বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মানুষের মনে প্রশ্ন, তিনি কি সত্যিই কখনো ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আসিফের কৈশোর ও তারুণ্যের ক্রিকেট স্মৃতিতে। কুমিল্লার মাঠে একসময় তিনি ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল এক ক্রিকেট অলরাউন্ডার, যিনি স্কুল থেকে শুরু করে জেলা ও যুবদল পর্যন্ত খেলেছেন নানা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।
ক্রিকেটে প্রথম প্রেম: কুমিল্লার মাঠ থেকে যাত্রা
১৯৮০ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্রথমবার কুমিল্লা ইউনিয়ন ক্লাব বনাম ইগলেস ক্লাবের খেলা দেখেই ক্রিকেটের প্রেমে পড়েন আসিফ। পরে পাড়াভিত্তিক খেলায় অংশ নিতে নিতে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন কুমিল্লার অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার।
১৯৮৮ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুলের হয়ে নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নেন তিনি। সেখানেই তার ব্যাটিং-বোলিং দক্ষতা নজরে আসে। ১৯৮৯ সালে তার অধিনায়কত্বেই কুমিল্লা জিলা স্কুল প্রথমবার শিরোপা জেতে।
নজরকাড়া পারফরম্যান্স
- ১৯৮৮ সালে কুমিল্লা হাইস্কুলের বিপক্ষে মাত্র এক ওভারে ২৩ রান তুলে সবাইকে চমকে দেন।
- ১৯৮৯ সালে কুমিল্লা ক্রিকেট লীগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৫৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয়ে অবদান রাখেন।
- ১৯৯১ সালে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে ২৭ রানে ৬ উইকেট তুলে নেন, যা ছিল তার সেরা বোলিং রেকর্ড।
- চট্টগ্রামের বার্ডস বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হয়ে অভিষেকে করেন ৭৮ রান ও নেন ৪ উইকেট, যা আজও তার ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়।
কুমিল্লা যুবদল ও জেলা দলের স্মৃতি
১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা জেলা যুব ক্রিকেট দলে নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন আসিফ। জাতীয় যুব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যাট-বল হাতে একাধিক ম্যাচ জিতিয়েছেন। এমনকি ফাইনাল রাউন্ডে একমাত্র হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডও তার দখলে।
তবে এত সাফল্যের পরও জেলা যুবদল বা সিনিয়র দলে অধিনায়কত্ব না পাওয়াটা আজও তার কাছে দুঃখের স্মৃতি।
সংগঠন ও নেতৃত্বে আসিফ
শুধু খেলোয়াড়ই নন, তিনি ছিলেন কুমিল্লা ক্রিকেটার্স একাডেমির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। একদিকে নিজের খেলা, অন্যদিকে কোচিং ও দল গঠনে তার অবদান ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার অধিনায়কত্বে বিভিন্ন ক্লাব ৭ বার কুমিল্লা লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়।
পরিবার ও শিক্ষা
কুমিল্লা আদালত পাড়ার সন্তান আসিফের বাবা ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আকবর এবং মা রোকেয়া আকবর ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সময় গণসংগীত দলের সদস্য। আসিফ কুমিল্লা জিলা স্কুল, ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ক্রিকেট থেকে সংগীতে
১৯৯২ সালের পর বিয়ের কারণে এবং উচ্চশিক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য ক্রিকেটকে বিদায় জানান আসিফ। তবে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি তার টান কখনো কমেনি। সংগীতশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় হলেও কুমিল্লার ক্রিকেট তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।
ক্রিকেটার আসিফ হয়তো জাতীয় দলে খেলতে পারেননি, তবে তার ভেতরের সেই লড়াকু স্পিরিট আজও তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একসময় যিনি কুমিল্লার মাঠে ব্যাট-বলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনিই আজ সংগীত জগতে বাংলাদেশকে দিয়েছেন অসংখ্য হিট গান। এবার ক্রিকেট প্রশাসনেও তার নতুন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।








