স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের প্রিয় ও জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদান মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রতিদিন এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন। এতদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন কারও সাথে যোগাযোগ করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন হতো ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর। কিন্তু এতে করে অপরিচিত ব্যক্তি কিংবা বিশাল কোনো গ্রুপ চ্যাটে নিজের ফোন নম্বর প্রকাশ পাওয়ার একটা বড় ঝুঁকি থাকত।
ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি ও গোপনীয়তার এই চিরচেনা দুশ্চিন্তা দূর করতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে মেটা। ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের মতোই এখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপেও চালু হচ্ছে ইউনিক বা অনন্য ‘ইউজার নেম’ (Username) সুবিধা। অর্থাৎ, কাউকে মেসেজ পাঠাতে বা চ্যাট শুরু করতে আর নম্বর শেয়ার করতে হবে না, শুধু ইউজার নেমটি দিলেই হবে!
ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ধাপে ধাপে ফিচারটি চালুর প্রক্রিয়া ও ইউজার নেম বুকিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই নতুন সুবিধার বিস্তারিত।
নম্বর গোপন থাকবে, কথা হবে ইউজার নেমে
হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এক ধাপ বেড়ে গেল। হোয়াটসঅ্যাপের প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এটি ডিজাইন করা হয়েছে।
- অ্যাাকাউন্ট খোলা: অ্যাপে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য আগের মতোই মোবাইল নম্বর লাগবে।
- যেভাবে যোগাযোগ হবে: অ্যাকাউন্ট তৈরি হলেও অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে আপনার মোবাইল নম্বরটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকবে। তারা শুধু আপনার বেছে নেওয়া ‘ইউজার নেম’টি দেখতে পাবেন।
- ইউজার নেম পরিবর্তন: ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় তাদের পছন্দমতো ইউজার নেম পরিবর্তন করতে পারবেন বা চাইলে একদম মুছেও ফেলতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপে ইউজার নেম তৈরির নিয়মাবলী
যেকোনো শব্দ দিয়ে ইচ্ছা মতো ইউজার নেম তৈরি করা যাবে না। প্রতারণা ও বিভ্রান্তি এড়াতে হোয়াটসঅ্যাপ বেশ কিছু শক্ত নিয়ম বেঁধে দিয়েছে:
- শব্দসীমা: ইউজার নেমটি সর্বনিম্ন ৩ এবং সর্বোচ্চ ৩৫ অক্ষরের মধ্যে হতে হবে।
- যা যা ব্যবহার করা যাবে: ছোট হাতের ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা, ফুলস্টপ (.) এবং আন্ডারস্কোর (_) ব্যবহার করে নাম তৈরি করা যাবে।
- ইংরেজি অক্ষরের বাধ্যবাধকতা: শুধু সংখ্যা বা প্রতীক দিয়ে কোনো ইউজার নেম হবে না; নামে অন্তত একটি হলেও ইংরেজি অক্ষর থাকতে হবে।
- যা করা যাবে না: কোনো ইউজার নেম ‘www.’ দিয়ে শুরু করা যাবে না এবং নামের শেষে ডোমেইন যুক্ত করা নিষিদ্ধ।
- সংরক্ষিত নাম: পরিচিত ব্যক্তিত্ব, তারকা বা সরকারি কর্মকর্তাদের নামে যাতে কেউ ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করতে না পারে, সেজন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ ইউজার নেম আগে থেকেই ব্লক ও সংরক্ষণ করে রাখছে মেটা।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সাথে ইউজার নেম মেলানোর উপায়
আপনার যদি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ইতিমধ্যে একটি পপুলার ইউজার নেম থাকে, তবে সেটিই হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য মেটার ‘অ্যাকাউন্টস সেন্টার’ (Accounts Center)-এর মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টগুলো যুক্ত করে মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।
তবে মনে রাখতে হবে, কাঙ্ক্ষিত ইউজার নেমটি যদি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে অন্য কেউ আগে থেকে ব্যবহার করে থাকে, তবে হোয়াটসঅ্যাপে ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও আপনি সেটি দাবি করতে পারবেন না।
সাইবার নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি সম্পর্কিত বিষয়সমূহ
মেটা জানিয়েছে, তথ্য আদান-প্রদানে আগের মতোই শক্তিশালী এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু থাকবে। তবে এই ইউজার নেম সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইউজার নেম কি’ (Username Key) নামের একটি বিশেষ কোড ব্যবস্থা।
এই সুবিধা চালু থাকলে, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি যদি আপনার নির্দিষ্ট ইউজার নেম এবং ওই বিশেষ গোপন কোডটি না জানে, তবে সে প্রথমবার আপনাকে মেসেজ পাঠাতে পারবে না। এতে করে স্প্যাম মেসেজ ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতারণা অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়া পূর্বের ন্যায় যেকোনো অ্যাকাউন্টে ব্লক বা রিপোর্ট করার অপশন তো থাকছেই।
কীভাবে চেক করবেন আপনার অ্যাকাউন্টে সুবিধাটি এসেছে কি না?
ফিচারটি পর্যায়ক্রমে সকল স্মার্টফোনে দেওয়া হচ্ছে। আপনার ফোনে সুবিধাটি চালু হয়েছে কি না তা জানতে:
১. হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল সেটিংসে (Settings) প্রবেশ করুন।
২. প্রোফাইল নামের নিচে ‘Username’ নেওয়ার নতুন কোনো অপশন যুক্ত হয়েছে কি না দেখুন।
৩. ইউজার নেম বুকিংয়ের পুরো কাজটি কেবল মোবাইল অ্যাপ থেকেই সম্পন্ন করা যাবে।
মোবাইল নম্বর গোপন রেখে চ্যাট করার এই নতুন সুবিধাটি নিঃসন্দেহে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়িক কাজে কিংবা বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটিতে যুক্ত থাকেন, তারা নিজেদের ব্যক্তিগত নম্বর নিরাপদ রেখেই এখন নিশ্চিন্তে যোগাযোগ চালাতে পারবেন।








