পবিত্র কুরআনুল কারীমের এক অসাধারণ সাহিত্যিক ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যমণ্ডিত সূরা হলো সূরা আর রহমান। এই সূরাটি মূলত আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামতসমূহের প্রতি মানব ও জিন জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং বারবার প্রশ্ন করে “তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?” এই প্রবন্ধে সূরা আর রহমান বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত তাফসির এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সেই অসীম দয়া ও মহিমা অনুধাবন করার চেষ্টা করব।
সূরা আর রহমান পরিচিতি ও তাৎপর্য
সূরা আর রহমান এমন এক সূরা, যা তার পাঠককে আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতায় নত করে দেয়।
সূরার নামকরণ ও মৌলিক তথ্য
- নামকরণ: সূরার শুরুতেই আল্লাহর অন্যতম সুন্দর নাম ‘আর রহমান’ (পরম দয়ালু) উল্লেখ করা হয়েছে। এই নামকরণের মাধ্যমে সূরাটির মূল বিষয়বস্তু অর্থাৎ আল্লাহর সীমাহীন দয়া ও করুণা কে তুলে ধরা হয়েছে।
- ক্রম ও সংখ্যা: পবিত্র কুরআনে এটি ৫৫তম সূরা। এতে মোট ৭৮টি আয়াত রয়েছে।
- অবতরণের স্থান: অধিকাংশ আলেমের মতে, এটি মাক্কী সূরা অর্থাৎ মক্কায় হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে।
বারবার পুনরাবৃত্ত আয়াতের গুরুত্ব
এই সূরার সবচেয়ে বিশেষত্ব হলো একটি আয়াতের পুনরাবৃত্তি:
“ফাবি আইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবা-ন”
(অর্থাৎ: তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?)
- পুনরাবৃত্তি: এই আয়াতটি সূরাটিতে মোট ৩১ বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
- তাৎপর্য: এই পুনরাবৃত্তি সূরার সাহিত্যিক সৌন্দর্যকে যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি এটি মানব ও জিন জাতির মনোযোগ আকর্ষণের জন্য একটি জোরালো অলঙ্কারপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে কাজ করে। এটি আল্লাহর প্রতিটি নেয়ামতের গুরুত্বকে বারবার স্মরণে এনে বান্দাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে উৎসাহিত করে।
সূরার মূল বিষয়বস্তু
এই সূরার মূল বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর সৃষ্টিগত ও বিধানগত নেয়ামতসমূহকে তুলে ধরে মানব ও জিন জাতিকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা। সূরার বর্ণনাগুলো তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
১. আল্লাহর সৃষ্টি ও জ্ঞানগত নেয়ামত (কুরআন, সৃষ্টি, প্রকৃতি)।
২. দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ীত্ব ও কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা।
৩. পরকালে মুত্তাকী ও অবিশ্বাসীদের পুরস্কার ও শাস্তির বর্ণনা।
সূরা আর রহমান বাংলা, আরবি উচ্চারণ ও সহজ অর্থ
সূরা আর রহমান আরবি উচ্চারণ (sura ar rahman arbi uchcharon)
اَلرَّحۡمٰنُ ۙ ١ عَلَّمَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ ٢ خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ ۙ ٣ عَلَّمَہُ الۡبَیَانَ ٤ اَلشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ بِحُسۡبَانٍ ۪ ٥ وَّالنَّجۡمُ وَالشَّجَرُ یَسۡجُدٰنِ ٦ وَالسَّمَآءَ رَفَعَہَا وَوَضَعَ الۡمِیۡزَانَ ۙ ٧ اَلَّا تَطۡغَوۡا فِی الۡمِیۡزَانِ ٨ وَاَقِیۡمُوا الۡوَزۡنَ بِالۡقِسۡطِ وَلَا تُخۡسِرُوا الۡمِیۡزَانَ ٩ وَالۡاَرۡضَ وَضَعَہَا لِلۡاَنَامِ ۙ ١۰ فِیۡہَا فَاکِہَۃٌ ۪ۙ وَّالنَّخۡلُ ذَاتُ الۡاَکۡمَامِ ۖ ١١ وَالۡحَبُّ ذُو الۡعَصۡفِ وَالرَّیۡحَانُ ۚ ١٢ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ١٣ خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ صَلۡصَالٍ کَالۡفَخَّارِ ۙ ١٤ وَخَلَقَ الۡجَآنَّ مِنۡ مَّارِجٍ مِّنۡ نَّارٍ ۚ ١٥ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ١٦ رَبُّ الۡمَشۡرِقَیۡنِ وَرَبُّ الۡمَغۡرِبَیۡنِ ۚ ١٧ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ١٨ مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ یَلۡتَقِیٰنِ ۙ ١٩ بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخٌ لَّا یَبۡغِیٰنِ ۚ ٢
