হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeব্যবসা ও শিল্পরমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ: স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ
spot_img

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ: স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। বিগত বছরগুলোর অস্থিরতা কাটিয়ে এবার রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখতে আগেভাগেই নেওয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ। সরকারের কঠোর তদারকি এবং শুল্ক হ্রাসের ফলে ইতোমধ্যে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বিত পদক্ষেপে খেজুর, তেল, চিনিসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে।

সরকারের প্রস্তুতি ও বাণিজ্য উপদেষ্টার আশ্বাস

রমজান মাসে পণ্য সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি আশার বাণী শুনিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানিয়েছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে সরকারের প্রস্তুতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের তুলনায় এবার আমদানি পর্যায়ে ঋণপত্র বা এলসি (LC) খোলার পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে পণ্য সরবরাহে ঘাটতি বা বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।

সরকারের এই আগাম প্রস্তুতির ফলে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে এসেছে। সাধারণ ভোক্তারা আশা করছেন, বিগত বছরগুলোর মতো এবার আর রমজানে বাড়তি দামের চাপে চ্যাপ্টা হতে হবে না।

শুল্ক ছাড় ও ভ্যাট মওকুফে কমছে পণ্যের দাম

রমজানে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

  • খেজুরের শুল্ক হ্রাস: রমজান উপলক্ষে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানো হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
  • অগ্রিম আয়করে ছাড়: খেজুর ও অন্যান্য ফল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। গত বছরের দেওয়া ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা এ বছরও অব্যাহত রয়েছে।
  • অন্যান্য পণ্যে ভ্যাট রেয়াত: সরিষার তেল, ময়দা, সুজি, মসুর ডাল, এলপিজি, বিস্কুট এবং লবণের মতো পণ্যগুলোর উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট মওকুফ বা রেয়াত দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান বাজার দর: গত বছরের সাথে তুলনা

সরকারের এসব পদক্ষেপের সুফল ইতোমধ্যে খুচরা বাজারে মিলতে শুরু করেছে। কেরানীগঞ্জ ও কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের তুলনায় বর্তমানে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। নিচে কিছু পণ্যের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

মুরগি ও মাংসের বাজার

  • ব্রয়লার মুরগি: বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা দরে। গত বছর যা ছিল ১৮০-২০০ টাকা।
  • সোনালি মুরগি: বর্তমানে ২৫০-২৮০ টাকা, যা গতবারের চেয়ে ১০-৩০ টাকা কম।
  • দেশি মুরগি: কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে বর্তমানে ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
  • গরুর মাংস: বর্তমানে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে, যা আগের চেয়ে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কম। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।

মুদি ও সবজি বাজার

  • পেঁয়াজ: দেশি পেঁয়াজ বর্তমানে ৪৫-৫০ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের আগে যার দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা।
  • আলু: বর্তমানে আলুর কেজি ২০-৩০ টাকা (বাজারভেদে ২৫ টাকা), যা আগে ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
  • রসুন: দেশি রসুন ১২০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কম।
  • চিনি: প্রতি কেজি ১০০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।
  • ডাল: মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা থেকে কমে ৯০ টাকায় এবং মুগডাল ১৫০ টাকা থেকে কমে ১১৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

খেজুরের দাম

সাধারণ মানের খেজুরের দাম কমে ১৮০-২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মাঝারি ও প্রিমিয়াম মানের খেজুর ৪৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কম।

সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা এরফান আলী জানান, যদিও গত কয়েকদিনে মুরগির দাম সামান্য বেড়েছে, তবুও তা গত বছরের তুলনায় কম। তিনি উল্লেখ করেন, “বড় সিন্ডিকেটগুলো যদি সরকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে মুরগির দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে।”

অন্যদিকে, মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু জানান, রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে যেমন ছোলা, ডাল, বেসন সেগুলোর দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। আমদানি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের তদারকি অব্যাহত থাকলে রমজানের ঠিক আগে দাম আরও কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ভোক্তার স্বস্তি ও আগামীর প্রত্যাশা

কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, “সরবরাহ প্রচুর থাকায় বেশিরভাগ পণ্যের দামই এখন সন্তোষজনক। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক ভালো মনে হচ্ছে।” কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পেঁয়াজ ও রসুনসহ প্রায় ২০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দাম কমেছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা এম এম আকাশ সরকারের প্রশংসা করে বলেন, “আগে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে আমরা অসহায় ছিলাম। গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার যেভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা আশাবাদী।”


আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকারের বর্তমান উদ্যোগগুলো সফল হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রোজা পালন করতে পারবে বলে আশা করা যায়। তবে এই স্বস্তি ধরে রাখতে পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখা জরুরি।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!