজিরা আ-বাউহুম ফাহুম গা-ফিলুন।
৭. লাকাদ হাক্কাল কাওলু‘আলাআকসারিহিম ফাহুম লা-ইউ’মিনুন।
৮. ইন্না- যা‘আলনা-ফি আ‘না-কিহিম আগলা-লান ফাহিয়া ইলাল আজকা-নি ফাহুম মুকমাহুন।
৯. ওয়া যা‘আল না-মিম বাইনি আইদিহিম ছাদ্দাওঁ ওয়া মিন খালফিহিম ছাদ্দান ফাআগশাইনা-হুম ফাহুম লা-ইউবসিরুন।
১০. ওয়া ছাওয়াউন ‘আলাইহিম আ-আনযারতাহুম আম লাম তুনজিরহুম লা-ইউ’মিনুন।
১১. ইন্নামা-তুনজিরু মানিত্তাবা‘আজজিকরা ওয়া খাশিয়াররাহমা-না বিলগাইবি ফাবাশশিরহু বিমাগফিরাতিওঁ ওয়া আজরিন কারিম।
১২. ইন্না-নাহনু-নুহয়িল মাওতা-ওয়া নাকতুবুমা-কাদ্দামু ওয়া আ-ছা-রাহুম ওয়া কুল্লা শাইয়িন আহসাইনা-হু ফিইমা-মিম মুবিন।
১৩. ওয়াদরিব লাহুম মাছালান আসহা-বাল কারইয়াহ ; ইযযাআহাল মুরছালুন।
১৪. ইজ আরছালনা ইলাইলিমুছনাইনি,ফাকাজযাবু-হুমা-ফা‘আজঝাজনা-বিছা-লিছিন ফাকালু-ইন্নাইলাউকুম মুরছালুন।
১৫. কা-লু-মাআনতুম ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা-ওয়ামা-আনঝালার-রাহমা-নু-মিনশাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা-তাকজিবুন।
১৬. কা-লু-রাব্বুনা-ইয়া‘লামুইন্না-ইলাইকুম লামুরছালুন।
১৭. ওয়ামা-‘আলাইনা-ইল্লাল বালাগুল মুবিন।
১৮. কা-লু-ইন্না-তাতাইয়ারনা বিকুম লাইল্লাম তানতাহু-লানার-জুমান্নাকুম ওয়ালা-ইয়ামাছ-ছান্নাকুম মিন্না-‘আজ-বুন আলিম।
১৯. কা-লু-তাইরুকুম মা‘আকুম আইন জুক্কিরতুম বাল আনতুম কাওমুম মুছরিফুন।
২০.ওয়াযা-আ মিন আকসাল মাদিনাতি রাজুলুইঁ ইয়াছ‘আ- কা-লা ইয়া-কাওমিত্তাবি‘উল মুরছালিন।
সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ( আয়াত ২১-৪০ )
২১. ইত্তাবি‘ঊ মাল্লা-ইয়াছ-আলুকুম আজরাওঁ ওয়া হুম মুহতাদুন।
২২. ওয়া মা-লিইয়ালা-আ‘বুদুল্লাজি ফাতারানি ওয়া ইলাইহি তুর যা‘উন।
২৩.আ-আত্তাখিজুমিন দুনিহি-আ-লিহাতান ইয়ঁইউরিদনির রাহমানু-বিদু ররিল লা-তুগনি ‘আন্নি শাফা-‘আতুহুম শাইআওঁ ওয়ালা-ইউনকিজুন।
২৪. ইন্নি ইযাল্লাফি দালা-লিম্মুবিন।
২৫. ইন্নিআ-মানতু-বিরাব্বিকুম ফাছমা‘ঊন।
২৬. কিলাদ খুলিল জান্নাতা কা-লা ইয়া-লাইতা কাওমি ইয়া‘লামুন।
২৭.বিমা-গাফিরলি রাববি ওয়া যা‘আলানি মিনাল মুকরামিন।
২৮.ওয়ামা-আনঝালনা-‘আলা-কাওমিহি মিম বা‘দিহি মিন জুনদিম মিনাছ-ছামাই-ওয়ামা-কুন্নামুনজিলিন।
২৯. ইন কা-নাত ইল্লা-সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান ফাইযা-হুম খা-মিদুন।
৩০.ইয়া-হাছরাতান ‘আলাল ‘ইবা-দ, মা-ইয়া’তিহিম মির রাসুলিন ইল্লা-কা-নুবিহি ইয়াছতাহজিউন।
৩১.আলাম ইয়ারাও কাম আহলাক-না- কাবলাহুম মিনাল কুরুনি আন্নাহুম ইলাইহিম লাইয়ারজি‘উন।
৩২. ওয়া-ইন কুল্লুল লাম্মা-যামি‘উল লাদাইনা-মুহদারুন।
৩৩. ওয়া আইয়াতুল লাহুমুল আরদুল মাইতাতু আহইয়াইনা-হা-ওয়াআখরাজনা-মিনহাহাব্বান ফামিনহু ইয়া’কুলুন।