۰ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٢١ یَخۡرُجُ مِنۡہُمَا اللُّؤۡلُؤُ وَالۡمَرۡجَانُ ۚ ٢٢ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٢٣ وَلَہُ الۡجَوَارِ الۡمُنۡشَئٰتُ فِی الۡبَحۡرِ کَالۡاَعۡلَامِ ۚ ٢٤ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٪ ٢٥ کُلُّ مَنۡ عَلَیۡہَا فَانٍ ۚۖ ٢٦ وَّیَبۡقٰی وَجۡہُ رَبِّکَ ذُو الۡجَلٰلِ وَالۡاِکۡرَامِ ۚ ٢٧ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٢٨ یَسۡـَٔلُہٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ کُلَّ یَوۡمٍ ہُوَ فِیۡ شَاۡنٍ ۚ ٢٩ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣۰ سَنَفۡرُغُ لَکُمۡ اَیُّہَ الثَّقَلٰنِ ۚ ٣١ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣٢ یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ اِنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ اَنۡ تَنۡفُذُوۡا مِنۡ اَقۡطَارِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ فَانۡفُذُوۡا ؕ لَا تَنۡفُذُوۡنَ اِلَّا بِسُلۡطٰنٍ ۚ ٣٣ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣٤ یُرۡسَلُ عَلَیۡکُمَا شُوَاظٌ مِّنۡ نَّارٍ ۬ۙ وَّنُحَاسٌ فَلَا تَنۡتَصِرٰنِ ۚ ٣٥ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣٦ فَاِذَا انۡشَقَّتِ السَّمَآءُ فَکَانَتۡ وَرۡدَۃً کَالدِّہَانِ ۚ ٣٧ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣٨ فَیَوۡمَئِذٍ لَّا یُسۡـَٔلُ عَنۡ ذَنۡۢبِہٖۤ اِنۡسٌ وَّلَا جَآنٌّ ۚ ٣٩ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٤
۰ یُعۡرَفُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ بِسِیۡمٰہُمۡ فَیُؤۡخَذُ بِالنَّوَاصِیۡ وَالۡاَقۡدَامِ ۚ ٤١ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٤٢ ہٰذِہٖ جَہَنَّمُ الَّتِیۡ یُکَذِّبُ بِہَا الۡمُجۡرِمُوۡنَ ۘ ٤٣ یَطُوۡفُوۡنَ بَیۡنَہَا وَبَیۡنَ حَمِیۡمٍ اٰنٍ ۚ ٤٤ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٪ ٤٥ وَلِمَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّہٖ جَنَّتٰنِ ۚ ٤٦ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۙ ٤٧ ذَوَاتَاۤ اَفۡنَانٍ ۚ ٤٨ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٤٩ فِیۡہِمَا عَیۡنٰنِ تَجۡرِیٰنِ ۚ ٥۰ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٥١ فِیۡہِمَا مِنۡ کُلِّ فَاکِہَۃٍ زَوۡجٰنِ ۚ ٥٢ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٥٣ مُتَّکِـِٕیۡنَ عَلٰی فُرُشٍۭ بَطَآئِنُہَا مِنۡ اِسۡتَبۡرَقٍ ؕ وَجَنَا الۡجَنَّتَیۡنِ دَانٍ ۚ ٥٤ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٥٥ فِیۡہِنَّ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ ۙ لَمۡ یَطۡمِثۡہُنَّ اِنۡسٌ قَبۡلَہُمۡ وَلَا جَآنٌّ ۚ ٥٦ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٥٧ کَاَنَّہُنَّ الۡیَاقُوۡتُ وَالۡمَرۡجَانُ ۚ ٥٨ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٥٩
