ভারতের নেট-ইউজিসহ (NET-UG) বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের বিরুদ্ধে চলা দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে তাঁর এই পদত্যাগকে শিক্ষার্থীদের বড় জয় হিসেবে দেখা হলেও আন্দোলন কিন্তু এখানেই শেষ হচ্ছে না।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরপরই আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের আন্দোলন এখনই থামছে না। পদত্যাগের পর আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাকি থাকা দাবিগুলো সামনে এনেছে।
পদত্যাগের পরও কেন থামছে না ককরোচ পার্টির আন্দোলন?
প্রেস ব্রিফিংয়ে সিজেপির (CJP) সভাপতি অভিজিৎ দীপকে জানান, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেও মূল সমস্যার সমাধান এখনও পুরোপুরি হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের কারণে যেসব শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আন্দোলন করতে গিয়ে যারা পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শিক্ষামন্ত্রীর সরে যাওয়া তাদের প্রথম ধাপের সাফল্য হলেও আরও কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হওয়া এখনও বাকি রয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নতুন দুই প্রধান দাবি
প্রেস ব্রিফিং এবং পরবর্তীতে অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে সিজেপির পক্ষ থেকে যে আপডেট করা দাবি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার মূল দুটি নতুন দাবি হলো:
১. ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ: প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অনিয়ম ও অনিশ্চয়তার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের প্রতিটি পরিবারকে অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
২. পুলিশি অত্যাচারের বিচার ও মামলা প্রত্যাহার: গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেওয়া নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে বর্বর লাঠিচার্জ ও নির্যাতন চালিয়েছিল, তাতে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে সেই দিন বা তার পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত ‘মিথ্যা মামলা’ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
এছাড়াও, সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আপডেটে যুক্ত করা হয়েছে যে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং দিল্লি পুলিশকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর করা নির্যাতনের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
“যুবসমাজ এক হলে যে কাউকে মাথা নত করতে হয়”
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি নিয়ে আজ থেকে এক মাসেরও বেশি সময় আগে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে এটি কেবল প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বেকারত্ব দূরীকরণ ও সরকারি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো এক বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়।
সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো সহজ নয় যারা এতদিন এমন কথা বলে আসছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে সিজেপি সভাপতি অভিজিৎ দীপকে বলেন:
“দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা যদি একজোট হয়, তবে তারা যে কাউকেই মাথা নত করতে এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারে। আজকের এই ঘটনা পুরো দেশের সামনে তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।”
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনের ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলেও ককরোচ জনতা পার্টির নতুন দাবিগুলো প্রমাণ করে যে তারা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চায়। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষার্থীদের এই নতুন দাবিগুলো এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরকার ও প্রশাসন পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।








