বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে (লোকসভা ও রাজ্যসভা) খালেদা জিয়ার স্মরণে বিশেষ শোকপ্রস্তাব বা ‘অবিচুয়ারি রেফারেন্স’ গ্রহণ করার কথা রয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) অধিবেশনের শুরুতেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে বলে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কোনো বিদেশি নেতার প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে এমন সম্মান প্রদর্শন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শোকপ্রস্তাবের বিস্তারিত কার্যক্রম
বুধবার সকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মাধ্যমে পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন শুরু হবে। এরপর রাজ্যসভা ও লোকসভা নিজ নিজ কার্যতালিকা অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করবে।
- রাজ্যসভা: উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাশাপাশি ভারতের সাবেক এমপি এল গণেশন ও সুরেশ কলমাদির স্মরণেও শোকপ্রস্তাব আনা হবে।
- লোকসভা: নিম্নকক্ষ লোকসভায় সাবেক এমপি শালিনী পাতিল, ভানু প্রকাশ মির্ধা এবং কবীন্দ্র পুরকায়স্থসহ আরও কয়েকজন প্রয়াত নেতার স্মরণে শোকপ্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি তিন মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তার মৃত্যুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগকে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের সাথে দিল্লির একটি ‘কৌশলগত যোগাযোগ চেষ্টা’ হিসেবেও দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
বাজেট অধিবেশনের অন্যান্য বিষয়
২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট অধিবেশনটি মূলত দুই পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্ব: মূলত কেন্দ্রীয় বাজেট সংক্রান্ত আর্থিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
- দ্বিতীয় পর্ব: প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে, যা নিয়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে।