ہَلۡ جَزَآءُ الۡاِحۡسَانِ اِلَّا الۡاِحۡسَانُ ۚ ٦۰ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٦١ وَمِنۡ دُوۡنِہِمَا جَنَّتٰنِ ۚ ٦٢ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۙ ٦٣ مُدۡہَآمَّتٰنِ ۚ ٦٤ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٦٥ فِیۡہِمَا عَیۡنٰنِ نَضَّاخَتٰنِ ۚ ٦٦ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٦٧ فِیۡہِمَا فَاکِہَۃٌ وَّنَخۡلٌ وَّرُمَّانٌ ۚ ٦٨ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٦٩ فِیۡہِنَّ خَیۡرٰتٌ حِسَانٌ ۚ ٧۰ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٧١ حُوۡرٌ مَّقۡصُوۡرٰتٌ فِی الۡخِیَامِ ۚ ٧٢ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٧٣ لَمۡ یَطۡمِثۡہُنَّ اِنۡسٌ قَبۡلَہُمۡ وَلَا جَآنٌّ ۚ ٧٤ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٧٥ مُتَّکِـِٕیۡنَ عَلٰی رَفۡرَفٍ خُضۡرٍ وَّعَبۡقَرِیٍّ حِسَانٍ ۚ ٧٦ فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٧٧ تَبٰرَکَ اسۡمُ رَبِّکَ ذِی الۡجَلٰلِ وَالۡاِکۡرَامِ ٪ ٧٨
সূরা আর রহমান বাংলা উচ্চারণ (sura ar rahman bangla uchcharon)
১. আর-রাহমা-ন।
২.‘আল্লা-মাল কোরআন।
৩. খালাকাল ইনছা-ন।
৪.‘আল্লামাহুল বায়া-ন।
৫.আশ-শামছু-ওয়াল-কামারু বিহুছবান।
৬.ওয়ান্নাজমু-ওয়াশ-শাযারু ইয়াছজুদা-ন।
৭. ওয়াছ ছামাআ রাফা‘আহা-ওয়া ওয়াদা‘আল মীঝা-ন।
৮. আল্লা-তাতাগাও ফিল মিজা-ন।
৯. ওয়া আকিমুল ওয়াজনা বিলকিছতি-ওয়ালা-তুখছিরুল মিজা-ন।
১০. ওয়াল আরদা ওয়া দা‘আহা-লিল-আনা-ম।
১১. ফিহা-ফা-কিহাতুওঁ ওয়ান্নাখলু-যা-তুল আকমা-ম।
১২. ওয়াল হাব্বুযুল‘আসফি ওয়াররাইহা-ন।
১৩. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা-তুকাজজিবা-ন।
১৪. খালাকাল ইনছা-না মিন সালসা-লিন কাল ফাখখা-র।
১৫. ওয়া খালাকাল জান্না মিম্মা-রিজিমমিন্না-র।
১৬. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
১৭. রাব্বুল মাশরিকাইনি ওয়া রাব্বুল মাগরিবাইন।
১৮.ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন।
১৯. মারাজাল বাহরাইনি ইয়ালতাকিয়া-ন।
২০.বাইনাহুমা-বারঝাখুল লা-ইয়াবগিয়া-ন।
২১.ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
২২. ইয়াখরুজুমিনহুমাল লু’লুউ ওয়াল মার যা-ন।
২৩.ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
২৪. ওয়ালাহুল যাওয়া-রিল মুনশাআ-তুফিল বাহরি কালআ‘লা-ম।
২৫ ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
২৬. কুল্লুমান ‘আলাইহা-ফা-নি।
২৭. ওয়া-ইয়াব-কা-ওয়াজহু রাব্বিকা জুল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।
২৮.ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
২৯. ইয়াছ-আলুহুমান ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কুল্লা ইয়াওমিন হুওয়া ফি শা’ন।
৩০. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৩১. ছানাফরুগু লাকুম আইয়ুহাছছাকালা-ন।
৩২. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৩৩. ইয়া-মা‘শারাল জিন্নি ওয়াল ইনছি ইনিছতাতা‘তুম আন তানফুজুমিন আকতা-রিছ ছামাওয়া-তি ওয়াল আরদিফানফুজু লা-তানফুজুনা ইল্লা-বিছুলতা-ন।
৩৪.ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৩৫.ইউরছালু‘আলাইকুমা-শুওয়া-জু ম মিন্না-রিওঁ ওয়া নুহা-ছুন ফালা-তানতাসিরা-ন।
৩৬. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন।
৩৭. ফাইজান শাককাতিছ ছামাউ ফাকা-নাত ওয়ারদাতান কাদ্দিহা-ন।
৩৮. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৩৯. ফাইয়াওমা ইযিল্লা-ইউছআলু‘আন যামবিহি ইনছুওঁ ওয়ালা-যান।
৪০. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৪১.ইউ‘রাফুল মুজরিমুনা বিছিমা-হুম ফাইউ’খাজুবিন্নাওয়া-ছি ওয়াল আকদা-ম।
