হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Tuesday, July 21, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeখেলাধুলামেসির আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন স্পেন
spot_img

মেসির আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন স্পেন

একটি টানটান উত্তেজনার ফাইনাল ম্যাচ, তীব্র লড়াই এবং শেষ মুহূর্তের এক রূপকথার গল্প। মেগা ফাইনালে মহাতারকা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আবার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরল স্পেন। ২০১১ সালের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস গড়ল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

পুরো ম্যাচ জুড়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতো ফুটবল খেলেছে স্পেন। অন্যদিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ডিফেন্সিভ ও কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল আর্জেন্টিনা। রোমাঞ্চে ভরা এই ম্যাচে লাল কার্ড, একাধিক হলুদ কার্ড এবং নাটকীয়তায় শেষ হাসি ফুটেছে স্প্যানিশ শিবিরে।

শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবল

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে দাপট বজায় রাখে স্প্যানিশ যুবরাজরা। প্রথমার্ধে প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা।

  • ৫ম মিনিট: ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্পেন। বক্সের ভেতর ডান পাশে চমৎকার বল পান তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। তবে তার নেওয়া শটটি দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’ গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
  • ৩৮-৪০ মিনিট: ৩৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের শট ঠেকান মার্তিনেজ। এর পরেই ম্যাচের ৪০ মিনিটে স্পেনের এক প্রতিআক্রমণ ফাউল করে রুখে দিয়ে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
  • চোটের আঘাত: ৪৪ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ নিকলাস ওতামেন্দি।

প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। ফলে ০-০ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয় অর্ধ: উত্তেজনা, ফাউল ও ১০ জনের দল আর্জেন্টিনা

বিরতির পর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। কোচ স্কালোনি বিরতির পর লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামালেও ৬ মিনিটের মাথায় ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।

দ্বিতীয় অর্ধে ম্যাচের রূপ বদলে যায় এক লাল কার্ডের ঘটনায়:

  1. আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফের্নান্দেস প্রথমে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সাথে তর্ক ও অভিনয়ের অভিযোগে একটি হলুদ কার্ড পান।
  2. পরবর্তীতে পাউ কুবারসির সাথে বলের দখলের লড়াইয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে পা চালিয়ে দেন এনজো।
  3. আগে থেকেই একটি কার্ড থাকায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার ওপর চেপে বসে স্পেন। ফ্রি কিক থেকে লামিন ইয়ামালের নেওয়া দুর্দান্ত শট রক্ষা না করলে তখনই এগিয়ে যেত স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ০-০ গোলেই শেষ হয়।

অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তা ও ফেররান তরেসের জয়সূচক গোল

নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও চলে চরম নাটকীয়তা:

  • বাতিল হওয়া গোল: অতিরিক্ত সময়ে মিকেল মেরিনোর শট মার্তিনেজ ফিরিয়ে দেওয়ার পর ফিরতি বলে নিকো উইলিয়ামস জালে বল পাঠান। কিন্তু শটের আগে ওতামেন্দিকে ফাউল করার কারণে ভিআর (VAR) ও রেফারির সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়।
  • কাঙ্ক্ষিত সেই গোল (১০৫ মিনিট): ম্যাচের ১০৫তম মিনিটে অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় স্পেন। বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বল নিখুঁতভাবে মাঠের ভেতরে নিয়ন্ত্রণে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফাঁকায় দাঁড়ানো ফেররান তরেস জোরালো এক শটে বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে দেন (১-০)।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর ঐতিহাসিক শিরোপা জয়

১০৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। তবে ১০ জনের দল নিয়ে স্পেনের শক্তিশালী ডিফেন্স ভাঙা সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে। শেষ বাঁশি বাজার সাথেই সাথেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন স্প্যানিশ সমর্থক ও খেলোয়াড়েরা।

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্ব ফুটবলের রাজত্ব ফিরে পেল স্পেন। অন্যদিকে শিরোপা হাতছাড়া করে মাঠেই কান্না ভেজা চোখে বিদায় নিতে হয় লিওনেল মেসিদের।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!