আফগানিস্তানে তালেবান সরকার আবারও কঠোর নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর। তারা বলছে, শুধু ইসলামি শরিয়াহ ও আফগান সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই বই-ই থাকবে গ্রন্থাগার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।
২০২৪ সালে কাবুলের লাইব্রেরিগুলো থেকে ৪০০ বই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল নারী অধিকার, গণতন্ত্র, শিয়া মতবাদ এবং প্রতিরোধ নেতা আহমদ শাহ মাসুদের জীবনী বিষয়ক বই।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে তালেবান সরকার চারটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠকে আরও বই নিষিদ্ধের পরিকল্পনা নেয়। এ জন্য ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বই পর্যালোচনা করে ঠিক করছে কোনগুলো শরিয়াহ-বিরোধী।
শিক্ষামন্ত্রীদের নির্দেশে ১৮টি পাঠ্যবিষয়ও নিষিদ্ধ হয়েছে। যেমন, নারীর সমাজবিজ্ঞান, জনসংযোগে নারীর ভূমিকা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা, লিঙ্গ ও উন্নয়ন ইত্যাদি। আগে এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হতো, এখন এগুলো ‘শরিয়াহ-বিরোধী’ বলে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
নিষিদ্ধ বইয়ের মধ্যে শুধু পশ্চিমা লেখকই নন, ইসলামি চিন্তাবিদদের বইও আছে। যেমন, সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী, সাইয়েদ কুতুব, জামালউদ্দীন আফগানি, ইউসুফ আল-কারযাভি, আবদুল্লাহ আজ্জাম, আলী শরিয়াতি এবং ইরানি ও আফগান লেখকদের বই।
পাশাপাশি পশ্চিমা লেখকদের জনপ্রিয় বইও নিষিদ্ধ হয়েছে। যেমন, ইউভাল নোয়া হারারির স্যাপিয়েন্স, দান্তের দ্য ডিভাইন কমেডি, কাহলিল জিবরানের দ্য প্রফেট এবং সমাজবিজ্ঞানের বহু বই।
শিক্ষক ও প্রকাশকদের অভিযোগ, বিকল্প শিক্ষাসামগ্রী এখনো প্রস্তুত নয়, ফলে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রকাশকরা বলছেন, ইরান থেকে আনা অনেক বইও সীমান্তে আটকে দেওয়া হচ্ছে।
তালেবানের বার্তা স্পষ্ট, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে তারা শুধু শরিয়াহভিত্তিক এবং নিজেদের মূল্যবোধ অনুযায়ী জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে চায়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আফগানিস্তানের জ্ঞানচর্চা ও প্রকাশনা শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়েছে।








