গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার বিটিসিএল টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মুফতি মুহিবুল্লাহ মিয়াজী নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তাকে দেশের উত্তর প্রান্তের জেলা পঞ্চগড়ে শিকলবাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনা কোথায় ও কখন ঘটল
| ঘটনা | স্থান | সময় | সূত্র |
| নিখোঁজ | টঙ্গী পূর্ব থানার বিটিসিএল টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদ (গাজীপুর) | বুধবার, ফজরের নামাজের পর (হাঁটতে বের হওয়ার সময়) | bdnews24, Jagonews24 |
| উদ্ধার | সদর উপজেলার হেলিপ্যাড এলাকা (পঞ্চগড়) | বৃহস্পতিবার ভোর | kalerkantho |
মুহিবুল্লাহ মিয়াজী বুধবার সকালে হাঁটতে বের হলে একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে তাঁর মুখে কাপড় চেপে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় এবং এরপর তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
উদ্ধার ও শারীরিক অবস্থা
স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার ভোরে পঞ্চগড়ের হেলিপ্যাড এলাকায় শিকলবাঁধা অবস্থায় এক বয়স্ক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
- পুলিশের পদক্ষেপ: পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
- হাসপাতালে ভর্তি: তাকে দ্রুত পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- শারীরিক অবস্থা: সিভিল সার্জন নিশ্চিত করেছেন, মুহিবুল্লাহ মিয়াজীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও তিনি ডায়াবেটিসের রোগী এবং তাঁর শরীরে আগে একটি বড় অস্ত্রোপচার করা ছিল। তিনি বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অভিযোগ ও ‘ইসকন’ প্রসঙ্গ
মুহিবুল্লাহ মিয়াজী দাবি করেছেন, তিনি নিখোঁজ হওয়ার আগে কয়েক মাস ধরে হুমকি পাচ্ছিলেন।
- হুমকির কারণ: তিনি বলছেন, গত জুমার বয়ানে তিনি ইসকন-সংক্রান্ত একটি মন্তব্য করেছিলেন। এরপর থেকেই তাঁকে “ইসকনের পক্ষে ও দেশের বিরুদ্ধ হয়ে কথা বলার” জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
- অপহরণের ধরন: তিনি জানান, বুধবার হাঁটতে বের হওয়ার পরই অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
এই ঘটনায় পঞ্চগড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
- বিক্ষোভ: স্থানীয় বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে।
- দাবি: বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে।
- সামাজিক উদ্বেগ: একজন ধর্মীয় নেতার অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে ধর্মীয় কর্মসূচি, বক্তব্য ও নিরাপত্তার ভয়-ভীতি নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার সরাসরি তদন্ত শুরু করেছে।
- তদন্তের মূল লক্ষ্য: কারা এই অপহরণ করেছে, কেন তাকে এই সুদূর প্রান্তে শিকলবেঁধে ফেলে রাখা হলো এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা।
- জরুরি বোঝাপড়া: মুহিবুল্লাহ মিয়াজীর দ্রুত পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের অন্যান্য অংশের সঙ্গে আলোচনা করে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
একজন ধর্মীয় নেতাকে অপহরণ ও নির্যাতনের এই ঘটনা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে এক গভীর সতর্কবার্তা। এই ঘটনা প্রমাণ করে, যদি আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সংস্কার যথাযথভাবে কাজ না করে, তবে দেশের কোনো নাগরিকই নিরাপদ নন। ধর্মীয় সহিংসতা বা হুমকি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যার সমাধানে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।








