শীতের আগমন মানেই হিমেল হাওয়া, উৎসবের আমেজ আর তার সঙ্গে আসে ত্বক ও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা। এই সময়ে আমাদের ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে ফেলে, যার ফলে ত্বক ফেটে যায় এবং ঠোঁট হয়ে ওঠে রুক্ষ ও শুষ্ক। সময়মতো সঠিক যত্ন না নিলে এই শুষ্কতা থেকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া এমনকি সংক্রমণও হতে পারে।
শীতকালে ত্বক ও ঠোঁট কেন বেশি শুষ্ক হয় তা বুঝতে পারলে সঠিক প্রতিরোধ নেওয়া সহজ হয়। শীতের বাতাস, কম আর্দ্রতা, এবং গরম পানি দিয়ে গোসল করার প্রবণতা এগুলোই মূলত আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (Sebum) ও আর্দ্রতা শুষে নেয়। বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকার কারণে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক ও প্রাণহীন দেখায়।
এই আর্টিকেলে আমরা শীতকালে ত্বক ফাটা ও ঠোঁট শুষ্কতা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে একটি সম্পূর্ণ গাইড তুলে ধরব। এখানে সঠিক ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন থেকে শুরু করে ঘরোয়া টোটকা এবং বিশেষ যত্নের সব তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে আপনি শীতেও পেতে পারেন নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর ত্বক।
শীতে ত্বক ফাটার প্রধান কারণ
শীতকালে ত্বক ফাটার জন্য পরিবেশগত ও ব্যক্তিগত কিছু কারণ দায়ী। এই কারণগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি সহজেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
কম আর্দ্রতা ও ঠান্ডা বাতাসের প্রভাব
শীতকালে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক কম থাকে, অর্থাৎ আর্দ্রতা কম থাকে। ঠান্ডা বাতাস যখন ত্বকের ওপর দিয়ে বয়ে যায়, তখন এটি ত্বকের উপরিভাগের আর্দ্রতাকে টেনে নেয়। ফলে ত্বক পানিশূন্য হয়ে ওঠে এবং শুষ্কতার কারণে ফাটতে শুরু করে।
গরম পানি ব্যবহার ও ঘন ঘন গোসল
শীতকালে আরাম পেতে আমরা অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে গরম পানি দিয়ে গোসল করি। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতার স্তরকে ধুয়ে ফেলে। এই প্রাকৃতিক তেল ত্বককে সুরক্ষা দেয়। এই তেল নষ্ট হলে ত্বক আরও দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায় এবং ফাটতে শুরু করে।
সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করা
অনেকেই শীতে এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন যা যথেষ্ট ঘন (Heavy) নয়। হালকা লোশন শুষ্ক ত্বকের জন্য যথেষ্ট আর্দ্রতা সরবরাহ করতে পারে না। ফলে আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে ত্বক ফেটে যায়। শীতে এমন ময়েশ্চারাইজার দরকার যা ত্বকে একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে।
বয়স, ডিহাইড্রেশন ও অপর্যাপ্ত যত্ন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের তেল উৎপাদনের ক্ষমতা কমতে থাকে। এছাড়া, শীতকালে কম তৃষ্ণা পাওয়ায় অনেকে পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, ফলে শরীর ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতায় ভোগে। ডিহাইড্রেশনও ত্বককে শুষ্ক করে তোলে। পাশাপাশি, যদি নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার ও ময়েশ্চারাইজিং করা না হয়, তবে শুষ্কতা আরও বাড়ে।
ঠোঁট শুষ্কতা ও ফাটার কারণ
ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা এবং ঠোঁটে কোনো তেল গ্রন্থি (Oil Glands) নেই। তাই ঠোঁট দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়।
ঠোঁট বারবার চাটা
ঠোঁট শুষ্ক মনে হলে অনেকে অজান্তে বা অভ্যাসবশত ঠোঁট বারবার জিভ দিয়ে চাটেন। প্রথমে সাময়িক আরাম অনুভূত হলেও লালা বা থুতু দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যাওয়ার সময় ঠোঁটের অবশিষ্ট আর্দ্রতাও টেনে নেয়। ফলে ঠোঁট আরও বেশি শুষ্ক ও ফাটা দেখায়।