৩৪. ওয়া যা-আল না-ফিহা-জান্না-তিম মিন নাখিলিওঁ ওয়া আ‘না-বিও ওয়া ফাজ্জারনা-ফিহামিনাল ‘উইঊন।
৩৫. লিয়াকুলু মিন্ ছামারিহি অমা ‘আমিলাত্হু আইদিহিম্; আফালা-ইয়াশ্কুরুন্।
৩৬. ছুবহা-নাল্লাজি খালাকাল আঝাওয়া-যা কুল্লাহা- মিম্মা-তুমবিতুল-আরদু-ওয়া মিন আনফুছিহিম ওয়া মিম্মা-লা-ইয়া‘লামুন।
৩৭.ওয়া ইয়াতুল্লাহুমুল্লাইলু নাছলাখু-মিনহুন্নাহারা ফাইযা-হুম মুজলিমুন।
৩৮. ওয়াশ-শামছু-তাজরিলি-মুছতাকাররিল লাহা- যা-লিকা তাকদিরুল ‘আজিজিল ‘আলিম।
৩৯. ওয়াল কামারা কাদ্দারনা-হুমানা-ঝিলা হাত্তা-‘আ-দাকাল ‘উরজুনিল কাদিম।
৪০.লাশশামছু-ইয়ামবাগি লাহা-আন তুদরিকাল কামারা ওয়ালাল্লাইলু-ছা-বিকুন্নাহা-রি ওয়া কুল্লুন ফি ফালাকিইঁ ইয়াছবাহুন।
সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ( আয়াত ৪১-৬০ )
৪১. ওয়াআ- ইয়াতুল লাহুম আন্না-হামালনা-যুররি-ইয়াতাহুম ফিল ফুলকিল মাশহুন।
৪২.ওয়া খালাক-না-লাহুম মিম মিছলিহি মা ইয়ার-কাবুন।
৪৩.ওয়া ইন্না-শা’ নুগরিকহুম ফালা-ছারিখা লাহুম ওয়ালা-হুম ইউন-কাজুন।
৪৪. ইল্লা-রাহমাতাম মিন্না -ওয়া মাতা-‘আন ইলা-হিন।
৪৫. ওয়া ইযা-কিলা লাহুমুত্তাকু মা- বাইনা আইদিকুম ওয়ামা- খালফাকুম লা‘আল্লাকুম তুরহামুন।
৪৬. ওয়ামা-তা’তিহিম মিন আ-য়াতিম মিন আ-য়া-তি রাব্বিহিম ইল্লা-কা-নু‘আনহা-মু‘রিদিন।
৪৭. ওয়া ইযা-কিলা লাহুম আনফিকু-মিম্মা-রাঝাকাকুমুল্লা-হু কা-লাল্লাজিনা কাফারু লিল্লাজিনা আমানু আনুত‘ইমু-মাল্লাও ইয়াশাউল্লা-হু আত‘আমাহু ইন আনতুম ইল্লা-ফি দালা-লিম মুবিন।
৪৮.ওয়া ইয়াকুলুনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কনতুম সা-দিকিন।
৪৯. মা-ইয়ানজু রুনা ইল্লা সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান তা’খুজুহুম ইয়াখিসসিমুন।
৫০. ফালা-ইয়াছতাতি‘ঊনা তাওছিয়াতাওঁ ওয়ালাইলাআহলিহিম ইয়ারজি‘ঊন।হিম্ ইর্য়াজ্বি‘ঊন্।
৫১.ওয়ানুফিখা ফিসসূরি ফাইযা-হুম মিনাল আজদা-ছি-ইলা-রাব্বিহিম ইয়ানছিলুন।
৫২. কা-লুইয়া-ওয়াইলানা-মাম বা‘আছানা-মিম মারকাদিনা-হা-যা-মা-ওয়া‘আদার রাহমা-নু-ওয়া সাদাকাল মুরছালুন।
৫৩. ইন কা-নাত ইল্লা-সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান ফাইযা-হুম যামি‘উল লাদাইনা-মুহদারুন।
৫৪. ফাল-ইয়াওমা লা-তুজলামু-নাফছুন শাইয়াওঁ ওয়ালা-তুজঝাওনা ইল্লা-মা-কুনতুম তা‘মালুন।
৫৫. ইন্না আসহা-বাল জান্নাতিল ইয়াওমা ফি শুগুলিন ফা-কিহুন।
৫৬. হুম ওয়া আঝওয়া-জুহুম ফি জিলা-লিন ‘আলাল আরাইকি মুত্তাকিঊন।
৫৭.লাহুম ফিহা-ফা-কিহাতুওঁ ওয়া লাহুম মা-ইয়াদ্দা‘ঊন।
৫৮.ছালা-মুন কাওলাম মির-রাব্বির রাহিম।
৫৯. ওয়াম তা-ঝুল ইয়াওমা আইয়ুহাল মুজরিমুন।
