হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeখেলাধুলা৩৭ বছরেও ফিট বিরাট কোহলি: খাদ্যতালিকা, রুটিন ও ফিটনেসের রহস্য
spot_img

৩৭ বছরেও ফিট বিরাট কোহলি: খাদ্যতালিকা, রুটিন ও ফিটনেসের রহস্য

৩৭ বছর বয়সেও বিরাট কোহলি যেন সময়কে থামিয়ে রেখেছেন। ক্রিকেট ভক্তদের চোখে তিনি এখনও উদ্যমী ও তরুণ। বয়স তাঁর জন্য শুধুই একটি সংখ্যা। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শৃঙ্খলা এবং পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন তাঁকে বছরের পর বছর ধরে রাখছে সেরা ফিটনেসে।

গতকাল ছিল তাঁর ৩৭তম জন্মদিন। কোহলির গড়ন, শক্তি ও প্রাণশক্তি এখনো যেন অপরিবর্তিত। তাঁর ফিটনেসের রহস্য লুকিয়ে আছে ধারাবাহিকতা, সংযম ও ভারসাম্যে।

খাদ্যাভ্যাসে কোহলির নিয়ম

স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেছেন, “যখন আপনি ফিটনেস নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন, সব কিছুই চেষ্টা করে দেখতে হবে ভিটামিন, পানি, প্রোটিন। ধীরে ধীরে বোঝা যাবে কোনটা আপনার জন্য কাজ করছে। তখনই ভারসাম্য পাবেন।”

তিনি আরও বলেন, জিমে ঘাম ঝরানো ভালো, কিন্তু খাদ্যাভ্যাস তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফিটনেসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাবার। শরীরকে কষ্ট দেওয়া সহজ, কিন্তু সঠিকভাবে খাওয়া মানসিক লড়াই। জিভের স্বাদ আর লোভ ঠিক করে দেয় আপনি এগোবেন না পিছাবেন।

শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত খাদ্য

কোহলি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে খুব অভ্যস্ত। তিনি বলেছেন, “আমি চাইলে ছয় মাস একদম একই খাবার খেতে পারি, কোনো সমস্যা হয় না।” তাঁর প্রায় ৯০ শতাংশ খাবারই ভাপানো বা সেদ্ধ। শুধু লবণ, গোলমরিচ আর লেবুর রস ব্যবহার করেন।

হালকা ড্রেসিং সহ সালাদ, অলিভ অয়েলে হালকা গ্রিল করা খাবার কোহলির প্রিয়। তরকারি এড়িয়ে চললেও ডাল এবং পুষ্টিকর শাকসবজি খাওয়া চালিয়ে যান। পাঞ্জাবি খাবার হিসেবে মাঝে মাঝে রাজমা-লোভিয়া খান।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং পরিবর্তন

২০১৮ সালে মারাত্মক অ্যাসিডিটি ও ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ায় কোহলি বিপাকে পড়েন। চিকিৎসকেরা হাড়ের ক্যালসিয়াম কমে যাওয়ার কথা জানান। এরপর তিনি মাংস ছেড়ে পুরোপুরি নিরামিষভোজী খাবার খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে তিনি সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী নন। ইউটিউবে ফুড শো কার্লি টেলসে বলেছেন, দুগ্ধজাত খাবার এখনও তাঁর ডায়েটে থাকে।

সুপারফুড সালাদ এবং পুষ্টির ভারসাম্য

কোহলির প্রিয় খাবার ‘সুপারফুড সালাদ’। এতে থাকে নানা ধরনের শাকপাতা, ভাজা কুমড়ার বীজ, তরমুজ ও রাজগিরার পপস। সালাদই তাঁর দেহের পুষ্টি ভারসাম্য রাখে। চিনি, মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও জাঙ্ক ফুড থেকে তিনি দূরে থাকেন।

পানি ও লেবু মেশানো গ্রিন টি সারাক্ষণ শরীরকে আর্দ্র রাখে। সকালের নাশতায় থাকে সবজি ওমলেট বা উদ্ভিদভিত্তিক বিকল্প, গ্লুটেনমুক্ত টোস্ট ও ফল। দুপুর ও রাতের খাবারে হালকা প্রোটিন বা নিরামিষ খাবার ডাল, কুইনোয়া, শাকসবজি। বিকেলের নাশতায় থাকে বাদাম, বীজ ও প্রোটিন শেক।

অনুশীলনের রুটিন

কোহলি সপ্তাহে পাঁচ-ছয় দিন নিয়মিত অনুশীলন করেন। তিনি তিন দিকেই ভারসাম্য রাখেন শক্তি, সহনশক্তি ও নমনীয়তা। স্কোয়াট, ডেডলিফট, ক্লিন দিয়ে শক্তি বাড়ান। স্প্রিন্ট, ট্রেডমিল, হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিং ক্ষিপ্রতা ধরে রাখে।

চোট এড়াতে যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করেন। মানসিক একাগ্রতা বজায় রাখতে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম, নিয়মিত ধ্যান এবং সময়মতো বিশ্রাম নিশ্চিত করেন। রাতজাগা, দেরিতে খাওয়া, অ্যালকোহল—সবই নিষিদ্ধ।

ফিটনেসের মূল কৌশল

কোহলির ধারাবাহিকতা, ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে ফিট ক্রীড়াবিদদের একজন বানিয়েছে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সঠিক অনুশীলন এবং মানসিক একাগ্রতা তার ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি।

কোহলি প্রমাণ করেছেন, বয়স কেবল সংখ্যা। সঠিক জীবনধারা ও নিয়মিত রুটিনে যে কেউ তার ফিটনেস বজায় রাখতে পারে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!