হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: ইসির নতুন নিয়ম  জারি
spot_img

নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: ইসির নতুন নিয়ম  জারি

বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাসে এবার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিবেশ রক্ষা, অযথা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে ইসি নতুন নির্বাচনী আচরণবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এতে প্রচারণা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পোস্টার নিষিদ্ধের মূল কারণ

ইসি জানিয়েছে, দেশের পরিবেশ দূষণ ও অপচয় রোধ করতেই পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত কাগজের পোস্টার, ফেস্টুন ও প্লাস্টিকজাত প্রচারণা উপকরণ শুধু পরিবেশ নষ্ট করে না, বরং নির্বাচনের পর সেগুলো পরিষ্কার করতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।

আগে দেখা যেত নির্বাচনের আগে শহর, গ্রাম, গলি ও রাস্তা ভর্তি হয়ে যেত নানা রঙের পোস্টারে। সেই দৃশ্য এবার আর দেখা যাবে না। নতুন নিয়মে প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালাতে পারবেন, তবে সেখানেও থাকবে কঠোর শর্ত।

ড্রোন ও বিদেশে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা

ইসির নতুন বিধিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে,
‘কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচারণায় ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে না।’

এর পাশাপাশি বিদেশে বসে প্রচারণা চালানো বা প্রার্থীর পক্ষে বিদেশ থেকে অর্থায়ন ও প্রচারণা করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসি মনে করছে, বিদেশে প্রচারণা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। তাই এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল প্রচারণায় কড়া নিয়ন্ত্রণ

নতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে।

ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো প্রার্থী বা দল যদি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়, অপপ্রচার চালায়, অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে প্রচারণা চালায়, তাহলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

ইসি জানিয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্যে AI ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও, ছবি বা বক্তব্য তৈরি করা হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা বাধ্যতামূলক

নির্বাচনী সংস্কারে এবার আরেকটি নতুন উদ্যোগ দেখা গেছে। সব প্রার্থীকে একসঙ্গে একই মঞ্চে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে হবে।

এর মাধ্যমে ভোটাররা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন প্রার্থী কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।

এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।

আচরণবিধি মানতে অঙ্গীকারনামা বাধ্যতামূলক

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি প্রার্থীকে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারনামা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে।

এতে থাকবে,
প্রচারণায় শালীনতা বজায় রাখা, মিথ্যা তথ্য না ছড়ানো, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিষয় ব্যবহার না করা এবং নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি।

ইসি বলেছে, এই অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে।

বিলবোর্ড ও ব্যানার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা

পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও প্রার্থীরা কিছু পরিমাণে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া এগুলো কোথায় ও কীভাবে স্থাপন করা যাবে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।

এই সীমাবদ্ধতা প্রার্থীদের অযথা ব্যয় রোধে এবং প্রতিযোগিতা সমান রাখতে সহায়ক হবে।

শাস্তির বিধান আরও কঠোর

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কোনো প্রার্থী যদি ইসির বিধিমালা অমান্য করেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই জরিমানার বিধান প্রযোজ্য হবে।

আর যদি কোনো প্রার্থী গুরুতরভাবে বিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে তদন্তের পর তার প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও এখন ইসির হাতে রয়েছে।

নতুন বিধিমালা কতটা কার্যকর হবে

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন বিধিমালা নির্বাচনী প্রচারণায় এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। পরিবেশবান্ধব নির্বাচন, ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সবকিছুই এতে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে কতটা কঠোরভাবে ইসি বিধিগুলো প্রয়োগ করতে পারে তার ওপর।

ভোটাররাও যদি সচেতন হন এবং প্রার্থীদের ওপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন, তাহলে ভবিষ্যতে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত হতে পারে।


বাংলাদেশে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব করার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
পোস্টারবিহীন প্রচারণা হয়তো প্রথমে কিছুটা অচেনা লাগবে, কিন্তু এটি দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে নতুন ধারা আনবে।

ইসির এই সিদ্ধান্ত শুধু নির্বাচনী ব্যয় ও পরিবেশ দূষণ কমাবে না, বরং একটি আধুনিক ও ডিজিটাল নির্বাচনব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলবে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!