বাংলাদেশের আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সময়সূচি ঘোষণার পরই কার্যক্রম দ্রুত সামনে এগিয়ে চলেছে। এই ধারায় জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
নির্বাচন ভবনে গিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা এই মনোনয়নপত্র তুলে নেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, তা নিয়ে সারা দেশে নানা আলোচনা চলছে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পটভূমি ও দলীয় উদ্যোগ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই মনোনয়নপত্রগুলো গ্রহণ করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দুটি পৃথক মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন:
- নূরুল ইসলাম মণি: জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ।
- অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
তারা দুজন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থিতার জন্য প্রয়োজনীয় দুটি মনোনয়ন ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করেন। একই দিনে দুটি ফরম নেওয়ার পেছনে আইনি সতর্কতা ও সার্বিক কৌশলগত দিক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিস্তারিত তফশিল ও সময়সূচি
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফশিল ঘোষণা করা হয়। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমের কাছে নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, সকল কার্যক্রম নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হবে।
নিচে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও নির্ধারিত সময়ের একটি সহজ তালিকা দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | কার্যক্রমের বিবরণ | তারিখ ও দিন | নির্ধারিত সময় | স্থান / তথ্য |
| ১ | মনোনয়নপত্র দাখিল | ১৩ আগস্ট | সকাল ১০:০০ – বিকাল ৪:০০ | নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় |
| ২ | মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই | ১৬ আগস্ট | সকাল ১০:০০ থেকে | ইসি ভবন, আগারগাঁও |
| ৩ | প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন | ১৮ আগস্ট | বিকাল ৪:০০ পর্যন্ত | ইসি ভবন |
| ৪ | ভোটগ্রহণের তারিখ | ২০ আগস্ট | দুপুর ২:০০ – বিকাল ৫:০০ | জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষ |
আইনগত ভিত্তি ও নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এই নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আইনি নিয়ম মেনে চলতে হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১
ইসি সচিব জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাথে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। স্পিকারের সাথে আলোচনার পরই এই তফশিল ও সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়।
ভোটাভুটির পদ্ধতি ও স্থান
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ জনগণ সরাসরি ভোট দেন না। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে প্রস্তুত করেছে।
ভোটাভুটির নির্ধারিত দিন জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষে সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অথবা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ভোট দেবেন। পুরো নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রভাব
রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। যদিও বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রধান নির্বাহী হন প্রধানমন্ত্রী, তবুও রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির স্থান অনেক ওপরে। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতির নিয়োগ, জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘটনা এটিই নির্দেশ করে যে, দলটি এই রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়াকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কেবল নির্বাচনের তফসিলই প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো নতুন তথ্য বা অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।
সব মিলিয়ে, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত স্পষ্ট হবে কে কে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দেশের রাজনীতিতে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা দেখার জন্য আগামী ২০ আগস্টের ভোটগ্রহণ পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।








