হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআর্ন্তজাতিকফিলিপাইনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫, লাখো মানুষ গৃহহীন
spot_img

ফিলিপাইনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫, লাখো মানুষ গৃহহীন

ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগির প্রভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮৫ তে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। চলতি বছর এটি ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে একটি।

ফিলিপাইনের সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপ সেবুর একাধিক শহর পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৪৯ জন সেবুর বাসিন্দা। প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৭৫ জন নিখোঁজ এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

ত্রাণ কার্যক্রম ও সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা

ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া একটি হেলিকপ্টার হারিয়েছে। হেলিকপ্টারটি মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ সরবরাহের জন্য পাঠানো হয়েছিল। আগুসান দেল সুর এলাকায় মঙ্গলবার এটি বিধ্বস্ত হয়। তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়, পরে পাইলটসহ ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সামরিক হেলিকপ্টারের এই দুর্ঘটনা ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে যে ঝুঁকি রয়েছে তা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে।

প্লাবিত শহর ও মানবিক বিপর্যয়

সেবুর দক্ষিণাঞ্চল এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষজন বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। ভিডিওতে দেখা গেছে, পানির তোড়ে গাড়ি ও কনটেইনার ভেসে যাচ্ছে।

জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানাচ্ছে, চার লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে খাদ্য, পানীয় জল এবং আশ্রয়ের জন্য বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাকৃতিক প্রভাব

কালমায়েগির আগাম সতর্কতা থাকলেও, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব রোধ করা যায়নি। বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দেশের অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ফিলিপাইনে প্রতিবছর গড়ে ২০টি ঝড় ও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। গত মাসে টানা দুটি ঝড়ে ডজনখানেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অতিবৃষ্টি এবং নিম্নমানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগি এখন ভিয়েতনামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে ইতোমধ্যেই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে, যা নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশও ফিলিপাইনের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নন-গভর্নমেন্টাল সংস্থাগুলো খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করছে।

সরকারের পদক্ষেপ ও মানুষদের সুরক্ষা

ফিলিপাইনের সরকার জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য বিপদগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া এবং খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।

জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন সতর্কতা জারি করছে।


ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগি দেশের জন্য মানবিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা লাখের বেশি। আন্তর্জাতিক সাহায্য, সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এই বিপর্যয় মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফিলিপাইনের মানুষ এখন নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!