৪২. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৪৩. হা-জিহি জাহান্নামুল্লাতী ইউকাজজি বুবিহাল মুজরিমুন।
৪৪. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৪৫. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৪৬.ওয়া লিমান খা-ফা মাকা-মা রাব্বিহি জান্নাতা-ন।
৪৭. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৪৮. যাওয়া-তা আফনা-ন।
৪৯. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৫০. ফিহিমা-‘আইনা-নি তাজরিয়া-ন।
৫১. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৫২. ফিহিমা-মিন কুল্লি ফা-কিহাতিন জাওযা-ন।
৫৩.ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৫৪. মুত্তাকিঈনা ‘আলা-ফুরুশিম বাতাইনুহা-মিন ইছতাবরাকিও ওয়া জানাল জান্নাতাইনি দা-ন।
৫৫. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৫৬. ফিহিন্না কা-সিরা-তুত্তারফি লাম ইয়াতমিছহুন্না ইনছুন কাবলাহুম ওয়ালা-যান।
৫৭.ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৫৮. কাআন্নাহুন্নাল ইয়া‘কুতুওয়াল মারজান-ন।
৫৯. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৬০. হাল জাঝাউল ইহছা-নি ইল্লাল ইহছা-ন।
৬১. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৬২. ওয়া মিন দুনিহিমা-জান্নাতা-ন।
৬৩. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৬৪.মুদ হুমমাতা-ন।
৬৫. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৬৬. ফিহিমা-‘আইনা-নি নাদ্দাখাতা-ন।
৬৭. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৬৮. ফিহিমা-ফা-কিহাতুওঁ ওয়া নাখলুওঁ ওয়ারুম্মা-ন।
৬৯. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৭০. ফিহিন্না খাইরা-তুন হিছা-ন।
৭১. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৭২. হুরুমমাকসুরা-তুন ফিল খিয়া-ম।
৭৩. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৭৪. লাম ইয়াতমিছ-হুন্না ইনছুন কাবলা-হুম ওয়ালা-যান।
৭৫. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন ।
৭৬. মুত্তাকিঈনা ‘আলা-রাফরাফিন খুদরিওঁ ওয়া ‘আবকারিইয়িন হিছা-ন।
৭৭. ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাজজিবা-ন।
৭৮. তাবা-রাকাছমুরাব্বিকা যিল যালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।
সূরা আর রহমান বাংলা অর্থ (sura ar rahman bangla ortho)
১. করুনাময় আল্লাহ।
২.শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।
৩. সৃষ্টি করেছেন মানুষ।
৪. তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা।
৫. সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমতো চলে।
৬. এবং তৃণলতা ও বৃক্ষাদি সেজদারত আছে।
৭. তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন তুলাদণ্ড।
৮. যাতে তোমরা সিমালংঘন না কর তুলাদণ্ডে।
৯. তোমরা ন্যায্য ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিয়ো না।
১০. তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্টজীবের জন্যে।
১১. এতে আছে ফলমুল এবং বহিরাবরণবিশিষ্ট খেজুর বৃক্ষ।
১২. আর আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল।
১৩. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?
১৪. তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে।
১৫. এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে।
১৬.অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোনো কোনো অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
১৭. তিনি দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের মালিক।
১৮. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোনো কোনো অবদানকে অস্বীকার করবে?
