নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই নেত্রকোনা সদর উপজেলায় অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চারটি ভোটকেন্দ্রে একযোগে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। মূলত ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যেসব কেন্দ্রে আগুনের ঘটনা ঘটেছে
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা সুপরিকল্পিতভাবে চারটি পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (ভোটকেন্দ্র) আগুন ধরিয়ে দেয়:
১. পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পৌর শহর)
২. লাইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৩. বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৪. দরিজাগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
যেভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়
জানা গেছে, গভীর রাতে পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে আসেন এবং নিজস্ব প্রচেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। পর্যায়ক্রমে অন্য তিনটি কেন্দ্রেও আগুনের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়দের সাহসিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে কেন্দ্রগুলো। তবে আগুনে কয়েকটি বেঞ্চ ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
মঙ্গলবার সকালে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত আসবাবপত্র সরিয়ে কেন্দ্রগুলো পুনরায় প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ছিল দুর্বৃত্তদের মূল উদ্দেশ্য। আমরা ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি
এদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আসমা বিনতে রফিক পাঠকদের আশ্বস্ত করে জানান, কেন্দ্রগুলোর কাঠামোগত কোনো বড় ক্ষতি হয়নি। নির্বাচনী কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।