শীতের শুকনো বাতাস
ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস সরাসরি ঠোঁটের ওপর আঘাত করে, যা ঠোঁটের পাতলা উপরিভাগকে দ্রুত শুষ্ক করে তোলে। বাতাস ঠোঁটের আর্দ্রতা শুষে নেওয়ার ফলে ঠোঁটে টানটান ভাব আসে এবং ফাটল দেখা দেয়।
পানির ঘাটতি
শরীরে পানীয় জলের পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকলে ঠোঁট দ্রুত ফাটে। পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের প্রথম লক্ষণগুলোর মধ্যে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া অন্যতম।
নিম্নমানের লিপস্টিক বা কেমিক্যালযুক্ত পণ্য
কিছু লিপস্টিক বা ঠোঁটের পণ্যে অ্যালকোহল, মেন্থল বা ক্যান্ফর-এর মতো উপাদান থাকে যা ঠোঁটকে আরও শুষ্ক করে তোলে। এছাড়া, নিম্নমানের কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহারের ফলেও ঠোঁট শুষ্ক হতে পারে।
শীতে ত্বক ফাটা প্রতিরোধের উপায়
ত্বক ফাটা থেকে রক্ষা পেতে চাই একটি সুচিন্তিত ও ধারাবাহিক পরিচর্যা রুটিন।
সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন
শীতকালে এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন যা ঘন এবং ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে পারে। শিয়া বাটার (Shea Butter), সিরামাইড (Ceramide) এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড (Hyaluronic Acid) যুক্ত ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং সিরামাইড ত্বকের সুরক্ষার স্তর মেরামত করতে সাহায্য করে।
ত্বক পরিষ্কার ও ময়েশ্চারাইজিং রুটিন
ত্বক পরিষ্কার করার জন্য সালফেটমুক্ত (Sulfate-free) হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করুন। গোসলের পর বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই (তিন মিনিটের মধ্যে) ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সবচেয়ে কার্যকর।
গরম পানির বদলে হালকা গরম পানি ব্যবহার
অতিরিক্ত গরম পানির পরিবর্তে হালকা গরম পানি বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। গোসলের সময় সংক্ষিপ্ত রাখুন (১০ মিনিটের কম)। গোসল শেষে তোয়ালে দিয়ে ত্বক ঘষে না মুছে আলতো করে চেপে চেপে মুছুন।
আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার
ঘরের ভেতরের বাতাস যদি খুব শুষ্ক হয়, তবে একটি হিউমিডিফায়ার (Humidifier) ব্যবহার করুন। হিউমিডিফায়ার ঘরের বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
পর্যাপ্ত পানি পান ও হাইড্রেশন বজায় রাখা
শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্কের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এছাড়া ডাবের পানি, তাজা ফলের রসও পান করতে পারেন।
সানস্ক্রিন ব্যবহার (শীতেও প্রয়োজন)
অনেকে মনে করেন শীতে সানস্ক্রিন দরকার নেই। কিন্তু শীতকালেও সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV Rays) ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। বাইরে বেরোনোর ১৫ মিনিট আগে এসপিএফ (SPF) ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
খুব বেশি স্ক্রাবিং এড়িয়ে চলা
শুষ্ক ত্বককে খুব বেশি স্ক্রাব করা উচিত নয়। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তরকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। সপ্তাহে একবার মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
ঠোঁট শুষ্কতা প্রতিরোধের উপায়
ঠোঁটের নরম ভাব ধরে রাখতেও প্রয়োজন বিশেষ যত্ন।
ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার
শীতকালে ঠোঁটের যত্নে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি খুবই কার্যকর। এটি ঠোঁটে একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে এবং ঠোঁটের ভেতরের আর্দ্রতাকে বাষ্পীভূত হতে বাধা দেয়। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে পুরু করে লাগান।