১৯.তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন।
২০.উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না।
২১. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
২২. উভয় দরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় মোতি ও প্রবাল।
২৩. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
২৪.দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য যাহাজসমুহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রণাধীন)
২৫. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
২৬.ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংসশীল।
২৭.একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।
২৮. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
২৯. নভোমন্ডল ও ভূমণ্ডলের সবাই তাঁর কাছে প্রার্থী। তিনি সর্বদাই কোনো না কোনো কাজে আছেন
৩০. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৩১. হে জিন ও মানব! আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্য কর্মমুক্ত হয়ে যাব।
৩২. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৩৩. হে জিন ও মানবকুল, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতিত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।
৩৪. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৩৫. ছাড়া হবে তোমাদের প্রতি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও ধূম্রকুঞ্জ তখন তোমরা সেসব প্রতিহত করতে পারবে না।
৩৬. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৩৭. যেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে তখন সেটি রক্তবর্ণে রঞ্জিত চামড়ার মত হয়ে যাবে।
৩৮. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৩৯.সেদিন মানুষ না তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, না জিন।
৪০ অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৪১. অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা থেকে; অতঃপর তাদের কপালের চুল ও পা ধরে টেনে নেওয়া হবে।
৪২. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৪৩. এটাই যাহান্নাম, যাকে অপরাধীরা মিথ্যা বলত।
৪৪. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৪৫. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৪৬. যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু’টি উদ্যান।
৪৭. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৪৮. উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লববিশিষ্ট।
৪৯. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৫০. উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবন।
৫১.অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৫২. উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল বিভিন্ন রকমের হবে।
৫৩. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৫৪.তারা তথায় রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে।
৫৫. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৫৬. তথায় থাকবে আনতনয়ন রমনীগন, কোন জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি।
৫৭. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৫৮. প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ।
৫৯. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৬০. সৎকাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতিত কী হতে পারে?
৬১. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৬২. এই দু’টি ছাড়া আরও দু’টি উদ্যান রয়েছে।
৬৩. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৬৪. কালোমত ঘন সবুজ।
৬৫. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৬৬. তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ।
৬৭. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৬৮. তথায় আছে ফল-মুল, খেজুর ও আনার।
৬৯. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৭০. সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা সুন্দরি রমণীগণ।
৭১.অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৭২. তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ।
৭৩. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৭৪. কোন জিন ও মানব পূর্বে তাদের স্পর্শ করেনি।
৭৫. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৭৬. তারা সবুজ মসনদে এবং উৎকৃষ্ট মুল্যবান বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে।
৭৭. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
৭৮. কত পুণ্যময় আপনার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব।
আল্লাহর নেয়ামতসমূহের বর্ণনা
এই সূরায় আল্লাহ্ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতের এমন কিছু নেয়ামত তুলে ধরেছেন, যা মানব ও জিন জাতির অস্তিত্ব এবং জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।
জ্ঞান ও সৃষ্টির নেয়ামত
- কুরআন শিক্ষা: সূরার প্রথম নেয়ামত হিসেবে আল্লাহ্ কুরআন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, বস্তুগত নেয়ামতের চেয়ে আল্লাহর বাণী ও হেদায়েতের নেয়ামত সবচেয়ে বড়।
- মানব সৃষ্টি ও বাক্শক্তি: মানুষকে সৃষ্টি করা এবং তাকে ভাব প্রকাশ করার শক্তি (আল-বায়ান) দেওয়া আল্লাহর এক বিশাল নেয়ামত। এই শক্তি মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে।
- জ্যোতিষ্কের সুশৃঙ্খলতা: সূর্য ও চন্দ্র একটি নির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী চলে। পৃথিবীর অস্তিত্ব বজায় রাখতে এবং সময়ের হিসাবের জন্য এই সুশৃঙ্খলতা এক বিরাট প্রাকৃতিক নেয়ামত।
প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নেয়ামত
- পৃথিবীর পরিবেশ: আল্লাহ্ আকাশ স্থাপন করেছেন এবং পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন দাঁড়িপাল্লা (অর্থাৎ ন্যায় ও ভারসাম্য), যাতে কেউ সীমালঙ্ঘন না করে।
- জীববৈচিত্র্য: ফল-ফলাদি, খেজুর, ডালিম এবং সুগন্ধযুক্ত উদ্ভিদের মতো খাদ্য ও সুবাসের নেয়ামতসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
- সমুদ্রের নেয়ামত: আল্লাহ্ দুই সমুদ্রকে পাশাপাশি প্রবাহিত করেছেন, কিন্তু তারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায় না (বরং তাদের মাঝে থাকে এক অদৃশ্য অন্তরায়)। এই দুই সমুদ্র থেকে মুক্তা ও প্রবাল উৎপন্ন হয়। এছাড়া সমুদ্রে পর্বতপ্রমাণ জাহাজ চলাচলের নেয়ামতও আল্লাহরই দান।
জিন ও মানবের প্রতি সম্বোধন ও সতর্কবার্তা
এই সূরার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো বারবার ‘তোমরা উভয়ে’ (রাব্বিকুমা) শব্দ দিয়ে মানব ও জিন জাতিকে সরাসরি সম্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ্ উভয়ের কাছে জানতে চেয়েছেন, এতসব নেয়ামত পাওয়ার পরও তারা কীভাবে অস্বীকার করতে পারে?
