তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে রূপ নেওয়া থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক কার্যক্রম বড় ধাক্কা খেলো এক মর্মান্তিক ঘটনায়, তামিলনাড়ুর কারুরে বিজয়ের সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ৪১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন, ফলে রাজ্যব্যাপী সফর স্থগিত।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার পর বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) দুই সপ্তাহের জন্য তার রাজ্যব্যাপী সফর স্থগিত করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমরা আমাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকাহত। তাই দলের নেতার পরবর্তী জনসভাগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে। নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সমাবেশে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন, যদিও স্থানটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১০ হাজার। নিরাপত্তা নির্দেশিকা লঙ্ঘন, খাবার ও পানীয় জলের অভাব, এবং বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাকে এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেছে পুলিশ। এমনকি বিজয় যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখনও অনেক মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কিন্তু বক্তৃতা চলতে থাকে এবং অ্যাম্বুলেন্স অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশে বাধার অভিযোগ ওঠে।
সূত্র আরও জানায়, ৫১ বছর বয়সী বিজয় প্রায় সাত ঘণ্টা দেরিতে সমাবেশে উপস্থিত হন। দুপুর থেকেই মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করলেও তিনি আসেন সন্ধ্যা ৭টার পর। সমাবেশ শেষে তিনি ত্রিচি বিমানবন্দর হয়ে ব্যক্তিগত বিমানে চেন্নাই ফিরে যান।
বিজয় এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে এই প্রাণহানি ঘটেছে। সমাবেশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই অভিনেতা–রাজনীতিবিদ।
অন্যদিকে, টিভিকে নেতারা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তারা এর আগে বড় বড় সমাবেশ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সফলভাবে করেছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রায় নয়, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে—নেতাদের জনপ্রিয়তা কতটা মূল্যবান, যখন তা মানুষের প্রাণের নিরাপত্তার সঙ্গে সংঘর্ষে আসে?