লিপ বাম বেছে নেওয়ার টিপস
এমন লিপ বাম ব্যবহার করুন যাতে প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। বিসওয়্যাক্স (Beeswax), শিয়া বাটার (Shea Butter), ভিটামিন ই (Vitamin E) বা নারকেল তেল যুক্ত লিপ বাম ঠোঁটকে গভীর থেকে ময়েশ্চারাইজ করে।
রাতে লিপ কেয়ার রুটিন
রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে মধু-চিনি দিয়ে হালকা স্ক্রাব করে নিন (যদি ঠোঁট ফাটা না থাকে)। এরপর ভালো মানের একটি লিপ বাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি পুরু করে লাগিয়ে ঘুমান। রাতে ঠোঁটের কোষ মেরামত হয়, তাই এই সময় যত্ন নেওয়া জরুরি।
ঠোঁট চাটার অভ্যাস বন্ধ করুন
ঠোঁট শুষ্ক মনে হলে বারবার জিভ দিয়ে চাটার অভ্যাস পুরোপুরি বন্ধ করুন। এর পরিবর্তে একটি ভালো লিপ বাম সঙ্গে রাখুন এবং যখনই শুষ্ক মনে হবে তখনই তা ব্যবহার করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করে হাইড্রেটেড থাকুন
শরীরের সামগ্রিক হাইড্রেশন ঠোঁটের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করুন।
স্পাইসি ও অতিরিক্ত নোনতা খাবার কম খান
অতিরিক্ত মসলাযুক্ত বা নোনতা খাবার ঠোঁটকে শুষ্ক করে তুলতে পারে এবং জ্বালা বাড়াতে পারে। তাই শীতে এই ধরনের খাবার কিছুটা কম খান।
শীতে মুখ ও হাতের ত্বকের আলাদা যত্ন
মুখ ও হাতের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি উন্মুক্ত থাকে, তাই তাদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি মনোযোগ।
মুখের জন্য আলাদা ফেস ক্রিম ব্যবহার
মুখের ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় শরীরের ময়েশ্চারাইজার মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়। মুখের জন্য বিশেষভাবে তৈরি, অ-কমেডোজেনিক (Non-comedogenic) ও হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ফেস ক্রিম ব্যবহার করুন।
হাতের ত্বকের জন্য হ্যান্ড ক্রিম রুটিন
হাত ঘন ঘন ধোয়ার কারণে হাতের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই প্রতিবার হাত ধোয়ার পর ঘন ক্রিম বা হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করুন। শিয়া বাটার বা গ্লিসারিন যুক্ত ক্রিম বেছে নিন।
গ্লাভস ব্যবহার করার গুরুত্ব
ঠান্ডা বাতাস থেকে ত্বককে বাঁচাতে বাইরে বেরোনোর সময় হাতে উলের বা চামড়ার গ্লাভস ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করবে এবং ফাটল রোধ করবে।
ঘরোয়া উপায়ে ত্বক ও ঠোঁটকে নরম রাখার কৌশল
প্রকৃতির কিছু উপাদান ব্যবহার করে ত্বক ও ঠোঁটকে নরম রাখা সম্ভব।
নারকেল তেল ও অলিভ অয়েল ম্যাসাজ
শুষ্ক ত্বকে নিয়মিত নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে ম্যাসাজ করুন। এই তেলগুলি ত্বকের গভীরে গিয়ে ময়েশ্চারাইজ করে এবং সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে। গোসলের কিছুক্ষণ আগে ম্যাসাজ করলে উপকার পাওয়া যায়।
মধু ও দইয়ের ময়েশ্চারাইজিং প্যাক
এক চামচ মধু ও এক চামচ দই মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার এবং দই ত্বককে নরম করে।
মধু-চিনি লিপ স্ক্রাব রেসিপি
এক চামচ চিনি এবং আধা চামচ মধু মিশিয়ে আলতো করে ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন। এটি ঠোঁটের মৃত কোষ দূর করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এরপর ধুয়ে লিপ বাম ব্যবহার করুন।
গ্লিসারিন-গোলাপজল মিশ্রণ ব্যবহার
সমপরিমাণ গ্লিসারিন এবং গোলাপজল মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক ফাটা জায়গায় ব্যবহার করুন। এটি একটি অসাধারণ ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে এবং ত্বককে নরম রাখে।
যার ত্বক খুব সংবেদনশীল, তারা কী করবেন?
