দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হওয়া হঠাৎ গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিং সামলে ওঠার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে আজ বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সঞ্চালন শুরু হতে যাচ্ছে। এর ফলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সারা দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
Thursday (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক আলাপকালে দেশের সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি গ্যাস সংকটের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এর প্রভাব, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেন।
গ্যাস সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া ও প্রেসার বৃদ্ধি
হঠাৎ করে এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় লাইনে গ্যাসের প্রেসার মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়। তবে এই সংকটের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান জ্বালানি মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, “সঞ্চালন পুনরায় চালু হলে ধীরে ধীরে লাইনের প্রেসার বাড়তে শুরু করবে। যে স্থানে প্রেসার ড্রপ করেছিল, সেখানে প্রেসার উন্নত হবে এবং আমরা দ্রুতই এই সমস্যা উতরিয়া উঠতে পারব।” গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আগের মতো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ন্যূনতম দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সব এলাকার গ্যাস প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও লোডশেডিং পরিস্থিতি
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের বিরতিহীন লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। এই বিষয়ে মন্ত্রী খোলাসা করে বলেন যে, গ্যাস সংকটের সঙ্গেই লোডশেডিংয়ের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “স্বাভাবিকভাবে গ্যাস না থাকলে সাধারণ মানুষ যেমন পাবে না, তেমনি আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও গ্যাস পাবে না।” গ্যাস ঘাটতির কারণে যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল, গ্যাস সঞ্চালন স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই সেগুলো পুনরায় চালু করা হবে। এর ফলে বিদ্যুতের চলমান লোডশেডিংও দ্রুত কমে আসবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
- এফএসআরইউ-এর যান্ত্রিক ত্রুটির সমাধান এবং আজ বিকেল থেকে সঞ্চালন শুরু।
- আগামী ২–৩ দিনের মধ্যে পাইপলাইনে কাঙ্ক্ষিত প্রেসার ফেরত আসার প্রত্যাশা।
- বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করে লোডশেডিং কমানোর পদক্ষেপ।
- ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির উদ্যোগ।
বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল নিয়ে মন্ত্রীদের ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের বিল নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তবে ভূতুড়ে বিলের অভিযোগের বিষয়টি কিছুটা বাস্তবসম্মতভাবে দেখার আহ্বান জানান বিদ্যুৎ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “জুন মাস থেকে বিদ্যুতের নির্ধারিত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তা ছাড়া গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহারও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।” উদাহরণ টেনে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্টের সূত্রে তদন্ত করে দেখা গেছে যে, তাঁর বাসায় একাধিক এসি, ফ্রিজ ও অন্যান্য ভারি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো সত্ত্বেও সাড়ে তিন হাজার টাকার বিল সাড়ে সাত হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। মন্ত্রীর মতে, এত সরঞ্জাম ব্যবহারের পর এই বিলকে কোনোভাবেই ভূতুড়ে বা অস্বাভাবিক বলার সুযোগ নেই। তা ছাড়া সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ আনলে তা খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও জ্বালানি পাইপলাইন
সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের একটি রুটিন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক স্বার্থ ও সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত কথা হয়।
বর্তমানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল আসছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত পেরিয়ে আরও বেশি পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান জ্বালানি মন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবে দেশের সাবেক সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে মন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, বিগত শাসন আমলে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামোর অপপূরণীয় ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দ্রুত দেশের সংকটগুলো সমাধানের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।