আখিরাতের জীবন ও পুরস্কারের বর্ণনা
এই সূরার শেষ অংশটি দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ীত্বের কথা বলে মানব ও জিন জাতিকে আখিরাতের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
জান্নাতের বিবরণ (পুণ্যবানদের জন্য পুরস্কার)
যারা আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয় করে এবং তাঁর আনুগত্য করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। আল্লাহ্ জান্নাতের বিবরণ দিয়েছেন:
- স্তর ও সৌন্দর্য: জান্নাতের রয়েছে দুটি স্তর। উভয় স্তরেই থাকবে শীতল ঝরনা, নানা প্রকার ফলমূল, ডালিম এবং আকর্ষণীয় স্ত্রীরা (হুর), যাদের এর আগে কোনো মানব বা জিন স্পর্শ করেনি।
- উন্নত শয্যা: সবুজ মসনদ এবং সুন্দর গালিচায় হেলান দিয়ে তারা বসবে।
জাহান্নামের বিবরণ (অবাধ্যদের জন্য শাস্তি)
যারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করবে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি:
- কিয়ামতের ভয়াবহতা: কিয়ামতের দিন আকাশ ফেটে যাবে এবং তা চামড়ার মতো লাল হয়ে যাবে। সেই দিন অপরাধীদের চেহারা দেখে চেনা যাবে এবং তাদের পা ও কপালের চুল ধরে টেনে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
- শাস্তির বর্ণনা: অবাধ্যদের স্থান হবে লেলিহান আগুনে (জাহান্নামে), যা তাদের জন্য পান করার জন্য দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি।
সূরা আর রহমান পাঠের ফজিলত ও শিক্ষা
সূরা আর রহমান পাঠের বিশেষ ফজিলত
যদিও এই সূরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সহীহ হাদিসে বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ নেই, তবে একটি দুর্বল হাদিসে এটি ‘কুরআনের কনে’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। ইসলাম ধর্মে কুরআনের প্রতিটি সূরা পাঠ করাই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এই সূরাটি নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে।
মূল শিক্ষা: শোকরিয়া ও আনুগত্য
- কৃতজ্ঞতা: এই সূরার মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতসমূহের জন্য শোকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করা। বারবার জিজ্ঞাসা (“কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?”) বান্দাকে গভীরভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।
- আনুগত্য: নেয়ামত ভোগ করার পর বান্দার কর্তব্য হলো আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এবং তাঁর দেওয়া সীমা লঙ্ঘন না করা।
সূরা আর রহমান হলো আল্লাহর সীমাহীন দয়া, সৃষ্টি নৈপুণ্য এবং চূড়ান্ত বিচার দিনের এক সম্মিলিত ঘোষণা। এর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত তাফসির অনুধাবন করে, আমাদের উচিত আল্লাহর দেওয়া অগণিত নেয়ামতের জন্য সর্বাবস্থায় কৃতজ্ঞ থাকা এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা। কারণ দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আর অনন্ত জীবনের সফলতা কেবল আল্লাহর করুণার ওপরই নির্ভরশীল।
সূরা আর রহমান সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: সূরা আর রহমান কেন নাজিল হয়েছে?
