বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র চার মাস বাকি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে বসতে যাওয়া ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-কে সামনে রেখে এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা। এই আসরে সবার নজর বরাবরের মতোই লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিলের দিকে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার নামছে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপার মিশনে। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এরই মধ্যে ব্রাজিলের স্কোয়াড একটি শক্তিশালী রূপ পেতে শুরু করেছে।
আনচেলত্তির গুড বুকে যারা: নিশ্চিত ১১ জন
সম্প্রতি সিবিএফ-এর এক অনুষ্ঠানে কোচ আনচেলত্তি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছেন তিনি। ইএসপিএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মে মাসে দল ঘোষণার সময় যে ১১ জন তারকার জায়গা প্রায় নিশ্চিত, তারা হলেন:
- গোলকিপার: অ্যালিসন বেকার (লিভারপুল)
- ডিফেন্ডার: মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াঁইস।
- মিডফিল্ডার: অভিজ্ঞ কাসেমিরো ও বর্তমান সময়ের সেরা ব্রুনো গিমারায়েস।
- ফরোয়ার্ড: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এস্তেভাও, রাফিনিয়া, রদ্রিগো, ম্যাথেউস কুনিয়া এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি।
স্কোয়াডের বাকি পজিশনে লড়াই
২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ভারসাম্য আনতে আরও ১৫ জন খেলোয়াড়কে বেছে নিতে হবে কোচকে। আনচেলত্তির পরিকল্পনা অনুযায়ী দলে থাকবেন ৩ জন গোলকিপার, ৪ জন ফুলব্যাক, ৫ জন সেন্টারব্যাক, ৪-৫ জন মিডফিল্ডার এবং ৯-১০ জন ফরোয়ার্ড।
রক্ষণে নতুন মুখ: সেন্টারব্যাকে বাঁ-পায়ের ডিফেন্ডার হিসেবে ফ্লামেঙ্গোর লেও পেরেইরাকে নিয়ে বেশ আগ্রহী আনচেলত্তি। এছাড়া এদার মিলিতাও-এর ফিটনেস ফুল-ব্যাক পজিশনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
আক্রমণভাগে তুমুল প্রতিযোগিতা: ৯ নম্বর পজিশন বা মূল স্ট্রাইকার হিসেবে ম্যাথেউস কুনিয়ার জায়গা অনেকটা নিশ্চিত হলেও সেখানে লড়াই করছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস, তরুণ সেনসেশন এন্দ্রিক, জোয়াও পেদ্রো এবং লুইজ হেনরিক।
বড় প্রশ্ন: নেইমার কি থাকছেন
ব্রাজিল ফুটবলের বর্তমান পোস্টার বয় নেইমারকে নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা চোট কাটিয়ে পুনর্বাসনে আছেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “নেইমার যদি শতভাগ ফিট হন, তবেই তাকে দলে নেওয়া হবে।” ভক্তদের বিশ্বাস, নেইমারের উপস্থিতি ব্রাজিলের হেক্সা মিশনকে অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল করে তুলবে।
বিশ্বকাপের রোডম্যাপ
আগামী মে মাসে চূড়ান্ত ২৬ জনের তালিকা প্রকাশ করবে সিবিএফ। এরপরই শুরু হবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। লাতিন অঞ্চলের বাছাইপর্বে চড়াই-উতরাই পার করা ব্রাজিল এখন মূল আসরে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে। আনচেলত্তির হাত ধরে ব্রাজিল কি পারবে ২০০২ সালের পর দীর্ঘ খরা কাটিয়ে সোনালী ট্রফিটি ঘরে তুলতে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।








