হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআর্ন্তজাতিকনেতানিয়াহু নয়, ইসরাইলের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন ট্রাম্প!
spot_img

নেতানিয়াহু নয়, ইসরাইলের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন ট্রাম্প!

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইসরাইলের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আর তেল আবিব থেকে নয়, বরং সরাসরি ওয়াশিংটন থেকে নেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সাথে নিয়ে ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে বড় জয়ের স্বপ্ন দেখলেও, সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।

আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এখন নেতানিয়াহুর একক কোনো কর্তৃত্ব নেই। বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সংকেত মেনেই ইসরাইলকে সামনের দিকে এগোতে হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের কবজায় যুদ্ধের চাবিকাঠি

যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে পেয়ে তিনি একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন। কিন্তু বর্তমানে ইসরাইলি রাজনৈতিক মহলে এই আলোচনা তুঙ্গে যে, লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় ঘটেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এসেছে এবং ইসরাইল তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এখন শঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছে যে, এই সংঘাত একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।

নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা তলানিতে

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর অবস্থান সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। একাধিক জনমত জরিপে দেখা গেছে:

  • নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
  • সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ আর নিতে চাচ্ছে না।
  • বড় সিদ্ধান্তগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের শঙ্কা

ইসরাইলি সমরবিদদের মতে, যুদ্ধের চাবিকাঠি এখন পুরোপুরি মার্কিন প্রশাসনের হাতে চলে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে এখন ওয়াশিংটনের সংকেতের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই ইসরাইল এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে মার্কিন সহযোগিতা ছাড়া তাদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগামীর ভূমিকা এবং ওয়াশিংটনের নীতিই নির্ধারণ করে দেবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ সুগম হবে নাকি সংঘাত আরও প্রলম্বিত হবে। নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ইমেজের চেয়ে এখন ‘মার্কিন স্বার্থ’ই ইসরাইলের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।


মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সমীকরণে নেতানিয়াহু এখন একজন আজ্ঞাবহ নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, যেখানে পর্দার আড়াল থেকে মূল নিয়ন্ত্রণভার পরিচালনা করছে ওয়াশিংটন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!