দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। এই প্রক্রিয়ায় যশোর-২ সংসদীয় আসনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীসহ মোট চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি, যেমন ঋণ খেলাপি তথ্য, দলীয় মনোনয়নের অভাব এবং তথ্যে গরমিল থাকায় তাদের প্রার্থিতা প্রাথমিকভাবে নাকচ করা হয়েছে।
আজ সকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলাকালে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এই বাতিলের ঘোষণা দেন।
জামায়াত প্রার্থীর ক্রেডিট কার্ড জটিলতা
যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিলের মূল কারণ হিসেবে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার কথা জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স না থাকায় রিটার্নিং অফিসার তার প্রার্থিতা বাতিল করেন।
সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের নামে প্রায় ২০ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া টাকা উল্লেখ রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে তিনি বকেয়া পরিশোধ করেছেন এবং তার প্রমাণপত্রও দাখিল করেছেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না দেখানোয় মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আপিলের সুযোগ ও সম্ভাবনা
তবে এই বাতিলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের সামনে নির্বাচনী আপিল আদালতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। যেহেতু তিনি বকেয়া টাকা পরিশোধের প্রমাণ দেখিয়েছেন, তাই আপিলে যথাযথ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারলে তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল
জামায়াত প্রার্থীর পাশাপাশি একই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহকের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। তার বাতিলের প্রধান কারণ হলো তিনি দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।
এছাড়াও আরও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কপাল পুড়েছে যাচাই-বাছাইয়ে:
- স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকায় গরমিল পাওয়া গেছে।
- আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল হকের বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র বাতিলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছে।
যশোর-১ আসনে সংশোধনের সুযোগ
অন্যদিকে, যশোর-২ আসনের পাশাপাশি যশোর-১ সংসদীয় আসনেরও আপডেট পাওয়া গেছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির ও শাজাহান গোলদারের মনোনয়নপত্র এখনই সরাসরি বাতিল করা হয়নি। তাদের জমাকৃত তথ্যাদিতে কিছু ঘাটতি বা ত্রুটি থাকায় তা সংশোধনের জন্য সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারা আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই তথ্য সংশোধনের সময় পাবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বোঝা যাবে শেষ পর্যন্ত কারা ভোটের মূল লড়াইয়ে টিকে থাকবেন।








