দীর্ঘদিন ধরে স্মার্টফোনের আকাশছোঁয়া দামের কারণে যারা পছন্দের ফোনটি কিনতে পারছিলেন না, তাদের জন্য দারুণ সুখবর। অবশেষে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে বড় ধরণের ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এনবিআর একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সুখবর জানিয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে বিশেষ করে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের ফোনগুলো এখন অনেক কম দামে কেনা যাবে। আসুন জেনে নেই, ঠিক কতটা কমলো মোবাইল ফোনের দাম এবং এর প্রভাব সাধারণ ক্রেতাদের ওপর কীভাবে পড়বে।
মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্কের বিশাল পতন
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো মোবাইল ফোনকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা। এই উদ্দেশ্যেই আমদানি শুল্কের ওপর বড় ধরনের কাঁচি চালিয়েছে এনবিআর। আগে যেখানে মোবাইল ফোন আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো, এখন তা কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
সহজ কথায়, বিদেশ থেকে যেসব ফোন সরাসরি আমদানি করা হয়, সেগুলোর ওপর আরোপিত করের বোঝা অনেকটাই কমে গেল। এনবিআরের তথ্যমতে, এই প্রজ্ঞাপনের ফলে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। এর ফলে বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের ফোনগুলোর দাম কমবে, যা প্রযুক্তipremiদের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর।
কতটা কমবে ফোনের দাম?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, পকেটের ওপর চাপ ঠিক কতটা কমবে? এনবিআরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দাম কমার পরিমাণটা বেশ বড়। বিশেষ করে যারা একটু ভালো মানের বা ফ্ল্যাগশিপ ফোন কিনতে চান, তারা বেশি লাভবান হবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দাম কমার সম্ভাব্য চিত্রটি নিচে তুলে ধরা হলো:
- আমদানিকৃত ফোনের ক্ষেত্রে: ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের যেসব মোবাইল ফোন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, সেগুলোর দাম প্রতিটি সেটে আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমবে।
- দেশে তৈরি ফোনের ক্ষেত্রে: যারা দেশে সংযোজিত বা অ্যাসেম্বল করা ফোন কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্যও সুখবর আছে। ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে তৈরি প্রতিটি স্মার্টফোনের দাম আনুমানিক ১,৫০০ টাকা কমবে।
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বিশেষ নজর
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বিদেশি ফোনের দাম কমলে দেশীয় মোবাইল কোম্পানিগুলো কি বিপদে পড়বে? সরকার এই বিষয়টি নিয়েও যথেষ্ট সচেতন। বিদেশি ফোনের দাম কমার কারণে যাতে দেশীয় মোবাইল সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সেজন্য তাদের জন্যও আলাদা সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল তৈরির জন্য বিদেশ থেকে যেসব কাঁচামাল বা উপকরণ আমদানি করতে হয়, সেগুলোর শুল্কও কমানো হয়েছে। আগে কাঁচামাল আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক ছিল, যা কমিয়ে এখন ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেশীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচও কমবে। এতে করে তারাও কম দামে গ্রাহকের হাতে ফোন তুলে দিতে পারবে এবং বাজারে টিকে থাকতে পারবে।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত?
বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। শিক্ষা, চিকিৎসা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সব কিছুই এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু স্মার্টফোনের অতিরিক্ত দামের কারণে অনেকেই এই ডিজিটাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
সরকার আশা করছে, মোবাইল ফোন আমদানি এবং তৈরির উপকরণের ওপর এই শুল্ক কমানোর ফলে:
১. সব ধরনের মোবাইল ফোনের মূল্য সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসবে।
২. দেশের নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।
৩. ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন শিক্ষার প্রসার ঘটবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আরও জানিয়েছে, মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সরকারের এই ধরনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ, প্রযুক্তিবান্ধব একটি সমাজ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর।
এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত মোবাইল বাজারকে আবারও চাঙ্গা করে তুলবে। যারা দাম বাড়ার কারণে এতদিন ফোন কেনা স্থগিত রেখেছিলেন, তাদের জন্য এখনই সেরা সময় শোরুমে ঢুঁ মারার। তবে এই নতুন দাম বাজারে কার্যকর হতে হয়তো কয়েকদিন সময় লাগতে পারে, তাই ক্রেতাদের একটু সচেতন হয়ে বাজার যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।








