দেশের সাধারণ মানুষের জন্য মে মাসের শেষ দিনে এলো একটি বড় ধাক্কা। সরকার আবারও ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুন মাস থেকে পেট্রল, অকটেন এবং কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চলতি বছরের ৩১ মে (রবিবার) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে দামের সামঞ্জস্য রাখতেই দেশের বাজারে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ১ জুন (সোমবার) থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।
সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, এবার ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও যানবাহন মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
নতুন তালিকা: জুনে কোন তেলের দাম কত?
মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনি যদি নিয়মিত গাড়ি বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তবে ১ জুন থেকে আপনাকে জ্বালানি কিনতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে। নিচে তেলের নতুন দামের তালিকা দেওয়া হলো:
১. অকটেনের নতুন দাম
এতদিন মে মাসে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ছিল ১৪০ টাকা। ৫ টাকা বৃদ্ধির পর জুনে প্রতি লিটার অকটেনের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৫ টাকা।
২. পেট্রলের নতুন দাম
মে মাসে প্রতি লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকায়। ৫ টাকা বেড়ে জুনে প্রতি লিটার পেট্রলের নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা।
৩. কেরোসিনের নতুন দাম
সাধারণ মানুষের রান্নাবান্না ও আলোর কাজে ব্যবহৃত কেরোসিনের দামও বেড়েছে। মে মাসে ১৩০ টাকা লিটার থাকা কেরোসিনের দাম জুনে হয়েছে ১৩৫ টাকা।
৪. ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত
সব ধরনের তেলের দাম বাড়লেও গণপরিবহনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের দাম এবার বাড়েনি। মে মাসের মতোই জুন মাসেও প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরেই বিক্রি হবে।
মে মাসের তুলনায় জুনে দামের পরিবর্তন (এক নজরে টেবিল)
সহজে বোঝার জন্য মে মাস এবং জুন মাসের জ্বালানি তেলের দামের একটি তুলনামূলক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| জ্বালানি তেলের নাম | মে মাসের দাম (প্রতি লিটার) | জুন মাসের নতুন দাম (প্রতি লিটার) | কত টাকা বাড়ল |
| অকটেন | ১৪০ টাকা | ১৪৫ টাকা | ৫ টাকা |
| পেট্রল | ১৩৫ টাকা | ১৪০ টাকা | ৫ টাকা |
| কেরোসিন | ১৩০ টাকা | ১৩৫ টাকা | ৫ টাকা |
| ডিজেল | ১১৫ টাকা | ১১৫ টাকা | ০ টাকা (অপরিবর্তিত) |
কেন বারবার বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম?
বাংলাদেশ সরকার এখন প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করছে। বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম বাড়ে, তখন দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়। আবার বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও দাম কমানোর নিয়ম রয়েছে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মে মাসের জন্য তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারও আগে গত ১৮ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একদফা বাড়ানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার কারণেই মূলত দেশের বাজারেও এই ধারাবাহিক পরিবর্তন বা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ঘটছে।
সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব কেমন হবে?
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। যদিও এবার ডিজেলের দাম বাড়েনি, যা গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য ভালো খবর। কারণ ডিজেলের দাম বাড়লে বাস ও ট্রাক ভাড়া সরাসরি বেড়ে যায়।
তবে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ার কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা (যা অনেকে পেট্রল/অকটেনে চালায়) এবং মোটরসাইকেল চালকদের খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ বা মোটরসাইকেলে যারা যাতায়াত করেন, তাদের পকেট থেকে এখন অতিরিক্ত টাকা খরচ হবে। অন্যদিকে কেরোসিনের দাম বাড়ার ফলে গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের ওপর কিছুটা আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
আপনার করণীয় কী?
যেহেতু তেলের দাম আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই এই পরিস্থিতিতে খরচ বাঁচাতে কিছু বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি:
- বাইক বা গাড়ি চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন, এতে তেল কম খরচ হয়।
- ট্রাফিক জ্যামে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন।
- প্রয়োজনে ছোট দূরত্বের রাস্তার জন্য যাতায়াতে গণপরিবহন বা পায়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন।
দেশের বাজারে নিয়মিত বিরতিতে তেলের দামের এই পরিবর্তন ব্যবসার খরচ এবং সাধারণ মানুষের বাজেট ডায়েরিতে নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে।








