পর্তুগালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সবসময়ই নতুন কিছু শিখতে এবং চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। ২০২৩ সালের শুরুতে ইউরোপীয় ফুটবলের পাঠ চুকিয়ে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি খবরের শিরোনামে। এবার তাকে নিয়ে এক অবিশ্বাস্য তথ্য ফাঁস করেছেন তার সাবেক সতীর্থ।
সৌদি সংস্কৃতি ও রোনালদো
মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে পা রাখার পর থেকেই রোনালদো সেখানকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে গেছেন। কখনও তাকে সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘জোব্বা’ পরে উৎসবে যোগ দিতে দেখা গেছে, আবার কখনও তাকে আরবী শব্দ ব্যবহার করতে শোনা গেছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল গত রমজানে তার রোজা রাখার বিষয়টি।
দুই দিন রোজা রেখেছিলেন সিআর সেভেন (CR7)
আল নাসরের সাবেক ফুটবলার শায়ে শারাহিলি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রোনালদোকে নিয়ে এক গোপন তথ্য শেয়ার করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের সংস্কৃতি এবং রোজার অভিজ্ঞতা সরাসরি অনুভব করার জন্য গত রমজানে টানা ২ দিন রোজা রেখেছিলেন রোনালদো। শারাহিলি জানান:
“মুসলিম না হয়েও ব্যক্তিগত কৌতূহল থেকে রোনালদো গত বছর রমজানে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন এই দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার অনুভূতি কেমন।”
পেশাদার ফুটবলে রোজার চ্যালেঞ্জ
‘থমানইয়াহ স্পোর্টস’-এর সাথে আলাপকালে শারাহিলি আরও জানান যে, বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য রোজা রেখে খেলা বা অনুশীলন করা কতটা কঠিন। তার মতে, আরব খেলোয়াড়রা ছোটবেলা থেকে অভ্যস্ত হলেও বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য খাবার, ঘুম এবং রুটিন ঠিক রাখা বেশ কষ্টসাধ্য।
রোনালদোর অভিজ্ঞতা নিয়ে শারাহিলি বলেন, “দুই দিন রোজা রাখার পরই তিনি বুঝতে পারেন, রোজা রেখে একজন পেশাদার ফুটবলারের অমানুষিক ব্যস্ততা সামলানো মোটেও সহজ কাজ নয়।”
স্বাস্থ্য সচেতন রোনালদোর নতুন পরীক্ষা
রোনালদো নিজের ফিটনেস নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। শারাহিলি জানান, অনেক বিদেশি খেলোয়াড় মনে করেন রোজা রাখা শরীরের জন্য উপকারী (Intermittent Fasting-এর মতো)। রোনালদোও সম্ভবত সেই উপকারিতা এবং ধর্মীয় কৌতূহল থেকেই এই পরীক্ষাটি করেছিলেন। তবে রোজার কঠোর নিয়ম পালন করা যে কতটা ধৈর্যের ব্যাপার, তা তিনি হাড়হাড়েই টের পেয়েছেন।