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
সুগন্ধি-মুক্ত পণ্য ব্যবহার
সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধি বা ফ্র্যাগরেন্স (Fragrance)যুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই সবসময় সুগন্ধি-মুক্ত (Fragrance-free) এবং অ্যালকোহলমুক্ত পণ্য ব্যবহার করুন।
ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়ার সময়
যদি ত্বক অতিরিক্ত ফাটতে থাকে, চুলকানি বা লালচে ভাব সহজে না কমে, ত্বক থেকে রক্তপাত হয়, তবে দ্রুত একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
সোরিয়াসিস/ডার্মাটাইটিস থাকলে শীতে কী করণীয়
যদি সোরিয়াসিস বা ডার্মাটাইটিসের মতো চর্মরোগ থাকে, তবে শীতে রোগটি বেড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ ওষুধযুক্ত ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন এবং অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুন।
শীতকালে ত্বক ফাটা ও ঠোঁট শুষ্কতা নিয়ে সাধারণ ভুলগুলো
কিছু সাধারণ ভুল আছে যা আমরা অজান্তে করে থাকি, যা সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।
গরম পানি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ গোসল করা
গরম পানি আরাম দিলেও, দীর্ঘক্ষণ গোসল করলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়, যা শুষ্কতাকে বাড়িয়ে দেয়।
লিপস্টিক ব্যবহার করে ফাটা ঠোঁট ঢাকার চেষ্টা
ঠোঁট ফাটা থাকা অবস্থায় শুধুমাত্র লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটের ফাটলগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে। আগে লিপ বাম ব্যবহার করে ঠোঁটকে মসৃণ করুন, তারপর লিপস্টিক লাগান।
প্রচুর স্ক্রাবিং করে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত করা
শুষ্ক ত্বককে মসৃণ করার জন্য বেশি স্ক্রাবিং করলে ত্বকের পাতলা সুরক্ষামূলক স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ত্বক আরও সংবেদনশীল ও শুষ্ক হয়ে ওঠে।
শীতকালে ত্বক ফাটা ও ঠোঁট শুষ্কতা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সঠিক জ্ঞান ও নিয়মতান্ত্রিক যত্নের মাধ্যমে তা সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। আপনার ত্বককে সুরক্ষা দিতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন, গরম পানি এড়িয়ে চলুন এবং রাতে একটি নিয়মিত পরিচর্যা রুটিন মেনে চলুন। ঘরোয়া উপাদান যেমন নারকেল তেল ও মধুও আপনার শীতকালীন যত্নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এই সহজ নিয়মগুলি মেনে চললে শীতেও আপনার ত্বক থাকবে নরম, মসৃণ এবং প্রাণবন্ত।
শীতে ত্বক ও ঠোঁটের যত্ন সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: শীতে ত্বক শুষ্ক হয় কেন?
উত্তর: শীতকালে বায়ুতে আর্দ্রতা কম থাকে এবং ঠান্ডা বাতাস ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত টেনে নেয়, ফলে ত্বক শুষ্ক হয়।
প্রশ্ন: ত্বক ফাটা কমাতে কোন ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত?
উত্তর: ত্বক ফাটা কমাতে শিয়া বাটার, সিরামাইড এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যুক্ত ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
প্রশ্ন: গোসলের কতক্ষণ পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই (সাধারণত ৩ মিনিটের মধ্যে) ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (Sebum) ও আর্দ্রতার স্তরকে ধুয়ে ফেলে, ফলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও ফাটা হয়।
প্রশ্ন: ঠোঁট বারবার চাটা কি ক্ষতিকর?
উত্তর: হ্যাঁ, ঠোঁট বারবার চাটা ক্ষতিকর। লালা বাষ্পীভূত হওয়ার সময় ঠোঁটের অবশিষ্ট আর্দ্রতাও টেনে নেয়, ফলে ঠোঁট আরও বেশি শুষ্ক হয়।
প্রশ্ন: ঠোঁট ফাটা কমাতে রাতে কী ব্যবহার করা উচিত?
