বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসু ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য এলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক সুখবর। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল ভারত। গতকাল রবিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের প্রধান পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) এই নতুন আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আর আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দুই দেশের পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথম দিনেই যমুনা ফিউচার পার্ক আইভ্যাকে দীর্ঘ লাইন
দীর্ঘ দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার খবরটি আসতেই সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আজ সোমবার ভিসা আবেদন জমা নেওয়ার প্রথম দিনেই রাজধানী ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত মূল ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) আবেদনকারীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন শত শত মানুষ। দীর্ঘ লাইনের কারণে আবেদনকারীদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হলেও, ভিসা চালু হওয়ার এই সিদ্ধান্তে সবার মাঝেই এক ধরনের বাড়তি উচ্ছ্বাস ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে।
দেশের ৫টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া
ভারতীয় হাইকমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকরা তাদের পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছেন। কেন্দ্রগুলো হলো:
- ঢাকা (যমুনা ফিউচার পার্ক)
- চট্টগ্রাম
- রাজশাহী
- সিলেট
- খুলনা
এই প্রধান কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া মেনে আজ থেকেই পর্যটকরা তাদের ফাইল জমা দিতে পারছেন।
সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস
বিভিন্ন কারণে গত দুই বছর ধরে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া বন্ধ বা সীমিত রেখেছিল। এতে করে যারা চিকিৎসার বাইরে শুধু ঘোরার উদ্দেশ্যে, আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করতে কিংবা কেনাকাটার জন্য ভারতে যেতে চাচ্ছিলেন, তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অবশেষে পর্যটন ভিসা পুরোপুরি চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ পরিবার, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত ভ্রমণকারীদের মনে।
আইভ্যাকে আসা বেশ কয়েকজন আবেদনকারী জানান, ভিসা বন্ধ থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেও যেতে পারছিলেন না। এখন ভিসা চালু হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা পেয়ে ভারতে ভ্রমণের আশা প্রকাশ করছেন। বাজার ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।








