বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আবারও দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে এর জন্য তিনি সরকারের কাছে একটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছেন। ভারতের মুম্বাইয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছেন, উপযুক্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং আইনি হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি পেলে তিনি আগামী দুই দিনের মধ্যেই দেশে ফিরতে প্রস্তুত।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম’ লিগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাকিব। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, নিজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা এবং ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
আইনি লড়াইয়ে প্রস্তুত সাকিব
সাকিব আল হাসান স্পষ্ট করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো তিনি আইনিভাবেই মোকাবিলা করতে চান। তিনি বলেন, “আমি ফিরবো, কোর্টে যাবো, মামলা লড়বো। কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে।”
সাকিবের দাবি, তিনি ভিআইপি নিরাপত্তা চাচ্ছেন না, বরং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন স্বাভাবিক নিরাপত্তা চান। তিনি বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি করা হবে না— এটুকু গ্যারান্টি কালকে দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।”
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মামলার জটিলতা
সাক্ষাৎকারে সাকিব তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (বন্ধ) থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় তিনি ছোটখাটো চেক বাউন্সের মামলাগুলোও নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। সাকিব দাবি করেন, গত দেড় বছর ধরে তদন্ত চললেও তার বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কেন গত অক্টোবরে ফেরা হয়নি
২০২৪ সালের অক্টোবরে সাকিবের দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাকিব বলেন, “সবকিছু ঠিকঠাক আছে জেনেই প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশে যাচ্ছিলাম।”
তবে দুবাইয়ে ট্রানজিটের সময় তাকে ফোন করে জানানো হয় যে পরিস্থিতিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে এবং তার না আসাই ভালো হবে। সেই ফোন পেয়েই দুবাই থেকে পুনরায় ফিরে যেতে বাধ্য হন এই ক্রিকেটার।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
সাকিব আল হাসান বর্তমানে দেশের বাইরে বিভিন্ন লিগে অংশ নিচ্ছেন। তবে তার মন যে দেশের মাটিতে ফেরার জন্য ব্যাকুল, তা এই সাক্ষাৎকারে ফুটে উঠেছে। তিনি মনে করেন, একজন ক্রিকেটার হিসেবে দেশের মানুষের সামনে মাঠে নামার অধিকার তার রয়েছে এবং সরকার যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তবেই সেটি সম্ভব।
সাকিবের দেশে ফেরা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আইনি গ্যারান্টি এবং প্রশাসনের সদিচ্ছার ওপর। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে আবারও দেশের মাটিতে দেখা যাবে কিনা, তা সময়ের ওপরই ছেড়ে দিতে হচ্ছে।