উত্তর: ঠোঁট ফাটা কমাতে রাতে ঘুমানোর আগে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি পুরু করে লাগিয়ে রাখা উচিত।
প্রশ্ন: শীতকালে কি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, শীতকালেও সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV Rays) ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তাই এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
প্রশ্ন: ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা কি ত্বকের শুষ্কতা বাড়ায়?
উত্তর: হ্যাঁ, ডিহাইড্রেশন বা শরীরের পানির ঘাটতি ত্বককে পানিশূন্য করে তোলে, যা ত্বকের শুষ্কতা বাড়ায়।
প্রশ্ন: ঘরোয়া উপায়ে ত্বক নরম রাখার জন্য কী ব্যবহার করা যেতে পারে?
উত্তর: ত্বক নরম রাখার জন্য নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও দইয়ের মিশ্রণ বা গ্লিসারিন-গোলাপজল মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রশ্ন: ঠোঁটের জন্য কোন ধরনের লিপ বাম সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: বিসওয়্যাক্স, শিয়া বাটার, ভিটামিন ই বা প্রাকৃতিক তেল যুক্ত লিপ বাম ঠোঁটের জন্য সবচেয়ে ভালো।
প্রশ্ন: শীতে ত্বক স্ক্রাবিং করা কি ভালো?
উত্তর: শীতে খুব বেশি স্ক্রাবিং করা উচিত নয়। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের সুরক্ষার স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করে। সপ্তাহে একবার মৃদু স্ক্রাব যথেষ্ট।
প্রশ্ন: ঘরের ভেতরের শুষ্ক বাতাস কমাতে কী ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: ঘরের ভেতরের শুষ্ক বাতাস কমাতে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার (Humidifier) ব্যবহার করা যায়।
প্রশ্ন: ঠোঁট ফাটা থাকলে কি মধু-চিনি স্ক্রাব ব্যবহার করা উচিত?
উত্তর: ঠোঁট বেশি ফাটা বা ক্ষত থাকলে মধু-চিনি স্ক্রাব এড়িয়ে চলা উচিত। ক্ষত সেরে গেলে মৃদুভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রশ্ন: শীতকালে কি হাতের জন্য আলাদা ক্রিম ব্যবহার করা উচিত?
উত্তর: হ্যাঁ, হাত ঘন ঘন ধোয়ার কারণে হাতের ত্বকের জন্য শিয়া বাটার বা গ্লিসারিন যুক্ত ঘন হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করা উচিত।
প্রশ্ন: শুষ্ক ত্বকে কি সুগন্ধিযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা উচিত?
উত্তর: সংবেদনশীল ও শুষ্ক ত্বকের জন্য সুগন্ধি-মুক্ত (Fragrance-free) এবং অ্যালকোহলমুক্ত পণ্য ব্যবহার করা উচিত।
প্রশ্ন: শীতকালে দিনে কতটুকু পানি পান করা জরুরি?
উত্তর: শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা জরুরি।
প্রশ্ন: লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটের যত্ন কীভাবে নেব?
উত্তর: লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে ভালো মানের লিপ বাম ব্যবহার করে ঠোঁটকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজ করা উচিত।
প্রশ্ন: ত্বক ফাটা থেকে রক্তপাত হলে কী করা উচিত?
উত্তর: ত্বক ফাটা থেকে রক্তপাত হলে দ্রুত একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন: কোন কোন উপাদানযুক্ত লিপস্টিক ঠোঁট শুষ্ক করে তোলে?
উত্তর: অ্যালকোহল, মেন্থল বা ক্যান্ফর-এর মতো উপাদানযুক্ত লিপস্টিক ঠোঁটকে আরও শুষ্ক করে তুলতে পারে।
প্রশ্ন: শীতকালে ত্বককে ঠান্ডা বাতাস থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায়?
উত্তর: ত্বককে ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা করতে বাইরে বেরোনোর সময় মুখ ও হাতে স্কার্ফ বা গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত।