৬০.আলাম আ‘হাদ ইলাইকুম ইয়া-বানিআ-দামা আল্লা-তা‘বুদুশশাইতান ইন্নাহু-লাকুম ‘আদুওউম মুবিন।
সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ( আয়াত ৬১-৮৩ )
৬১. ওয়া আনি‘বুদু নী হা-যা-সিরা-তুম মুছতাকিম।
৬২. ওয়া-লাকাদ আদাল্লা মিনকুম জিবিল্লান কাছিরা- আফালাম তাকুনুতা‘কিলুন।
৬৩. হা-জিহি জাহান্নামুল্লাতি কুনতুম তু‘আদুন।
৬৪.ইসলাওহাল ইয়াওমা বিমা-কুনতুম তাকফুরুন।
৬৫.আল-ইয়াওমা নাখতিমু-‘আলাআফওয়া-হিহিম ওয়া-তুকালিলমুনা আইদিহিম ওয়া তাশহাদু আরজুলুহুম বিমা-কা-নুইয়াকছিবুন।
৬৬. ওয়া-লাও নাশাউ-লাতামাছনা- আলা আ‘ইউনিহিম ফাছতাবাকুসসিরা-তা ফাআন্নাইউবসিরুন।
৬৭. ওয়ালাও নাশাউ লামাছাখনা-হুম ‘আলা মাকা-নাতিহিম ফামাছতাতা-‘ঊ মুদিইয়াওঁ ওয়ালা-ইয়ারজি‘ঊন।
৬৮.ওয়ামান নু‘আম্মির হু নুনাক্কিছহু ফিল খালকি আফালা-ইয়া‘কিলুন।
৬৯. ওয়ামা-‘আল্লামনা-হুশশি‘রা ওয়ামা-ইয়ামবাগি লাহু ইন হুওয়া ইল্লা-যিকরুওঁ ওয়া কোরআ-নুম মুবিন।
৭০. লিইউনজিরা মান কা-না হাইয়াওঁ ওয়া ইয়া-হিক্কাল কাওলু‘আলাল কা-ফিরিন।
৭১. আওয়ালাম ইয়ারাও আন্না-খালাকনা- লাহুম মিম্মা- ‘আমিলাত আইদিনা-আন‘আ-মান ফাহুম লাহা-মা-লিকুন।
৭২.ওয়া জাল্লালনা-হা-লাহুম ফামিনহা-রাকুবুহুম ওয়া মিনহা-ইয়া’কুলুন।
৭৩. ওয়া লাহুম ফিহা-মানা-ফি‘উ ওয়া মাশা-রিবু আফালা-ইয়াশকুরুন।
৭৪.ওয়াত্তা-খাজু-মিন দুনিল্লা-হি আ-লিহাতাল লা‘আল্লাহুম ইউনসারুন।
৭৫. লা-ইয়াছ-তাতী‘ঊনা নাসরাহুম ওয়াহুম লাহুম জুনদুম মুহদারুন।
৭৬.ফালা-ইয়াহ-ঝুনকা কাওলুহুম; ইন্না-না‘লামুমা-ইউছিররুনা ওয়ামা-ইউ‘লিনুন।
৭৭. আওয়ালাম ইয়ারাল ইনছা-নুআন্না-খালাকনা-হু-মিন-নুতফাতিন ফা-ইযাহুওয়া খাসিমুম মুবিন।
৭৮.ওয়া দারাবা লানা-মাছালাওঁ ওয়া নাছিয়া খালকাহু কা-লা মাইঁ ইউহয়িল ‘ইযা-মা ওয়া হিয়া রামিম।
৭৯. কুল ইউহয়ী হাল্লাজি আনশাআহা আওওয়ালা মাররাতিওঁ ওয়া হুয়া বিকুল্লি খালকিন ‘আলিমু।
৮০.আল্লাজি জা‘আলা লাকুম মিনাশশাজারিল আখদারি না-রান ফাইজা-আনতুম মিনহু তুকিদুন।
৮১.আওয়া লাইছাল্লাজি খালাকাছছামা-ওয়াতি ওয়াল আরদা বিকা-দিরিন ‘আলা আইঁ ইয়াখলুকা মিছলাহুম বালা- ওয়া হুওয়াল খাল্লা-কুল ‘আলিম।
৮২. ইন্নামাআমরুহু ইজাআরা-দা শাইআন আইঁ ইয়াকুলা লাহুকুন ফাইয়াকুন।
৮৩. ফাছুবহা-নাল্লাজি বিয়াদিহি মালাকুতুকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া ইলাইহি তুর জা‘ঊন।
(মাখরাজসহ উচ্চারণ শিখে নেওয়া জরুরি)।
সূরা ইয়াসিন বাংলা অর্থ আয়াত ১-২০
১. ইয়া-সিন।
২. প্রজ্ঞাময় কোরআনের কসম।
৩. নিশ্চয়ই আপনি প্রেরিত রাসুলগণের একজন।
৪.সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।
৫.কোরআন পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর তরফ থেকে অবতীর্ণ।
