হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Tuesday, August 18, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআর্ন্তজাতিকহজযাত্রীদের জন্য সুখবর: বিশ্বের প্রথম ‘কুলিং ইহরাম’ আনলো সৌদি আরব
spot_img

হজযাত্রীদের জন্য সুখবর: বিশ্বের প্রথম ‘কুলিং ইহরাম’ আনলো সৌদি আরব

হজ শুধু একটি ধর্মীয় ভ্রমণ নয়, বরং এটি প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ের আবেগ, ভক্তি এবং ধৈর্যের এক চরম পরীক্ষা। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে সৌদি আরবে সমবেত হন। কিন্তু সৌদি আরবের মরুভূমির তীব্র গরম এবং প্রখর রোদ অনেক সময় হাজিদের জন্য শারীরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বয়স্ক হাজিদের জন্য এই তাপমাত্রা সহ্য করা বেশ কষ্টসাধ্য।

তবে এবার হজযাত্রীদের জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে সৌদি আরব। হাজিদের কষ্ট কমাতে এবং হজের সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে তারা বিশ্বের প্রথম ‘কুলিং ইহরাম’ বা শীতল ইহরাম চালু করেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তৈরি এই ইহরাম হাজিদের হজের অভিজ্ঞতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুলিং ইহরাম আসলে কী?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, সাধারণ ইহরামের সাথে এই নতুন ইহরামের পার্থক্য কী? সহজ কথায়, ‘কুলিং ইহরাম’ দেখতে একেবারে সাধারণ ঐতিহ্যবাহী সাদা সুতি ইহরামের মতোই। এর বাহ্যিক দর্শনে বা শালীনতায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে মূল জাদুটি লুকিয়ে আছে এর কাপড়ে এবং তৈরির প্রযুক্তিতে।

সাধারণত হজের সময় হাজিরা দীর্ঘক্ষণ খোলা আকাশের নিচে থাকেন। এই বিশেষ ইহরামটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা সৌদি আরবের তীব্র তাপমাত্রায় শরীরকে শীতল রাখতে সহায়তা করবে। এটি কোনো সাধারণ কাপড় নয়, বরং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এক বিশেষ পোশাক যা হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করবে।

কীভাবে কাজ করে এই বিশেষ ইহরাম?

সৌদি আরবের এই উদ্ভাবনটি মূলত ‘ন্যানো টেকনোলজি’ বা উন্নত উপাদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। চলুন জেনে নিই এটি কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি সাধারণ কাপড়ের চেয়ে আলাদা:

১. সূর্যের তাপ প্রতিফলন

এই ইহরামের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্নি এবং তাপ শোষণ না করে তা প্রতিফলিত (Reflect) করতে পারে। সাধারণ কাপড় তাপ ধরে রাখে, ফলে গরম বেশি লাগে। কিন্তু কুলিং ইহরাম তাপ ফিরিয়ে দেয় বলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে।

২. দ্রুত শুকানোর ক্ষমতা

হজের সময় ভিড় এবং গরমে ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক। সাধারণ কাপড় ঘামে ভিজে শরীরে লেপ্টে থাকে, যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। কিন্তু কুলিং ইহরামের কাপড় এমন উপাদানে তৈরি যা ঘামের সংস্পর্শে আসামাত্র খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে হাজিরা দীর্ঘক্ষণ সতেজ অনুভব করেন এবং শরীরে আঠালো ভাব তৈরি হয় না।

৩. চমৎকার বায়ুপ্রবাহ

এই কাপড়ের বুনন এমনভাবে করা হয়েছে যাতে বাতাস সহজেই চলাচল করতে পারে। ফলে শরীরের ভেতর গরম বাতাস আটকে থাকে না এবং বাইরের বাতাস শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

হাজিদের জন্য কেন এটি আশীর্বাদ?

হজের সময় আরাফাতের ময়দান কিংবা মিনায় অবস্থানের সময় তাপমাত্রা অনেক সময় ৪৫-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। হিটস্ট্রোক বা পানিশূন্যতার কারণে অনেক হাজি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ‘কুলিং ইহরাম’ ব্যবহারের ফলে:

  • হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
  • হাজিরা শারীরিক ক্লান্তি ভুলে ইবাদতে অধিক মনোযোগ দিতে পারবেন।
  • ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা বা র‍্যাশ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রযুক্তি

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পোশাকটি শুধু আরামদায়কই নয়, এটি পরিবেশবান্ধবও বটে। এটি ধোয়ার পরেও এর কার্যকারিতা নষ্ট হয় না। অর্থাৎ, পুরো হজের সময়জুড়ে এটি বারবার ব্যবহার করা যাবে এবং এর শীতল করার ক্ষমতা অটুট থাকবে।


সৌদি আরবের এই কুলিং ইহরাম উদ্ভাবন হাজিদের প্রতি তাদের যত্ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য নজির। এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে হজের সফর হবে আরও নিরাপদ, আরামদায়ক এবং স্বস্তিময়। তীব্র গরমেও হাজিরা এখন প্রশান্ত মনে সৃষ্টিকর্তার ইবাদতে মশগুল হতে পারবেন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!