একটি সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী আবারও শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কর্মসূচি। আগামী ২৮ জুন (রবিবার) দেশজুড়ে উদযাপিত হবে ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬’। শিশুদের অন্ধত্ব দূরীকরণ, অপুষ্টিজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই বিশেষ দিনে নির্দিষ্ট বয়সী প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। সরকারি এই জাতীয় কর্মসূচির আওতায় দেশের সকল যোগ্য শিশুকে এই পুষ্টি উপাদানটি দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আপনার শিশুর বয়স কি ৬ থেকে ৫৯ মাসের মধ্যে?
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬ এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের ৬ মাস থেকে শুরু করে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা। আপনি যদি একজন সচেতন অভিভাবক হন এবং আপনার শিশুর বয়স এই সীমার মধ্যে হয়ে থাকে, তবে আগামী ২৮ জুন তাকে অবশ্যই আপনার নিকটস্থ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, আজকের সামান্য একটু সচেতনতা আপনার শিশুর আগামী দিনের সুন্দর ও সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম ও বয়সসীমা
ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে শিশুদের বয়স অনুযায়ী দুই ভিন্ন রঙের ও ভিন্ন মাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সঠিক নিয়মটি নিচে তুলে ধরা হলো:
- ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: এই বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১টি নীল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।
- ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: এই বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১টি লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।
স্বাস্থ্যকর্মীরা কেন্দ্রে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শিশুদের এই ক্যাপসুল খাইয়ে দেবেন। কোনো অবস্থাতেই শিশুকে খালি পেটে কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন না, ক্যাপসুল খাওয়ানোর আগে শিশুকে স্বাভাবিক খাবার বা মায়ের দুধ খাইয়ে নেওয়া ভালো।
শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘এ’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভিটামিন ‘এ’ কোনো সাধারণ ওষুধ নয়, এটি শিশুর শরীরের একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ালে নিচের উপকারগুলো পাওয়া যায়:
১. দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে
শিশুদের রাতকানা রোগ এবং চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। এটি চোখের কর্নিয়াকে সুস্থ ও সতেজ রাখে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বৃদ্ধি করে
যেসব শিশু নিয়মিত সঠিক সময়ে ভিটামিন ‘এ’ পায়, তাদের শরীর সহজে নানারকম সংক্রামক রোগ ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
৩. ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমায়
ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব দূর হলে শিশুদের ডায়রিয়া, হাম এবং নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার এবং এসব রোগের কারণে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
৪. শিশুর স্বাভাবিক ও সুস্থ বৃদ্ধি
শিশুর হাড়ের গঠন মজবুত করতে এবং তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গতি স্বাভাবিক রাখতে এই ক্যাপসুল জাদুর মতো কাজ করে।
অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ ও নির্দেশনা
জাতীয় কর্মসূচির আওতায় দেশের সকল পিতা-মাতা ও অভিভাবকের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে, নির্ধারিত দিনে আপনার নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক বা অস্থায়ী ক্যাম্পেইন সেন্টারে গিয়ে আপনার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করুন। কোনো শিশু যেন এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
যদি কোনো শিশু ক্যাম্পেইনের দিনে অসুস্থ থাকে বা তীব্র জ্বরে ভোগে, তবে কেন্দ্রে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীকে বিষয়টি আগে জানান এবং তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।
শিশুরাই আমাদের দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আগামী ২৮ জুনের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬ সফল করতে নিজে সচেতন হোন এবং আপনার আশেপাশের অন্যান্য প্রতিবেশীদেরও এই বিষয়ে উৎসাহিত করুন। আপনার সামান্য একটু সচেতন পদক্ষেপই পারে একটি শিশুকে সুস্থ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ভবিষ্যৎ উপহার দিতে।








