হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Thursday, August 13, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআর্ন্তজাতিকইরানের হুমকিতে খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে বিমান পরিবর্তনের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
spot_img

ইরানের হুমকিতে খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে বিমান পরিবর্তনের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ইরানের প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার পথে এক অভিনব ও গোপন কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এমন আলোড়ন সৃষ্টিকারী তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, তুরস্ক থেকে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রথমে স্বাভাবিক নিয়মেই সবার সামনে ট্র্যাপ বেয়ে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। তবে বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই ঘটে এক নাটকীয় ঘটনা। সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাকে বিমানের পেছনের দরজা দিয়ে বের করে একটি খাবারের ক্যাটারিং ট্রাকের (Catering Truck) ভেতরে গোপনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ট্রাকটির সাহায্যে তাকে রানওয়েতে থাকা অন্য একটি ছোট গোপন সামরিক বিমানে (এয়ার ফোর্স সি-৩২এ) তুলে নেওয়া হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ইরান থেকে আসা অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ও মারাত্মক এক হুমকির খবর পাওয়ার পরই মার্কিন গোয়েন্দারা এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন।

সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্ত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পুরো সিদ্ধান্তটি মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নেওয়া ছিল এবং তিনি কেবল তাদের নিরাপত্তা নির্দেশাবলী মেনে চলেছেন।

ওহাইও সফর শেষে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন:

“পুরো বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই সিক্রেট সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ করেছে। তারা যা করতে নির্দেশ দেয়, আমি কেবল সেটাই মেনে চলি। সামরিক বাহিনী ও সিক্রেট সার্ভিস চেয়েছিল আমি যেন সুরক্ষার তাগিদে একটি ভিন্ন বিমানে যাত্রা করি। দুটি বিমানই নিরাপদ ছিল, তবে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাকে অন্যটিতে যেতে হয়েছিল, তাই আমি গিয়েছি।”

‘প্রভাবশালী প্রেসিডেন্টদেরই বেশি হুমকি দেওয়া হয়’

ইরান থেকে আসা হুমকির তীব্রতা বা ধরণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জানান, তিনি গোয়েন্দাদের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জিজ্ঞেস করেননি। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।

নিজেকে একজন অত্যন্ত ‘প্রভাবশালী ও সফল প্রেসিডেন্ট’ দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন:

“আমাকে ঘিরে এমন অসংখ্য আন্তর্জাতিক হুমকি আসে, যা সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম জানতেও পারে না। যে কোনো প্রভাবশালী ও শক্তিশালী প্রেসিডেন্টকেই এমন হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। যেসব প্রেসিডেন্ট দুর্বল বা নিষ্ক্রিয়, তাদের কেউ হুমকি দেয় না। গত ছয় বছরে আমি যতটা কাজ করেছি, তা আর কোনো প্রেসিডেন্ট করতে পারেনি।”

তবে এসব জীবননাশের হুমকি তাকে কোনোভাবে বিচলিত বা ভীত করতে পারে না উল্লেখ করে ট্রাম্প যোগ করেন, “সত্যি বলতে আমি এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন নই। আমার মনোভাব সবসময়ই পরিষ্কার কপালে যা লেখা আছে, তাই হবে।”

অন্ধকারে ছিলেন বিমানে থাকা সাংবাদিকরা

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে আরও একটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য তুলে ধরা হয়। এই পুরো অপারেশনের সময় ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানের আলাদা অংশে অবস্থানরত প্রায় ডজনখানেক প্রভাবশালী মার্কিন সাংবাদিক একেবারেই অন্ধকারে ছিলেন। ট্রাম্প গোপন বিমানে চড়ে চম্পট দিলেও, ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির মধ্যেই মূল বিমানটিতে করে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাবর্তন করেন ওই সাংবাদিকরা।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যে কতটা চড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই গোপন বিমান পরিবর্তনের ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। ইরানের এই নতুন হুমকির পর হোয়াইট হাউজ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা বহরে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!