শনিবার মধ্যরাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। মাত্র ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে পরপর তিনটি এবং ভোরে আরও একটি মোট চারবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে সারাদেশে। হঠাৎ এমন দফায় দফায় কেঁপে ওঠায় অনেক এলাকার মানুষ ভয় ও আতঙ্কে মধ্যরাতেই বাড়িঘর ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মূলত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এবং ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে ছিল।
মাত্র ৭৫ মিনিটে পরপর ৩ ভূকম্পন: কোথায় কখন ঘটল?
শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রথম তিনটি ভূমিকম্প ঘটে। সীমান্ত এলাকায় উৎপত্তিস্থল হলেও এর শক্ত কম্পন বাংলাদেশের বহু জেলায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
১. মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত (রাত ১২টা ১২ মিনিট)
সবচেয়ে প্রথম আঘাতটি আসে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) হিসাব অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৯। এই ভূমিকম্পের প্রভাবে কক্সবাজার, টেকনাফ এবং পর্যটন ও সীমান্ত শহর চট্টগ্রামসহ পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়।
২. ভারতের মিজোরামের লুংলেই (রাত ১২টা ১৩ মিনিট)
মিয়ানমারের ভূমিকম্পটির আঘাতের ঠিক এক মিনিট পর রাত ১২টা ১৩ মিনিটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুংলেই এলাকায় আরেকটি শক্ত ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.০। এর প্রভাব ছিল বেশ তীব্র। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় এতে প্রবল ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।
৩. ভারতের ত্রিপুরার ডালাই এলাকা (রাত ১টা ২৭ মিনিট)
প্রথম দুটি ভূমিকম্পের পর আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই রাত ১টা ২৭ মিনিটে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা ও ডালাই এলাকায় রিখটার স্কেলে ৩.৮ মাত্রার তৃতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্যেও এই খবর নিশ্চিত করা হয়। এর প্রভাবে দেশের রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়।
ভোরে ৪.৮ মাত্রার চতুর্থ ভূকম্পন
মধ্যরাতের তিন দফায় কাঁপুনির ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই রবিবার ভোরে ঘটে চতুর্থ ভূকম্পনটি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৪টার দিকে ৪.৮ মাত্রার একটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়।
এই ভূকম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪৪৩ কিলোমিটার দূরে। তবে শেষ রাতের এই ভূকম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
জনমনে আতঙ্ক ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
পরপর এত কম সময়ের মধ্যে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নিচে নেমে আসেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও এর আশপাশের সীমান্ত অঞ্চলগুলো বেশ কিছু সক্রিয় টেকটোনিক ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। ফলে মিয়ানমার এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (যেমন মিজোরাম ও ত্রিপুরা) ভূমিকম্প হলে তার কম্পন খুব সহজেই বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। একই দিনে ছোট ছোট একাধিক ভূমিকম্প বড় কোনো ভূকম্পনের পূর্বাভাস নাকি স্বাভাবিক শক্তি নির্গমন, তা নিয়ে সিসমোলজিস্টরা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।








