অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি চারটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, ৪ বিশ্বনেতার বৈঠক হয়েছে ।
৪ বিশ্বনেতার বৈঠক
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ইতালি, পাকিস্তান, ফিনল্যান্ড ও কসোভোর নেতাদের সঙ্গে এসব বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বৈঠকের প্রধান দিকগুলো
- ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি : বাংলাদেশে বাণিজ্য বাড়াতে ইতালি-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরের আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন।
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ : বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। ইউনূস পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় সমবেদনা জানান।
- ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব : দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ফিনল্যান্ড বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
- কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভজোসা ওসমানি : দ্রুত বর্ধনশীল কসোভো অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় প্রধান বিষয়
- বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
- গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহযোগিতা
- রোহিঙ্গা সংকট
প্রেস সচিব জানান, চারটি বৈঠকেই রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে আয়োজিত রোহিঙ্গাবিষয়ক সম্মেলনে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেন, এই বৈঠকগুলো শুধু কূটনৈতিক শিষ্টাচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
কূটনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার
এই বৈঠকগুলো শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ইতালির প্রস্তাবিত বিজনেস ফোরাম বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়তে পারে। ফিনল্যান্ড ও কসোভোর সমর্থন আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বৈশ্বিক সমর্থন জোগাড়ের পথও সুগম হতে পারে। সব মিলিয়ে এই বৈঠকগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন, বাণিজ্য, গণতন্ত্র ও মানবিক ইস্যুগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।








