বিশ্বজুড়ে আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কেলেঙ্কারিতে নতুন করে উঠে এসেছে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই নিজের নীরবতা ভেঙেছেন তার সাবেক স্ত্রী ও বিশিষ্ট দাতব্যকর্মী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ। তিনি এই পুরো বিষয়টিকে তার জীবনের এক ‘বেদনাদায়ক সময়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এপস্টেইন নথিতে বিল গেটস: কী আছে সেই অভিযোগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি ৩০ লাখেরও বেশি নথিপত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিল গেটস এক সময় যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। নথিতে থাকা একটি ই-মেইলে এপস্টেইন দাবি করেন, বিল গেটসকে রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। তবে বিল গেটসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ যা বললেন
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের একটি পডকাস্টে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ তার মনের চাপা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
“এপস্টেইন সংক্রান্ত এসব নোংরামি সামনে এলে আমার দাম্পত্য জীবনের সেই কঠিন দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। এই অভিযোগগুলোর জবাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই দিতে হবে। আমি এসব থেকে দূরে থাকতে পেরে এখন অনেক শান্তিতে আছি।”
মেলিন্ডা আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, বিল গেটসের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের বিষয়ে অতীতেও তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। ২০২১ সালে তাদের ২৭ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটার পেছনে এটিও অন্যতম একটি কারণ ছিল বলে ধারণা করা হয়।
রহস্যময় ই-মেইল ও বিল গেটসের অবস্থান
প্রকাশিত নথিতে ২০১৩ সালের কিছু ই-মেইল পাওয়া গেছে, যা এপস্টেইন লিখেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে বিল গেটসকে উদ্দেশ্য করে কিছু কড়া কথা এবং গোপন তথ্য ফাঁসের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিল গেটসের প্রতিনিধিরা বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, এপস্টেইনের সঙ্গে বিলের যোগাযোগ ছিল শুধুমাত্র দাতব্য কাজের আলোচনার জন্য এবং সেটিও ছিল খুবই সীমিত।
বিগত কয়েক বছরে বিল গেটস নিজেও স্বীকার করেছেন যে, এপস্টেইনের মতো একজন ব্যক্তির সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়াটা তার জীবনের একটি বড় ভুল ছিল।
জেফরি এপস্টেইন ও তার অন্ধকার জগৎ
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন মার্কিন ধনকুবের, যার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার এবং যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবার দণ্ডিত হন। ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বিশ্বের অনেক বড় বড় নেতা, তারকা এবং ব্যবসায়ীদের নাম আসায় পুরো বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
বিচ্ছেদ ও পরবর্তী জীবন
বিল ও মেলিন্ডার বিচ্ছেদের পর জানা গিয়েছিল যে, ২০১৯ সালে বিল গেটস অফিসের এক কর্মীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। মেলিন্ডা বর্তমানে তার নিজস্ব দাতব্য সংস্থা এবং নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, এপস্টেইন ইস্যু নিয়ে যে প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত, সেগুলোর উত্তর তার সাবেক স্বামীকেই দিতে হবে।








