আজকালের দিনে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিন প্রচুর ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও ও দরকারি ফাইল আদান-প্রদান হয়। কিন্তু অনেক সময় ফোনটি অন্য কারো হাতে গেলে বা বন্ধু-বান্ধব ব্যবহার করলে মনের ভেতর একধরনের ভয় কাজ করে সব চ্যাট বুঝি দেখে ফেলল!
ব্যবহারকারীদের এই সিকিউরিটি বা গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে এসেছে ‘চ্যাট লক’ নামে একটি দুর্দান্ত নিরাপত্তা সুবিধা। এই ফিচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো চ্যাট সাধারণ ইনবক্স থেকে সরিয়ে একেবারে সুরক্ষিত একটি ফোল্ডারে লুকিয়ে রাখা যায়।
আজ আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট লক ফিচার ব্যবহার করবেন এবং আপনার ব্যক্তিগত তথ্যকে ১০০% নিরাপদ রাখবেন।
১. হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট লক ফিচার আসলে কী?
‘চ্যাট লক’ হলো হোয়াটসঅ্যাপের এমন একটি বিশেষ টুল, যা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গ্রুপের কথোপকথন আপনার সাধারণ চ্যাট লিস্ট থেকে আলাদা করে ফেলা যায়।
- সুরক্ষিত ফোল্ডার: লক করা মেসেজগুলো ‘লকড চ্যাটস’ (Locked Chats) নামের একটি ফোল্ডারে জমা থাকে।
- বায়োমেট্রিক ও সিক্রেট কোড: ফেস আইডি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আপনার নিজস্ব পাসকোড ছাড়া এই ফোল্ডার খোলা সম্ভব নয়।
- সম্পূর্ণ আড়াল: অন্য কেউ আপনার ফোন হাতে পেলেও সহজে এই চ্যাটগুলোর খোঁজ পাবে না।
২. কীভাবে চ্যাট লক চালু ও বন্ধ করবেন?
যেকোনো চ্যাট খুব সহজেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিকিউরড বা লক করে ফেলা সম্ভব।
চ্যাট লক চালু করার নিয়ম:
- প্রথমে যে ব্যক্তির চ্যাট লক করতে চান, সেই চ্যাটটি ওপেন করুন।
- উপরে থাকা নাম বা প্রোফাইল অপশনে ট্যাপ করুন।
- নিচে স্ক্রল করে ‘চ্যাট লক’ (Chat Lock) অপশনটি সিলেক্ট করুন।
- আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি বা পিন কোড নিশ্চিত করলেই সেটি ‘Locked Chats’ ফোল্ডারে চলে যাবে।
চ্যাট আনলক করার নিয়ম: একই পদ্ধতিতে চ্যাট সেটিংস অপশনে গিয়ে ‘Chat Lock’ অপশনটি অফ করে দিলেই কথোপকথন আবার আগের মতো সাধারণ তালিকায় ফিরে আসবে।
৩. নোটিফিকেশন থাকবে একদম নিরাপদ
চ্যাট লক ফিচারের অন্যতম সুবিধাজনক দিক হলো বার্তা বা মেসেজের প্রাইভেসি।
- মেসেজ গোপন থাকা: সাধারণত চ্যাট লক করা থাকলে নতুন কোনো বার্তা এলেও নোটিফিকেশনে সেটি পড়া যায় না।
- প্রাইভেসির নিশ্চয়তা: ফোনের স্ক্রিন অন থাকা অবস্থায় কোনো মেসেজ এলে আশেপাশের মানুষ তা দেখতে পাবে না।
৪. সিক্রেট কোড দিয়ে ফোল্ডার লুকিয়ে রাখার কৌশল
শুধু চ্যাট লক করাই নয়, হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে ‘সিক্রেট কোড’ (Secret Code) ব্যবহারের অবিশ্বাস্য সুবিধা। এতে লক করা ফোল্ডারটিকেই লুকিয়ে রাখা যায়!
- অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন উভয়েই প্রযোজ্য: চ্যাট লকের ভেতরের সেটিংসে গিয়ে আপনি একটি গোপন শব্দ বা কোড তৈরি করতে পারেন।
- যেভাবে খুঁজবেন: সিক্রেট কোড ব্যবহার করলে হোয়াটসঅ্যাপে ‘Locked Chats’ ফোল্ডারটি দেখাবেই না। চ্যাটটি দেখতে হলে হোয়াটসঅ্যাপের মূল সার্চ বক্সে গিয়ে আপনার সেই নির্দিষ্ট কোডটি লিখতে হবে।
৫. কল আসার ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, চ্যাট লক করলে কি সেই ব্যক্তির কল দেখাবে?
- উত্তর হলো—না, চ্যাট লক করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ কল আসা বন্ধ হয় না।
- অর্থাৎ উক্ত ব্যক্তি কল দিলে আপনি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলতে বা কল রিসিভ করতে পারবেন। এই সিকিউরিটি ফিচারটি মূলত চ্যাট বা লেখার আদান-প্রদান গোপন রাখার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
৬. নতুন ফোন বা ব্যাকআপ নিলে কি চ্যাট নিরাপদ থাকবে?
আপনি যদি ফোন পরিবর্তন করেন কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ অন্য ডিভাইসে রিস্টোর (Restore) করেন, তবুও লক করা চ্যাটগুলো সুরক্ষিতই থাকবে।
নতুন ডিভাইসে ডাটা ফ্রি আসার পর সেগুলো আগের মতোই ‘লকড’ অবস্থায় পাওয়া যাবে। ফলে ডিভাইস পরিবর্তনের পর তথ্য ফাঁস হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
চ্যাট সুরক্ষিত রাখতে অতিরিক্ত কিছু নিরাপত্তা টিপস
- লেটেস্ট আপডেট: হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ ও আপডেট করা সংস্করণ ব্যবহার করুন।
- শক্তিশালী স্ক্রিন লক: আপনার ফোনে সবসময় শক্তিশালী প্যাটার্ন বা পিন লক ব্যবহার করুন।
- টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন: হোয়াটসঅ্যাপের Two-Step Verification ফিচারটি চালু রাখুন যাতে একাউন্ট হ্যাক না হয়।
ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রাইভেসির নিরাপত্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট লক ফিচার আমাদের দৈনন্দিন বার্তাপ্রেরণকে করেছে অনেক বেশি নিশ্চিন্ত ও ঝুঁকিমুক্ত। আপনিও যদি এখনো এই চমৎকার সুবিধাটি চালু না করে থাকেন, তবে আজই নিজের গুরুত্বপূর্ণ চ্যাটগুলো সিক্রেট কোড বা পাসকোড দিয়ে সুরক্ষিত করে নিন।