৬.যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব-পুরুষগণকেও সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল।
৭. তাদের অধিকাংশের জন্য শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
৮. আমি তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেড়ি পরিয়েছি। ফলে তাদের মস্তক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে গেছে।
৯. আমি তাদের সামনে ও পিছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর তাদের আবৃত করে দিয়েছি, ফলে তারা দেখে না।
১০. আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে দুয়েই সমান; তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
১১. আপনি কেবল তাদেরই সতর্ক করতে পারেন, যারা উপদেশ অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। অতএব আপনি তাদের সুসংবাদ দিয়ে দিন ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের।
১২. আমিই মৃতদের জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি।
১৩.আপনি তাদের কাছে সে জনপদের অধিবাসিদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রসুল আগমন করেছিলেন।
১৪. আমি তাদের নিকট দুজন রাসুল প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর ওরা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তাদের শক্তিশালি করলাম তৃতীয় একজনের মাধ্যমে। তারা সবাই বলল, আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
১৫. তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, রহমান কিছুই নাজিল করেননি। তোমরা কেবল মিথ্যাই বলে যাচ্ছ।
১৬. রাসুলগণ বলল, আমাদের পরওয়ারদেগার যানেন, আমরা অবশ্যই তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
১৭. পরিষ্কারভাবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।
১৮. তারা বলল, আমরা তোমাদের অশুভ-অকল্যাণকর দেখছি। যদি তোমরা বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাদের প্রস্তর বর্ষণে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।
১৯. রাসুলগণ বলল, তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই! এটা কী এজন্য, আমরা তোমাদের সদুপদেশ দিয়েছি? বস্তুত- তোমরা সিমালংঘনকারি সম্প্রদায় বৈ নও।
২০. অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এলো। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রাসুলগণের অনুসরণ করো।
সূরা ইয়াসিন বাংলা অর্থ আয়াত ২১-৩০
২১. অনুসরণ করো তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।
২২. আমার কী হলো, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে, আমি তাঁর এবাদত করব না?