উত্তর: সূরা আর রহমান নাজিল হয়েছে মূলত আল্লাহর অসীম দয়া ও নেয়ামতসমূহ মানব ও জিন জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য এবং সেই নেয়ামতগুলো অস্বীকার করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য।
প্রশ্ন: ‘আর রহমান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘আর রহমান’ শব্দের অর্থ হলো পরম দয়ালু বা অত্যন্ত করুণাময়। এটি আল্লাহর একটি সুন্দর নাম।
প্রশ্ন: সূরার কোন আয়াতটি বারবার বলা হয়েছে?
উত্তর: সূরা আর রহমানের “ফাবি আইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবা-ন” (তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?) আয়াতটি বারবার বলা হয়েছে (মোট ৩১ বার)।
প্রশ্ন: সূরা আর রহমান পাঠের ফজিলত কী?
উত্তর: সূরা আর রহমান পাঠের বিশেষ ফজিলত হলো এর মাধ্যমে আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শোকরিয়ার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এটি আল্লাহর কালাম হিসেবে প্রতি অক্ষরে সওয়াব রয়েছে।
প্রশ্ন: সূরা আর রহমানের মোট আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তর: সূরা আর রহমানের মোট আয়াত সংখ্যা হলো ৭৮টি।
প্রশ্ন: সূরায় কাদের সম্বোধন করা হয়েছে?
উত্তর: এই সূরায় মানব জাতি এবং জিন জাতি উভয় সৃষ্টিকে সরাসরি সম্বোধন করা হয়েছে।
প্রশ্ন: আর রহমান কি মাক্কী সূরা?
উত্তর: হ্যাঁ, অধিকাংশ আলেমদের মতে সূরা আর রহমান একটি মাক্কী সূরা।
প্রশ্ন: সূরায় উল্লিখিত দুই সমুদ্রের মিলন দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সূরায় উল্লিখিত দুই সমুদ্রের মিলন দ্বারা সেই দুই জলরাশিকে বোঝানো হয়েছে, যা পাশাপাশি প্রবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর নির্দেশে তাদের মাঝে এক অদৃশ্য অন্তরায় বজায় থাকে এবং তারা মিশে যায় না (যেমন মিষ্টি জল ও লবণাক্ত জলের মিলনস্থল)।
প্রশ্ন: নেয়ামত অস্বীকার না করার গুরুত্ব কী?
উত্তর: নেয়ামত অস্বীকার না করার গুরুত্ব হলো আল্লাহর প্রতি শোকরিয়া ও আনুগত্যের প্রকাশ। নেয়ামত স্বীকার করলে আখিরাতে আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং জান্নাতের প্রতিশ্রুতি লাভ করা যায়।
প্রশ্ন: এই সূরার বিশেষ আকর্ষণ কী?
উত্তর: এই সূরার বিশেষ আকর্ষণ হলো এর অসাধারণ ছন্দ ও সাহিত্যিক সৌন্দর্য এবং একটি আয়াতের বারবার পুনরাবৃত্তি, যা পাঠককে গভীরভাবে আল্লাহর মহিমা অনুধাবন করতে সাহায্য করে।
কুরআনের অন্যান্য সূরা ও ফজিলত সম্পর্কে জানুন
- আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ পূর্ণ ব্যাখ্যা
- সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ কুরআনের বরকতময় রাতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ পূর্ণাঙ্গ আলোচনা
- সূরা কাওসার বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা
- সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা
- সূরা মুলক বাংলা, আরবি উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা
- সূরা কাফিরুন বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা ফাতেহা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ: ফজিলত, গুরুত্ব ও সম্পূর্ণ গাইড
- সূরা লাহাব বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
- সূরা আসর বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, তাফসির ও ফজিলতসহ পূর্ণাঙ্গ গাইড
- সূরা মূলক-এর ফজিলত, গুরুত্ব, হাদিস ও উপকারিতা: সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- সূরা ইখলাস বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ: ফজিলত, ব্যাখ্যা ও সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- সূরা বাকারার ফজিলত: কুরআনের দীর্ঘতম সূরার অসংখ্য বরকত ও উপকারিতা








