গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিশুদেরই হতে হচ্ছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে গাজায় অঙ্গচ্ছেদের শিকার শিশুর সংখ্যা বিশ্বে সর্বোচ্চ ।
গাজায় অঙ্গচ্ছেদের শিকার শিশুর সংখ্যা বিশ্বে সর্বোচ্চ
তিন বছরের আহমেদ হুমাম আদওয়ান পরিবারসহ স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু সেই স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় তার বাঁ হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। এই ঘটনা হাজারো শিশুর দুর্দশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ভয়ংকর পরিসংখ্যান
অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৪,০০০ শিশু অঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়েছে। শুধু শারীরিক আঘাত নয়, তারা মানসিকভাবেও ভেঙে পড়ছে, ভয়, দুঃস্বপ্ন, উদ্বেগ আর শিশুশ্রমে বাধ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির আহ্বান
ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ট্রমায় ভুগবে। অন্তত শিশুদের জন্য হলেও এখনই যুদ্ধবিরতি দরকার।”
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ৬৫ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গাজায় শিশুদের হারানো শৈশব
গাজার চলমান যুদ্ধ কেবল ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে না, বরং শিশুদের নিষ্পাপ শৈশবও কেড়ে নিচ্ছে। প্রতিদিনের বোমা হামলা, ভয় আর ক্ষুধার্ত রাত তাদের মনে তৈরি করছে এক গভীর ক্ষত। এই প্রজন্ম যদি ভয় আর যন্ত্রণার মধ্যে বেড়ে ওঠে, তবে আগামী দিনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন হবে আরও কঠিন। তাই এখনই বিশ্বনেতাদের উচিত মানবিকতার স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য আজকের শিশুদের রক্ষা করা অপরিহার্য। যুদ্ধ নয়, দরকার শান্তির পথ খোঁজা।