২৩.আমি কী তাঁর পরিবর্তে অন্যদের উপাস্যরুপে গ্রহণ করব? করুণাময় যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনোই কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না।
২৪. এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব।
২৫.আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব আমার কাছ থেকে শুনে নাও।
২৬. তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলল হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোন ক্রমে যানতে পারর্ত।
২৭.যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
২৮. তারপর আমি তার সম্প্রদায়ের ওপর আকাশ থেকে কোনো বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারিও না।
২৯. বস্তুত- এ ছিল এক মহানাদ। অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে সবাই স্তদ্ধ হয়ে গেল।
৩০. বান্দাদের জন্য আক্ষেপ, তাদের কাছে এমন কোন রাসুলই আগমন করেনি যাদের প্রতি তারা বিদ্রুপ করে না।
সূরা ইয়াসিন বাংলা অর্থ আয়াত ৩১-৪০
৩১. তারা কি প্রত্যক্ষ করে না, তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি যে, তারা তাদের মধ্যে আর ফিরে আসবে না।
৩২. ওদের সবাইকে সমবেত অবস্থায় আমার দরবারে উপস্থিত হতেই হবে।
৩৩. তাদের জন্য একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে।
৩৪. আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরিণী।
৩৫.যাতে তারা তার ফল খায়। তাদের হাত একে সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন?
৩৬. পবিত্র তিনি যিনি জমিন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা যানে না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।
৩৭. তাদের জন্যে এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়।
৩৮. সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালি, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ।
৩৯. চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনজিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরুপ হয়ে যায়।
৪০. সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।
সূরা ইয়াসিন বাংলা অর্থ আয়াত ৪১-৫০
৪১. তাদের জন্যে একটি নিদর্শন এই, আমি তাদের সন্তান-সন্ততিকে বোঝাই নৌকায় আরোহণ করিয়েছি।
৪২. এবং তাদের জন্য নৌকার অনুরুপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।
৪৩. আমি ইচ্ছা করলে তাদের নিমজ্জত করতে পারি, তখন তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই এবং তারা পরিত্রাণও পাবে না।
৪৪. কিন্তু আমারই পক্ষ থেকে কৃপা এবং তাদের কিছু কাল জীবনোপভোগ করার সুযোগ দেয়ার কারণে তা করি না।
৪৫. আর যখন তাদের বলা হয়, তোমরা সামনের ও পেছনের কে ভয় করো, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে।
৪৬. যখনই তাদের পালনকর্তার নির্দেশাবলির মধ্যে থেকে কোন নির্দেশ তাদের কাছে আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখে ফিরিয়ে নেয়।
৪৭.যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ তোমাদের যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করো। তখন কাফেররা মুমিনগণকে বলে, ইচ্ছা করলেই আল্লাহ যাকে খাওয়াতে পারতেন, আমরা তাকে কেন খাওয়াব? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত রয়েছ।
৪৮. তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে বলো এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে?
