হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeখেলাধুলাহামজা চৌধুরীর অনুশীলনে প্রত্যাবর্তন, ভারত ম্যাচে চোখ বাংলাদেশ দলের
spot_img

হামজা চৌধুরীর অনুশীলনে প্রত্যাবর্তন, ভারত ম্যাচে চোখ বাংলাদেশ দলের

বাংলাদেশ ফুটবল দলে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে ফিরেছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী।
ঢাকায় এসে মঙ্গলবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় সতীর্থদের সঙ্গে প্রথম অনুশীলন করেছেন এই তারকা মিডফিল্ডার।

অন্যদিকে, কানাডা প্রবাসী শোমিত সোম দলে যোগ দিচ্ছেন বুধবার। তার পরদিনই অনুষ্ঠিত হবে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ, যা মূলত ভারত ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা জানিয়েছেন, দলের সবার সঙ্গে হামজা ও শোমিতের বোঝাপড়া বাড়াতে তারা নেপাল ম্যাচে সুযোগ পাবেন।

নেপাল ম্যাচকে প্রস্ততি পর্ব হিসেবে দেখছেন কোচ কাবরেরা

বাংলাদেশের সামনে বড় লক্ষ্য ১৮ নভেম্বরের এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।
তবে তার আগে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিকে প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবেই কাজে লাগাতে চান কাবরেরা।

তিনি বলেন,
“আমরা ভারত ম্যাচের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছি। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে আমরা সেরা একাদশ ও বেঞ্চের ছয়জন মিলিয়ে ১৭ জন খেলোয়াড়কে ম্যাচ টাইম দিতে চাই। লক্ষ্য, ভারত ম্যাচে সবাই যেন সেরা অবস্থায় থাকে।”

কাবরেরা আরও যোগ করেন,
“অবশ্যই, ভারতকে হারানোই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত তিন পয়েন্ট পাইনি। আমরা বিশ্বাস করি, ভারত ম্যাচে সেটি বদলাবে।”

হামজা-শোমিতের মানিয়ে নেওয়ার সময় পাচ্ছেন কোচ

ভারত ম্যাচের আগে দলে ফিরে এসেছেন হামজা ও শোমিত, যাদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে নতুন শক্তি যোগ হবে বলে আশা করছেন কোচ।
কাবরেরা জানান, এই দুই প্রবাসী খেলোয়াড়ের সঙ্গে দলের বোঝাপড়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।

“আজকের সেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হামজা আমাদের সঙ্গে আছে, এটা দারুণ খবর। শোমিত আগামীকাল যোগ দেবে। আমরা প্রথমে তাদের অবস্থা দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেব। তবে আশা করি, দুজনেই নেপালের বিপক্ষে খেলবে,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস ও কৌশল

গত মার্চে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর বাংলাদেশ দল এবার জয়ের লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুত হচ্ছে।
কাবরেরা মনে করেন, এখন দলের আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি বলেন,
“আমাদের খেলা আগের চেয়ে আরও শৃঙ্খলিত। সবাই একে অপরের প্রতি আস্থা রাখছে। আমরা শুধু নেপাল নয়, ভারতের বিপক্ষেও সেরাটা দিতে চাই।”

কোচের কৌশল অনুযায়ী, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে নির্দিষ্ট ভূমিকা দেওয়া হয়েছে যাতে রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ পর্যন্ত সংযোগটা মজবুত থাকে।
হামজা চৌধুরীর উপস্থিতি সেই কৌশলকে আরও কার্যকর করবে বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।

হামজা চৌধুরীর প্রত্যাবর্তনে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস

হামজা সোমবার ঢাকায় এসে সকালে রবির সঙ্গে চুক্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং বিকেলে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্রথম অনুশীলনে অংশ নেন।
তার প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের টিকিট অনলাইনে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।
এই উন্মাদনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কোচ কাবরেরা।

“আমি মনে করি, দল ভালো খেলছে এবং হামজার মতো তারকা খেলোয়াড়রা দর্শকদের আকর্ষণ করছে। এটা পুরো দলের জন্যই ভালো। আমাদের উচিত, এই ইতিবাচক উন্মাদনাকে কাজে লাগানো,” বলেন কাবরেরা।

ভারত ম্যাচ: বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা

সব দৃষ্টি এখন ভারতের বিপক্ষে ১৮ নভেম্বরের ম্যাচে।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের এই ম্যাচে জয় পেলে বাংলাদেশ নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।
কোচের ভাষায়,
“আমরা জানি ভারত শক্ত প্রতিপক্ষ। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট আমরা জিততে চাই।
দল ভালো খেলছে, মনোবলও দারুণ। এখন শুধু মাঠে সেরাটা দিতে হবে।”

বাংলাদেশ দলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি

দলের সব খেলোয়াড়ই বর্তমানে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় নিয়মিত অনুশীলনে ব্যস্ত।
কাবরেরা জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের ফিটনেস, সমন্বয় ও কৌশলগত দিকগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

“আমরা চাই খেলোয়াড়রা শুধু ম্যাচ খেলুক না, একে অপরকে বোঝুক এবং একসাথে জয়ের জন্য খেলুক,” বলেন তিনি।
“এই ম্যাচের মাধ্যমে আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে পারি।”

নেপাল ম্যাচে সম্ভাব্য একাদশে পরিবর্তন

নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।
কোচ ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিয়মিত একাদশের বাইরে থাকা কিছু খেলোয়াড়কেও সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের প্রমাণ করতে পারে।
এছাড়া নেপাল ম্যাচের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ভারতের বিপক্ষে চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য নতুন দিগন্তের আশা

বাংলাদেশ ফুটবলের সাম্প্রতিক উত্থান ও বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততা দেশের ফুটবলে নতুন গতি এনেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামজা চৌধুরী ও শোমিত সোমের মতো পেশাদার ফুটবলারদের উপস্থিতি বাংলাদেশের খেলার মান বাড়াবে।

এছাড়া তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের এই পর্বেই বাংলাদেশ যদি শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো ফল করতে পারে, তাহলে সেটি হবে দেশের ফুটবলের বড় অগ্রগতি।


হামজা চৌধুরীর অনুশীলনে ফেরা এবং দলের ইতিবাচক মনোভাব বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য আশার বার্তা।
নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ শুধু প্রস্তুতি নয়, ভারত ম্যাচের আগের শেষ পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কাবরেরা ও তার শিষ্যরা এখন একটাই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের গর্ব পুনরুদ্ধার করা।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!