জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৬ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টস হেরে বল হাতে নামা টাইগাররা শেষ ৩ ওভারে ৫১ রান হজম করে ১৬৫ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছিল ক্যারিবীয়দের সামনে। জবাবে, প্রথম ওভারের দারুণ শুরুর পরেও পাওয়ার প্লেতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে লিটন দাসের দল, যা থেকে আর ফেরা সম্ভব হয়নি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং: মন্থর শুরু, পাওয়েল-হোপের বিধ্বংসী সমাপ্তি
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের শুরুটা ছিল বেশ সতর্ক। ওপেনার আলিক আথানেজ (৩৪) এবং ব্র্যান্ডন কিং (৩৩) প্রথম ৬ ওভারে ৩৫ রান তুলে। প্রথম ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৭০ রান।
তবে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায় শেষ দিকে। অধিনায়ক শাই হোপ এবং রভম্যান পাওয়েলের ব্যাটে রানের গতি তুঙ্গে ওঠে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, শততম টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা পাওয়েল মাত্র ৭ রানে জীবন পান, আর এই সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করেন তিনি। শেষ ৩ ওভারে এই দুই ব্যাটার মিলে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৫১ রান। মুস্তাফিজুর রহমানের ওভারে ছক্কা হাঁকানোর পর পাওয়েল তানজিম হাসানের ওভারে মারেন টানা তিনটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত শাই হোপ (২৮ বলে ৪৬*) এবং রভম্যান পাওয়েল (২৮ বলে ৪৪*) অপরাজিত থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ২ উইকেট নিলেও, শেষ দিকের ওভারগুলোতে তার ইকোনমি ছিল বেশ চড়া। স্পিনারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করে কৃপণ বোলিং করলেও উইকেট পাননি। রিশাদ হোসেন ১টি উইকেট নেন।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস: ব্যর্থ টপ-অর্ডার, লড়াকু লোয়ার-অর্ডার
১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দারুণ শুরু করে। আকিল হোসেনের প্রথম ওভারে তানজিদ হাসান ছক্কা-চার মেরে ১২ রান তুলে নেন। কিন্তু পরের ওভারেই তানজিদকে (১৫) ফেরান জেডেন সিলস। এরপরই শুরু হয় বিপর্যয়। চোট কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক লিটন দাস (৫) আকিলকে সহজ ফিরতি ক্যাচ দেন। সাইফ হাসান (৮) ছক্কা মেরেও থিতু হতে পারেননি।
ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে বাড়তে থাকে বিপদ। শামীম হোসেন (১) একটি ব্যাখ্যাতীত শটে বোল্ড হন, আর নুরুল হাসান সোহান (৫) খ্যারী পিয়েরের অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন। মাত্র ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায়। প্রথম ৬ ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত রান ছিল মাত্র ৬২। ধুঁকতে ধুঁকতে ১০ ওভারে মাত্র ৬৩ রান তুলতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা।
তানজিম-নাসুমের লড়াই: আশার আলো
এই চরম বিপর্যয়ের পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন তরুণ ব্যাটার হৃদয় (২৫ বলে ২৮)। তবে বাংলাদেশের আসল লড়াই শুরু হয় লোয়ার অর্ডারে। তানজিম হাসান এবং নাসুম আহমেদ পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। রোমারিও শেফার্ডের এক ওভারে ছক্কা ও দুই চারে ১৮ রান নিয়ে তানজিম ম্যাচের মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দেন। নাসুম আহমেদও বাঁহাতি স্পিনার পিয়েরের শেষ ওভারে ছক্কা-চারে ১৩ রান নেন।
এই জুটির সৌজন্যে ১৫ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১১১। শেষ ৩০ বলে প্রয়োজন ছিল ৫০ রান, যা টি-টোয়েন্টিতে খুব কঠিন সমীকরণ নয়। তবে জেসন হোল্ডার ও জেডেন সিলস সেই আশায় জল ঢেলে দেন। তানজিম ও নাসুমের ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন হোল্ডার। ২৭ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৩৩ রান করা তানজিম সীমানায় ধরা পড়েন। পরের ওভারে নাসুম (২০) চমৎকার রিলে ক্যাচে আউট হলে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়।
শেষ জুটিতে তাসকিন আহমেদ (১০) ও মুস্তাফিজুর রহমান (১১*) ২০ রান যোগ করে ব্যবধান কমান মাত্র। শেষ ওভারে তাসকিন একটি ছক্কা মারলেও, পরের বলেই হিট উইকেট হলে শেষ রক্ষা আর হয়নি। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ১৯.৪ ওভারে ১৪৯ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জেসন হোল্ডার ও জেডেন সিলস উভয়েই ৩টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
ফলাফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রভম্যান পাওয়েল।








