দেশের বাজারে আরও একবার কমেছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। বাজুস বা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন এবার প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। এখন থেকে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের খরচ করতে হবে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য এটি এই সপ্তাহের সবচেয়ে বড় খবর।
সোমবার সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য হ্রাসের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আর তাই সার্বিক পরিস্থিতি এবং বাজার দর বিবেচনা করে ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারের এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সোমবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে স্বর্ণের এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দামেই স্বর্ণ কেনাবেচা করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, অলঙ্কারের ডিজাইন বা গয়না তৈরির ধরন অনুযায়ী এর সাথে অতিরিক্ত মজুরি যুক্ত হতে পারে।
ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের নতুন মূল্যতালিকা
নতুন এই সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নিচে দেওয়া হলো:
২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজারে এখন থেকে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। আগের মূল্যের চেয়ে এই ক্যাটাগরিতেই ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে।
২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দামও কমেছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন পাওয়া যাবে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকায়। এছাড়া বাজারে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম
যারা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের জন্যও দাম কিছুটা কমেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।
ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি
হঠাৎ করে স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ভরি প্রতি ৩ হাজার টাকারও বেশি কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে যারা বিয়ের মৌসুম বা পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানের জন্য গহনা কেনার কথা ভাবছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ হতে পারে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও দামের ওঠানামার কারণেই বাজুস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে প্রায়ই স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়ে থাকে।








