সমাজের অবহেলা আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মানুষটিকে দেখ (See The Person)’ এবার ঢাকার শ্যামলী সিনেমা হলে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ মে থেকে শ্যামলী স্কয়ারের এই সিনেমা হলে প্রতিদিন চারটি শো দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গাজী রাকায়েতের পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
শ্যামলী সিনেমা হলের শিডিউল
১৫ মে থেকে শ্যামলী সিনেমা হলে প্রতিদিন নিচের সময়ে সিনেমাটি দেখা যাবে:
- দুপুর ১২টা
- দুপুর ২টা ৪০ মিনিট
- বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট
- রাত ৮টা
উল্লেখ্য যে, সিনেমাটি বর্তমানে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ‘যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমা’তে প্রতিদিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রদর্শিত হচ্ছে।
নির্মাণের নেপথ্যে ও মূল গল্প
সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-এর অর্থায়নে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছেন হুমায়ূন ফরিদ। সিনেমার মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী কিন্তু মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ়চেতা চরিত্র ফরিদা আহমেদকে ঘিরে। সমাজের কুসংস্কার আর পারিবারিক বাধার মুখে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামের গল্প ফুটে উঠেছে এই সিনেমায়। ইংরেজ লেখক এলসপেথ ওয়েলডি এর চিত্রনাট্য লিখেছেন।
একঝাঁক তারকা শিল্পীর অভিনয়
সিনেমাটিতে দেশের প্রথিতযশা অনেক অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন চরিত্রে আছেন: তারিক আনাম খান, মামুনুর রশীদ, মিলি বাশার, রহমত আলী, গাজী রাকায়েত, শতাব্দী ওয়াদুদ, লারা লোটাস, কাজী নওশাবা, রাজীব সালেহীন, শর্মীমালা ও ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। ফরিদা আহমেদের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাশনা শারমিন কেমি।
নির্মাতার আশাবাদ
নির্মাতা গাজী রাকায়েত জানান, ‘মৃত্তিকা মায়া’ ও ‘গোর- The Grave’-এর পর এটি তার তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্মিত এই সিনেমাটি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।
সিনেমাটির শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন উত্তম গুহ এবং আবহসংগীতে কাজ করেছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু। গত বছরের ডিসেম্বরে সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ার পর মহান মে দিবস উপলক্ষে সিনেমাটি মুক্তি পায়।
যারা জীবনমুখী ও বক্তব্যধর্মী সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘মানুষটিকে দেখ’ হতে পারে একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা। কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষে এই সিনেমার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।