৪৯.তারা কেবল একটা ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদের আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাকবিতন্ডাকালে।
৫০.তখন তারা ওছিয়ত করতেও সক্ষম হবে না। এবং তাদের পরিবার-পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে পারবে না।
সূরা ইয়াসিন বাংলা অর্থ আয়াত ৫১-৬০
৫১. শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।
৫২. তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উদিত করল? রহমান আল্লাহ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রাসুলগণ সত্য বলেছিলেন।
৫৩. এটা তো হবে কেবল এক মহানাদ। সে মুহুর্তেই তাদের সবাইকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে।
৫৪. আজকের দিনে কারও প্রতি জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করবে কেবল তারই প্রতিদান পাবে।
৫৫. এদিন জান্নাতিরা আনন্দে মশগুল থাকবে।
৫৬. তারা এবং তাদের স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান দিয়ে।
৫৭. সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফল-মুল এবং যা চাইবে।
৫৮. করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম।
৫৯. হে অপরাধীরা! আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও।
৬০. হে বনি-আদম! আমি কি তোমাদের বলে রাখিনি, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?
সূরা ইয়াসিন বাংলা অর্থ আয়াত ৬১-৭০
৬১.এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।
৬২.শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি?
৬৩.এই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদের দেয়া হতো।
৬৪.তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ করো।
৬৫. আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।
৬৬. আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে চাইলে কেমন করে দেখতে পেত!
৬৭. আমি ইচ্ছা করলে তাদের স্ব স্ব স্থানে আকার বিকৃত করতে পারতাম, ফলে তারা আগেও চলতে পারত না এবং পেছনেও ফিরে যেতে পারত না।
৬৮.আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, তাকে সৃষ্টিগত পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেই। তবুও কি তারা বুঝে না?
৬৯. আমি রাসুলকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং তা তার জন্যে শোভনীয়ও নয়। এটা তো এক উপদেশ ও প্রকাশ্য কোরআন।
৭০. যাতে তিনি সতর্ক করেন জীবিতকে এবং যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
সূরা ইয়াসিন বাংলা অর্থ আয়াত ৭১-৮৩
৭১. তারা কি দেখে না, তাদের জন্যে আমি আমার নিজ হাতের তৈরি বস্তুর দ্বারা চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই এগুলোর মালিক।
৭২. আমি এগুলোকে তাদের হাতে অসহায় করে দিয়েছি। ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা ভক্ষণ করে।
৭৩. তাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তুর মধ্যে অনেক উপকারিতা ও পানীয় রয়েছে। তবুও কেন তারা শুকরিয়া আদায় করে না?
৭৪. তারা আল্লাহর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে যাতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারে।
৭৫. অথচ এসব উপাস্য তাদের সাহায্য করতে সক্ষম হবে না এবং এগুলো তাদের বাহিনী রুপে ধৃত হয়ে আসবে।
৭৬. অতএব তাদের কথা যেন আপনাকে দুঃখিত না করে। আমি জানি যা তারা গোপনে করে এবং যা তারা প্রকাশ্যে করে।
৭৭. মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী।
৭৮. সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভূত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে?
