তিন দিন আগে ঘরোয়া প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে আর্সেনালের ১৮ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রায় ছেদ পড়েছিল। সেই অপ্রত্যাশিত ধাক্কার পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন ছিল মিকেল আর্তেতার দল কি দ্রুত এই হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারবে? বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে আর্সেনাল সেটিরই দারুণ জবাব দিল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বেলজিয়ান ক্লাব ক্লাব ব্রুজকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলল গানাররা। এই দাপুটে জয় কেবল হারের হতাশাতেই প্রলেপ দিল না, বরং ইউরোপের সেরা মঞ্চে আর্সেনালের ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করলো।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে আর্সেনাল এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপ টেবিলের শীর্ষস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি একমাত্র দল হিসেবে ছয় ম্যাচের সবগুলো জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। তাদের এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই আগামী নকআউট পর্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে।
৩–০ গোলের দাপুটে জয়: নায়ক মাদুয়েকে ও মার্তিনেল্লি
ক্লাব ব্রুজের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আর্সেনাল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ম্যাচের ফল ৩-০ গোলে শেষ হলেও, পুরো ম্যাচে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।
মাদুয়েকের জোড়া গোলে আধিপত্য
প্রথম গোলের জন্য আর্সেনালকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের শুরুতেই মার্টিন ওডেগোর দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দিলেও, ২১তম মিনিটে সফরকারীদের ডিফেন্ডার পিয়েরো ইনকাপিয়ের শট পোস্টে বাধা পায়। দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার মাত্র চার মিনিট পর গোলের দেখা পায় আর্সেনাল। এই গোলের নায়ক ছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ননি মাদুয়েকে।
- প্রথম গোল (২৫ মিনিট): সতীর্থের পাস ধরে অসাধারণ দক্ষতা দেখান মাদুয়েকে। তিনি একজনকে কাটিয়ে, আরেকজনের বাধা এড়িয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে বল জালে জড়িয়ে দেন।
- দ্বিতীয় গোল (৪৭ মিনিট): বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই ব্যবধান আরও বাড়ান মাদুয়েকে। বাঁ দিক থেকে মার্তিন সুবিমেন্দি দূরের পোস্টে দারুণ ক্রস বাড়ান। এই ক্রসটি প্রথম পোস্টের কাছে থাকা গোলরক্ষক ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। সেই সুযোগে ছুটে এসে হেডে ফাঁকা জালে বল পাঠান চেলসি থেকে গত জুলাইয়ে আর্সেনালে যোগ দেওয়া মাদুয়েকে।
এই জোড়া গোলের সুবাদে মাদুয়েকে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের গোল সংখ্যা তিনে নিয়ে গেলেন। তার দারুণ পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে আর্সেনালের আক্রমণভাগে নতুন গতি এনেছে।
মার্তিনেল্লির শটে জয়ের সিলমোহর
মাদুয়েকের জোড়া গোলের পর আর্সেনাল তাদের জয় নিশ্চিত করতে বেশি সময় নেয়নি। কিছুক্ষণ পর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরাল শট দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়, যা ক্লাব ব্রুজের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে।
এই গোলের পর ক্লাব ব্রুজ ম্যাচে ফেরার আর কোনো সুযোগ পায়নি। যদিও বল দখলের দিক থেকে আর্সেনালের চেয়ে সামান্য পিছিয়ে ছিল তারা, কিন্তু প্রথমার্ধের বিরতির আগে ক্রিস্তোস ও স্তানকোভিচের শট গোলরক্ষক দাভিদ রায়া দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেওয়ায় আর্সেনাল তাদের ক্লিন শিট ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে আর্সেনাল: ইউরোপের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এই জয়ের পর আর্সেনাল ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তাদের গ্রুপে শীর্ষস্থান সুসংহত করেছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় আর্সেনাল এখন পর্যন্ত একমাত্র দল, যারা ছয় ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পেয়েছে। এটি ক্লাবটির জন্য এক বিশাল অর্জন।
পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকালে দেখা যায়:
| ক্লাব | পয়েন্ট | অবস্থান |
| আর্সেনাল | ১৮ | ১ |
| বায়ার্ন মিউনিখ | ১৫ | ২ |
| পিএসজি | ১৩ | ৩ |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ১৩ | ৪ |
| আতালান্তা | ১৩ | ৫ |
আর্সেনালের চেয়ে ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আছে বায়ার্ন মিউনিখ। এছাড়া, পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি ও আতালান্তার মতো শক্তিশালী দলগুলো ১৩ পয়েন্ট করে নিয়ে পরের স্থানগুলোতে আছে। আর্সেনালের এই ধারাবাহিকতা এবং পয়েন্টের ব্যবধান তাদের নকআউট পর্বে সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।
অন্যদিকে, আসরে চতুর্থ হারের পর ক্লাব ব্রুজের অবস্থান খুবই হতাশাজনক। মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা ৩১তম অবস্থানে রয়েছে।
আর্সেনালের এই দাপুটে পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে এবার বড় কিছু করার জন্য প্রস্তুত। মাদুয়েকে, মার্তিনেল্লি এবং ওডেগোরের মতো খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা মিকেল আর্তেতার দলকে সাফল্যের পথে আরও অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেল।








