হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Sunday, August 16, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়অক্টোবরে চালু হবে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রী
spot_img

অক্টোবরে চালু হবে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রী

দেশের শিশু স্বাস্থ্যের সার্বিক মানোন্নয়ন ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলছে। আগামী অক্টোবর মাসেই এই পাঁচটি হাসপাতাল একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধনকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে নতুন ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন

শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ‘ভবন-২’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি স্মারক গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিয়ে এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবনের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক স্বাস্থ্যে সাশ্রয়ী সেবার অঙ্গীকার

নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল ইট-পাথরের অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো নয়। বরং উন্নত প্রযুক্তি, অত্যন্ত দক্ষ মানবসম্পদ, সঠিক সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির যথাযথ সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ৫০০ শয্যার এই নতুন ভবন চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্মৃতি

বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই ঐতিহ্যবাহী নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া।

সময়ের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে হাসপাতালটি আজ আকার ও সেবার আয়তনে অনেক বিশাল রূপ ধারণ করেছে। এই মহান অর্জনের পেছনে কঠোর পরিশ্রম করা সকল কর্মকর্তা, অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও হেলথ টেকনিশিয়ানদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্নায়ুবিক রোগের চিকিৎসায় বিশাল অগ্রগতি

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা একটি বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশেও স্ট্রোক, ইপিলেপসি (খিঁচুনি), পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন এই ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ায় দেশে স্নায়ুরোগের বিশ্বমানের চিকিৎসাসক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

  • অত্যাধুনিক সুবিধা: নবনির্মিত ভবনটিতে রয়েছে সর্বাধুনিক আইসিইউ (ICU), মডুলার অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড।
  • গবেষণা ও শিক্ষা: এটি শুধু রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং নিউরোচিকিৎসা সংক্রান্ত উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
  • কম খরচে চিকিৎসা: দেশের সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষ যাতে অত্যন্ত স্বল্প খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ তৈরি করা হয়েছে।

চিকিৎসায় প্রযুক্তি ও মানবিক আচরণের গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসাসেবায় কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন।

তিনি বলেন, “প্রযুক্তি হয়তো রোগ নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারবে, কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষের মনের ভয়, উদ্বেগ ও কষ্ট মুছে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকের সহমর্মিতা ও সুব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক গভীর বিশ্বাস ও সম্মানের সম্পর্ক থাকা জরুরি। চিকিৎসকরা যদি কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, কিংবা রোগীরা যদি চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখতে না পারেন তবে কেবল বড় বড় হাসপাতাল তৈরি করেও রোগীদের চিকিৎসায় বিদেশমুখী হওয়া আটকানো যাবে না।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহানুভূতিশীল আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা এবং সম্মানজনক আচরণই চিকিৎসার অর্ধেক সুস্থতা এনে দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!