৭৯. বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।
৮০. যিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপন্ন করেন। তখন তোমরা তা থেকে আগুন জ্বালাও।
৮১. যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
৮২. তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, `হও’ তখনই তা হয়ে যায়।
৮৩. অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
সূরা ইয়াসিন তাফসির
এই সূরা ইয়াসিনের তাফসিরে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উঠে আসে:
- ঈমানের ভিত্তি স্থাপন: এটি তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের মৌলিক বিশ্বাসগুলোকে অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে।
- নবীগণের দাওয়াত: পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনা (যেমন আসহাবুল কারইয়াহ) তুলে ধরে রাসূলের দাওয়াতকে ঐতিহাসিক সত্যতার আলোকে প্রমাণ করা হয়।
- আল্লাহর নিদর্শন: মহাবিশ্বের সৃষ্টি, দিন-রাতের পরিবর্তন, মানুষের সৃষ্টি এইসব কিছুকে আল্লাহর অপার ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- শিক্ষণীয় বার্তা: এটি মানুষকে উদাসীনতা ছেড়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসার এবং অন্তরের ‘হৃদয়’ বা মূল বিশ্বাসকে পরিশুদ্ধ করার আহ্বান জানায়।
সূরা ইয়াসিনের ফজিলত ও উপকারিতা
এই সূরা ইয়াসিনকে ‘কুরআনের হৃদয়’ বলার পেছনে অনেক কারণ ও ফজিলত রয়েছে।
মৃত্যুপথযাত্রা ও শান্তি
- হাদিসে এসেছে, “নিশ্চয়ই প্রত্যেক জিনিসের একটি হৃদয় আছে, আর কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসিন।” (তিরমিযী)
- মৃত্যুশয্যায় এই সূরা পাঠ করলে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় এবং মৃত্যু সহজ হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।
- মৃত ব্যক্তির জন্য এই সূরা পাঠ করা মাগফিরাত ও শান্তি লাভের একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়।
দৈনন্দিন জীবনে বরকত
- রিজিক (জীবিকা) বৃদ্ধি, বিপদ-আপদ দূরীকরণ, কঠিন সমস্যা সমাধান এবং মনের অস্থিরতা দূর করার জন্য এই সূরা পাঠের বিশেষ উপকারিতার কথা প্রচলিত আছে।
ঈমান ও মানসিক প্রশান্তি
- সূরা ইয়াসিনের গভীর অর্থ অনুধাবন করে পাঠ করলে হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভয় সৃষ্টি হয়, যা ঈমানকে দৃঢ় করে এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
সূরা ইয়াসিন পড়ার নিয়ম
এই সূরার বিশেষ ফজিলত লাভের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলী অনুসরণ করা উত্তম:
- পবিত্রতা: সম্ভব হলে অজু (উযু) অবস্থায় পাঠ করা উচিত।
- দিক: কিবলামুখী হয়ে বসা সুন্নত।
- পাঠ: ধীরে ধীরে, তাজবীদ (সঠিক উচ্চারণ ও মাখরাজ) বজায় রেখে পাঠ করা শ্রেয়।
- মনোযোগ: কেবল পাঠ করা নয়, এর অর্থের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
উপসংহার
সূরা ইয়াসিন শুধু একটি সূরা নয়, এটি একটি জীবনবিধানের সারসংক্ষেপ। এর নিয়মিত পাঠ, বিশেষ করে এর অর্থ বুঝে পাঠ করার মাধ্যমে একজন মুসলিম তার বিশ্বাসকে নবায়ন করতে পারে এবং আল্লাহর রহমত লাভের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সূরার শিক্ষা জীবনে প্রয়োগ করার তাওফিক দান করুন।
সূরা ইয়াসিন সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন কুরআনের কত নম্বর সূরা?
উত্তরঃ সূরা ইয়াসিন কুরআনের ৩৬ নম্বর সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিনে মোট কয়টি আয়াত আছে?
উত্তরঃ সূরা ইয়াসিনে মোট ৮৩টি আয়াত রয়েছে।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিনের অর্থ কী?
উত্তরঃ “ইয়াসিন” শব্দের অর্থ আল্লাহই ভালো জানেন, তবে এটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বিশেষ নাম বলেও ব্যাখ্যা করা হয়।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন কবে নাজিল হয়েছিল?
উত্তরঃ সূরা ইয়াসিন মক্কার প্রাথমিক সময়ে নাজিল হয়েছিল, যখন ইসলাম প্রচারের সূচনা পর্ব চলছিল।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন পাঠের উপকারিতা কী?
উত্তরঃ সূরা ইয়াসিন পাঠে কল্যাণ, রিজিক বৃদ্ধি, দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি এবং পরকালের শান্তি লাভ হয়।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন কখন পড়া উত্তম?
উত্তরঃ ভোরবেলা ফজরের পর অথবা রাতে ঘুমানোর আগে সূরা ইয়াসিন পড়া উত্তম।
প্রশ্নঃ নবী করিম (সা.) সূরা ইয়াসিন সম্পর্কে কী বলেছেন?
