বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন যখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) গুরুতর সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ড সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানালেন চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ৬টি দেশের ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য একদিকে যেমন পরিস্থিতি গুরুত্বকে তুলে ধরে, তেমনই দেশের কোটি কোটি উদ্বিগ্ন মানুষকে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখায়। ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “৬টি দেশের ডাক্তারদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দেশনেত্রীর চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন, ইনশাআল্লাহ তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
চিকিৎসার আন্তর্জাতিকীকরণ: কেন ছয় দেশের বিশেষজ্ঞ?
বেগম জিয়ার চিকিৎসায় ছয় দেশের চিকিৎসকদের সমন্বয়ের বিষয়টি তাঁর শারীরিক জটিলতার গভীরতা নির্দেশ করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস এবং বর্তমানে নিউমোনিয়া নিয়ে লড়ছেন। এই প্রতিটি রোগই অত্যন্ত জটিল এবং এর সমাধানে মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি বা বহু-বিশেষজ্ঞের সমন্বিত জ্ঞান প্রয়োজন।
৬ দেশের বিশেষজ্ঞ দলের সার্বক্ষণিক নজরদারি এই ইঙ্গিত বহন করে যে:
১. রোগের জটিলতা: তাঁর রোগগুলো এতই মারাত্মক যে দেশীয় চিকিৎসকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত ও দিকনির্দেশনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
২. সর্বোত্তম প্রচেষ্টা: এটি জিয়া পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার প্রমাণ।
ডা. জাহিদ হোসেনের ‘সার্বক্ষণিক’ শব্দটি জোর দিয়ে প্রমাণ করে যে, সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসা দল এক মুহূর্তের জন্যও ঢিলেমি দিতে রাজি নয়।
সংকটকালে আশার বাণী: ‘ইনশাআল্লাহ তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন’
ডা. জাহিদ হোসেনের বক্তব্যের শেষাংশে থাকা ‘ইনশাআল্লাহ তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন’ বাক্যটি নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এক গভীর স্বস্তি ও আশাবাদের বার্তা। এটি স্বীকার করে নেয় যে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ ও কঠিন যুদ্ধের অংশ। ‘ধীরে ধীরে’ সুস্থতা লাভের এই প্রত্যাশা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা যায়, যা এই বার্তাকে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা দেয়।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিএনপি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বারবার আবেদন জানাচ্ছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা দেশে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা আপাতত দেশে উপলব্ধ স্বাস্থ্যসেবার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি রাজনৈতিক ও মানবিক কৌশল।
বেগম খালেদা জিয়ার এই সংকটময় মুহূর্তে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা দলের নিবিড় প্রচেষ্টা তাঁর জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে কতটা সাফল্য আনে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি। দেশবাসী তাঁর দ্রুত ও ধীরগতির সুস্থতা কামনায় দোয়া করছে।








