ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হলো কানাডায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কঠোরভাবে কার্যকর করবে কানাডা। এই ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
কার্নির এই ঘোষণার ফলে স্পষ্ট হলো যে, নেতানিয়াহু কানাডায় পা রাখলেই তিনি গ্রেপ্তার হবেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নির্দেশ ও কার্নির কঠোর ঘোষণা
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
- পরোয়ানার কারণ: ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আইসিসি এই পরোয়ানা জারি করে। নেতানিয়াহুর পাশাপাশি তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধেও একই পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
- কানাডার অবস্থান: ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, কানাডা কি আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করবে? জবাবে তিনি দৃঢ়ভাবে ‘হ্যাঁ’ বলেন এবং নিশ্চিত করেন যে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে তিনি প্রস্তুত।
আইসিসি-র সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে কানাডা আইনিভাবে এই পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধ্য। কার্নির এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে কানাডা বদ্ধপরিকর।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এবং যুদ্ধবিরতির প্রভাব
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি-র পরোয়ানার পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া চলছে:
- দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা: ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি ঐতিহাসিক মামলা দায়ের করে।
- মামলার স্থগিতা: যদিও চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়। ফলে, এই মামলাটি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আইসিজে তিন দফায় অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দিয়ে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছিল:
১. গণহত্যা বন্ধ করতে
২. সামরিক অভিযান স্থগিত রাখতে
৩. গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা না দিতে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র
এই আইনি এবং সামরিক পরিস্থিতির মধ্যেই কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আরও জটিলতা তৈরি করেছে।
- কানাডার স্বীকৃতি: এ বছরের ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।
- অন্যান্য দেশের স্বীকৃতি: একই দিনে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালও একই ঘোষণা দেয়। পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো এবং অ্যান্ডোরা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি জানায়।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির এই ঘোষণা আন্তর্জাতিকভাবে নেতানিয়াহুকে আরও চাপে ফেলল। এখন দেখার বিষয়, এই পরোয়ানা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।