উত্তরঃ রাসুল (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক কিছুর একটি হৃদয় আছে, আর কুরআনের হৃদয় হলো সূরা ইয়াসিন।” (তিরমিজি)
প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তির জন্য সূরা ইয়াসিন পড়া যায় কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি ও মাগফিরাতের জন্য সূরা ইয়াসিন পড়া যায়।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন পাঠের সময় কী নিয়ত করতে হয়?
উত্তরঃ নিয়ত করা যায় আল্লাহর সন্তুষ্টি, নিজের কল্যাণ, রোগমুক্তি বা কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন পড়লে কি রিজিক বাড়ে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, আল্লাহর রহমতে নিয়মিত সূরা ইয়াসিন পাঠকারীর রিজিকে বরকত হয়।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন কতবার পড়া উচিত?
উত্তরঃ নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, তবে প্রতিদিন একবার পাঠ করা উত্তম আমল।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন কোন কোন সমস্যায় পড়া যায়?
উত্তরঃ দুঃখ, রোগ, দারিদ্র্য, ভয়, হতাশা বা জীবনের কঠিন সময়ে পড়া যেতে পারে।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিনের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিস কোনগুলো?
উত্তরঃ তিরমিজি ও দারিমির হাদিসে এসেছে “সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে গুনাহ মাফ হয় ও দোয়া কবুল হয়।”
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন পড়লে রোগমুক্তি হয় কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অনেক আলেম বলেছেন রোগাক্রান্ত ব্যক্তির জন্য সূরা ইয়াসিন পড়া বরকতময়।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিনের প্রথম আয়াতে কী বলা হয়েছে?
উত্তরঃ প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে “ইয়াসিন”, এরপর আল্লাহ বলেন, “হে নবী, তুমি অবশ্যই প্রেরিতদের অন্তর্ভুক্ত।”
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিনে কী বিষয় আলোচিত হয়েছে?
উত্তরঃ এতে তাওহিদ, রিসালাত, পরকাল, নেক আমল ও শাস্তির বার্তা আলোচনা করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিনের তাফসির কোথায় পড়া যায়?
উত্তরঃ ইসলামী বই, অনলাইন কুরআন অ্যাপ বা তাফসির ইবনে কাসিরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন শুনলে কি সওয়াব হয়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, মনোযোগ দিয়ে সূরা ইয়াসিন শুনলেও পাঠের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন কোন পরিস্থিতিতে বেশি পড়া উচিত?
উত্তরঃ বিপদে, অসুস্থ অবস্থায়, নতুন কাজ শুরু করার আগে এবং মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির জন্য।
প্রশ্নঃ সূরা ইয়াসিন পাঠের আগে কী বলা উচিত?
উত্তরঃ “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বলে নিয়ত করে পাঠ শুরু করা উচিত।
কুরআনের অন্যান্য সূরা ও ফজিলত সম্পর্কে জানুন
- আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ পূর্ণ ব্যাখ্যা
- সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ কুরআনের বরকতময় রাতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা আসর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, তাফসির ও ফজিলতসহ পূর্ণাঙ্গ গাইড
- সূরা কাওসার বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা
- সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা
- সূরা মুলক বাংলা, আরবি উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা কাফিরুন বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা ফাতেহা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ: ফজিলত, গুরুত্ব ও সম্পূর্ণ গাইড
- সূরা লাহাব বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
- সূরা আর রহমান বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত তাফসির: আল্লাহর অসীম দয়ার ঘোষণা
- সূরা মূলক-এর ফজিলত, গুরুত্ব, হাদিস ও উপকারিতা: সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- সূরা ইখলাস বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ: ফজিলত, ব্যাখ্যা ও সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- সূরা বাকারার ফজিলত: কুরআনের দীর্ঘতম সূরার অসংখ্য বরকত ও উপকারিতা








