জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের (COI) সদস্য ক্রিস সিডোটি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম অমানবিক বাহিনী।” গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘ এই কমিশনে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে।
সিডোটি বলেন, গাজায় হামলা, বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অমান্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনার কারণে ইসরায়েলি বাহিনী এই অভিযোগের মুখে পড়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠছে, এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধ সেই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
জাতিসংঘ কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুধু ইসরায়েল নয়, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তবে সিডোটির মতে, সংঘর্ষের ধরণ এবং ব্যবহৃত শক্তির মাত্রা ইসরায়েলি বাহিনীকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে আরও বড় জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, “আমরা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার অধিকারকে অস্বীকার করছি না। তবে প্রতিরক্ষা কোনোভাবেই গণহত্যা, অবরোধ আর মানবিক সাহায্য বন্ধ করার অজুহাত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইন এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করে।”
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে অমানবিক সংকট নেমে এসেছে বলে জানানো হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিবেদনের পর আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়েরের দাবি তুলেছেন। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতিসংঘ আবারও জানিয়ে দিল যে, গাজায় চলমান পরিস্থিতি শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি বৈশ্বিক মানবাধিকারের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।








