বর্তমান ফুটবল বিশ্বের চার অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় তারকা হলেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নেইমার। তবে এদের মধ্যে গত দেড় দশক ধরে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করে আসছেন মেসি ও রোনালদো। ফুটবল ভক্তদের মনে সবসময়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—”মেসি না রোনালদো কে সেরা?” সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে ফুটবল পণ্ডিত, সবার মাঝেই এই নিয়ে তর্কের শেষ নেই। সম্প্রতি এই জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজকে। আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচ শেষে তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি নাকি পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কে সেরা?
মার্তিনেজের চোখে দুই মহাতারকার অবদান
এমন কঠিন ও সংবেদনশীল প্রশ্নের জবাবে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ কোনো একজনকে এককভাবে বেছে নেননি। বরং তিনি দুই তারকারই ভূয়সী প্রশংসা করেন। মার্তিনেজ বলেন, “ওরা দুই জনই ফুটবলকে বদলে দিয়েছে, উন্নত করেছে।” তার মতে, ফুটবল খেলাটাকে আজকের এই আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে এই দুই মহাতারকার অবদান অনস্বীকার্য। ফুটবলকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং দর্শকদের উন্মাদনা ধরে রাখার জন্য মেসি ও রোনালদোর মধ্যকার এই দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।
অধিনায়ক রোনালদোকে নিয়ে কোচের গর্ব
নিজের দলের সেরা তারকা ও অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে মার্তিনেজ অত্যন্ত গর্বিত। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তাদের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখন তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন, যা একজন ফুটবলারের জন্য অবিশ্বাস্য এক কীর্তি। রোনালদোকে একজন আদর্শ ফুটবলার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ও আদর্শ, এখন দলের অধিনায়ক।”
রোনালদোর পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি আনুগত্যের প্রশংসা করে মার্তিনেজ আরও বলেন, “জাতীয় দল বলতে ঠিক কী বোঝায়, তার আদর্শ উদাহরণ রোনালদো। প্রতিটা অনুশীলনে ও নিজেকে উন্নত করতে চায়।” তিনি জানান যে, দলের ড্রেসিংরুম বা সাজঘরে রোনালদোর ব্যক্তিত্ব সত্যিই চোখে পড়ার মতো এবং তার কঠোর শৃঙ্খলা দেখলে যে কেউই অবাক হতে বাধ্য। রোনালদো কেন মাঠে এবং মাঠের বাইরে এতটা আগ্রাসী ও সফল, তার শৃঙ্খলা দেখলেই তা পরিষ্কার বোঝা যায়।
বিশ্বকাপে পর্তুগাল দলের শক্তি ও ঐক্য
বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগাল দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কোচ মার্তিনেজ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। রোনালদোর একক নৈপুণ্যের পাশাপাশি তিনি পুরো দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। কোচের মতে, বর্তমান পর্তুগাল দল আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দলগতভাবে একতাবদ্ধ।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার সময় মাঠের বাইরে থেকে নানারকম সমালোচনা, গুঞ্জন বা মানসিক চাপ তৈরি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। মার্তিনেজ মনে করেন, এগুলো ফুটবলেরই একটি অংশ। তবে এসব বাইরের আওয়াজে কান না দিয়ে তাদের পুরো মনোযোগ এখন শুধুই দলের ওপর। বিশ্বকাপে পা রাখার আগেই পর্তুগাল দল নিজেদের মধ্যে সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে। তাই দলের ভেতরে কোনো রকম দুশ্চিন্তা বা নেতিবাচক চিন্তা নেই। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দলের বাকি তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন।
রবার্তো মার্তিনেজের মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, মেসি বা রোনালদোর মধ্যে কে সেরা তা নির্ধারণ করার চেয়ে ফুটবল খেলায় তাদের সামগ্রিক অবদানকে উদযাপন করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন যদি পায়ের জাদুতে বিশ্বকে মুগ্ধ করেন, তবে অন্যজন তার কঠোর পরিশ্রম ও অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলা দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এই দুই কিংবদন্তির বিদায়ের পর ফুটবল বিশ্ব যে অনেকটাই শূন্য হয়ে পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।








