হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeতথ্য প্রযুক্তিউদ্ভাবনডাটা ফুরাবে, কিন্তু মেয়াদ না! সাশ্রয়ী মূল্যে সরকারের নতুন সিম কার্ড
spot_img

ডাটা ফুরাবে, কিন্তু মেয়াদ না! সাশ্রয়ী মূল্যে সরকারের নতুন সিম কার্ড

দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও স্বল্প আয়ের মানুষের বড় আক্ষেপ ছিল ইন্টারনেটের উচ্চ দাম নিয়ে। ডিজিটাল বাংলাদেশে ইন্টারনেট এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি সেবা। এই প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট সহজলভ্য করতে সরকার নিয়ে এলো এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর তত্ত্বাবধানে অবশেষে চালু হলো বহুল প্রতীক্ষিত বিটিসিএল বাজেট সিম (BTCL MVNO)।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই নতুন সিম কার্ডটি দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে। কিন্তু কী এই এমভিএনও প্রযুক্তি এবং সাধারণ গ্রাহকরা এতে কী সুবিধা পাবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

বিটিসিএল এমভিএনও (MVNO) প্রযুক্তি আসলে কী?

অনেকেই হয়তো ‘এমভিএনও’ (MVNO – Mobile Virtual Network Operator) শব্দটি শুনে কিছুটা বিভ্রান্ত হতে পারেন। খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি এমন একটি মোবাইল অপারেটর সেবা, যাদের নিজস্ব কোনো টাওয়ার বা ফ্রিকোয়েন্সি নেই। এরা অন্য অপারেটরদের (যেমন টেলিটক বা গ্রামীণফোন) নেটওয়ার্ক বা টাওয়ার ব্যবহার করে গ্রাহকদের সেবা দেয়।

বিটিসিএল এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই তাদের বিটিসিএল বাজেট সিম সেবাটি চালু করেছে। এর ফলে নতুন করে হাজার হাজার টাওয়ার বসানোর খরচ বেঁচে গেছে, যার সরাসরি সুফল পাবেন গ্রাহকরা। অর্থাৎ, কম খরচে নেটওয়ার্ক ভাড়া নিয়ে বিটিসিএল গ্রাহকদের অত্যন্ত সস্তায় ইন্টারনেট ও কথা বলার সুযোগ করে দিচ্ছে।

কেন কিনবেন সরকারের এই বাজেট সিম?

বাজারে তো আরও অনেক সিম আছে, তাহলে এই নতুন সিমটি কেন আলাদা? এর প্রধান কারণ হলো ‘সাশ্রয়ী মূল্য’। বর্তমান সময়ে যেখানে ডেটা প্যাক কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এই সিমটি স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে আসবে।

এই সিমের প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

  • সাশ্রয়ী ইন্টারনেট: বাজারের অন্যান্য অপারেটরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে ইন্টারনেট প্যাকেজ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ ‘স্টুডেন্ট প্যাকেজ’।
  • লোভনীয় কলরেট: যেকোনো অপারেটরে কথা বলার জন্য থাকবে সর্বনিম্ন কলরেট। এছাড়াও বিটিসিএল টু বিটিসিএল কথা বলা যাবে প্রায় বিনামূল্যে।
  • মেয়াদহীন প্যাকেজ: ডাটা বা মিনিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা দূর করতে এই সিমে ‘আনলিমিটেড ভ্যালিডিটি’ বা দীর্ঘমেয়াদী প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
  • দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক: যেহেতু এটি বিদ্যমান শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে, তাই দেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও ফোর-জি (4G) স্পিড পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকছে।

ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে এক বড় ধাপ

শহর এবং গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেটের গতির যে পার্থক্য বা ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ রয়েছে, তা কমিয়ে আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ফ্রিল্যান্সার যারা গ্রামে বসে কাজ করেন কিন্তু ভালো ইন্টারনেটের অভাবে সমস্যায় পড়েন, তাদের জন্য বিটিসিএল বাজেট সিম আশীর্বাদ হয়ে আসবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে ইন্টারনেটকে পানির মতো সহজলভ্য করতে হবে। এই সিম কার্ডটি সেই লক্ষ্যপূরণেই একটি বড় হাতিয়ার। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ই-কমার্স সেবা আরও দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

সিমটি কোথায় পাওয়া যাবে?

প্রাথমিকভাবে বিটিসিএল-এর সকল আঞ্চলিক অফিস এবং নির্দিষ্ট কিছু কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে এই সিম সংগ্রহ করা যাবে। খুব শীঘ্রই দেশের সব মোবাইল রিচার্জের দোকানেও এই সিম পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। সিমটি কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হবে, ঠিক যেমনটি অন্য সিমের ক্ষেত্রে হয়।


টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি করতে এবং গ্রাহকদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিতে সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এখন দেখার বিষয়, গ্রাহক পর্যায়ে এই সেবা কতটা নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!