ফুটবল মাঠের রাজা তিনি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাঠের খেলায় যেমন তিনি বিশ্বসেরা, তেমনি মাঠের বাইরেও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন সবসময় থাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পর্তুগিজ এই সুপারস্টার তার অবসর জীবন কাটানোর জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে একটি রাজকীয় বাড়ি বানিয়েছিলেন। কিন্তু অবাক করা খবর হলো, সব কাজ শেষ হওয়ার পরই তিনি সেই স্বপ্নের প্রাসাদ বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পর্তুগালের কাসকাইস অঞ্চলের কুইন্তা দা মারিনিয়া এলাকায় অবস্থিত এই বাড়িটির দাম শুনলে যে কারো চোখ কপালে উঠবে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা (৩ কোটি পাউন্ড) ব্যয়ে নির্মিত এই বাড়িটি এখন বিক্রির তালিকায়। ভক্তদের মনে প্রশ্ন, এত শখ করে বানানো বাড়িটিতে না থেকেই কেন বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেন রোনালদো?
কী আছে এই রাজকীয় প্রাসাদে?
রোনালদোর এই বাড়িটিকে শুধুই বাড়ি বলা ভুল হবে, এটি রীতিমতো এক রাজপ্রাসাদ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি এই প্রজেক্টটি হাতে নেন। বাড়িটির প্রতিটি কোণ সাজানো হয়েছে বিশ্বের নামিদামি সব উপকরণ দিয়ে।
এই প্রাসাদের বিলাসিতার কিছু ঝলক:
- বিশাল জায়গা: এই প্রাসাদে রয়েছে মোট আটটি সুসজ্জিত শয়নকক্ষ।
- প্রাইভেট বিচ ও পুল: বাড়ির ভেতরেই রয়েছে ইনফিনিটি সুইমিং পুল এবং একান্ত সময় কাটানোর জন্য ব্যক্তিগত সৈকত বা প্রাইভেট বিচ।
- বিলাসিতার উপকরণ: বাথরুমের পানির কল বা ট্যাপগুলো সাধারণ নয়, এগুলো তৈরি করা হয়েছে খাঁটি সোনা দিয়ে। মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে ইতালিয়ান মার্বেল।
- বিনোদন ও ফিটনেস: রোনালদো তার ফিটনেসের ব্যাপারে খুবই সচেতন। তাই বাড়িতেই রয়েছে অত্যাধুনিক জিম, ম্যাসাজ রুম এবং সিনেমা হল।
- বাচ্চাদের জন্য: রোনালদোর পাঁচ সন্তানের জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা খেলার মাঠ।
- বিশেষ নকশা: বাড়ির দেওয়াল সাজানো হয়েছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ‘লুই ভিটন’-এর বিশেষ নকশা করা মুরাল দিয়ে। এছাড়া রয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড কার পার্কিং, যেখানে তার দামী গাড়িগুলো রাখা হবে।
কেন বিক্রি করছেন স্বপ্নের এই বাড়ি?
এত আয়োজন করে বাড়িটি বানানোর পর হঠাৎ বিক্রির সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তবে এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘গোপনীয়তা’ বা প্রাইভেসি সমস্যা।
জানা গেছে, ‘পর্তুগিজ রিভিয়েরা’ নামে পরিচিত এই এলাকাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাড়িটি তৈরির সময় থেকেই রোনালদো চেয়েছিলেন আশেপাশের কিছু জমিও কিনে নিতে, যাতে তার পরিবারের গোপনীয়তা বজায় থাকে। কিন্তু তিনি সেই জমি কিনতে ব্যর্থ হন। ফলে, রাস্তার খুব কাছে বাড়িটি হওয়ায় পাপারাজ্জি বা সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে থাকা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। নিজের এবং পরিবারের নিরিবিলি জীবনের কথা ভেবেই তিনি এই প্রাসাদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জর্জিয়ানিয়ার সাথে বিয়ের ভেন্যু?
বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলেও, এখনই এটি হাতছাড়া করছেন না রোনালদো। শোনা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়তো এই প্রাসাদে সেরেই ফেলবেন তিনি। বিয়ের জমকালো আয়োজন শেষ করেই হয়তো নতুন মালিকের হাতে চাবি তুলে দেবেন সিআরসেভেন। তবে তারা যে এখানে স্থায়ীভাবে থাকছেন না, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
রোনালদোর সম্পত্তির বহর
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মানেই যেন আভিজাত্য। এই বাড়িটি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দামী শহরে তার বিলাসবহুল সব বাড়ি রয়েছে। তার সম্পত্তির তালিকায় আছে:
- লিসবনে ৬ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি পেন্টহাউজ।
- নিজের জন্মভূমি মাদেইরাতে একটি বিশাল বাড়ি।
- স্পেনের মাদ্রিদে একটি রাজকীয় প্রাসাদ।
- ইতালির তুরিনে একটি বিলাসবহুল ভিলা।
ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর রোনালদো কোথায় থিতু হবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ৫০০ কোটির এই প্রাসাদ যে তার অবসর জীবনের সঙ্গী হচ্ছে না, তা ভক্তদের জন্য এক বড় চমকই বটে।








