দুই হাত প্রসারিত করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে জুড বেলিংহ্যাম দীর্ঘদিন পর দেখা গেল সেই পরিচিত দৃশ্য। কাঁধে অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে মাঠে ফিরছেন এই ইংলিশ তারকা। এবার ফেরার পর প্রথম গোলেরও দেখা পেলেন তিনি। দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে সেরা ফর্মে ফিরতে দেখে উচ্ছ্বসিত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ শাবি আলোনসো।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইউভেন্তুসকে হারাল রিয়াল মাদ্রিদ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার ইউভেন্তুসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে জুড বেলিংহ্যামের পা থেকে। যদিও গোলটির মূল কৃতিত্ব যায় ভিনিসিউস জুনিয়রের কাছে।
বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে থেকে অসাধারণভাবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনজনকে কাটিয়ে শট নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস। তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর ফিরতি বলে নিখুঁত আলতো টোকার মাধ্যমে বল জালে পাঠান বেলিংহ্যাম। এই গোলেই জয় পায় রিয়াল।
জুনের পর প্রথম গোল
যেভাবেই হোক, গোল মানেই আনন্দ! জুন মাসের পর এটি ছিল বেলিংহ্যামের প্রথম গোল। শুধু গোলের কারণেই নয়, তার পুরো পারফরম্যান্সেই দেখা গেছে পুরোনো ছন্দ।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলোনসো বলেন,
“সে পরিপূর্ণ এক ম্যাচ খেলেছে। ইউভেন্তুস খুব বেশি জায়গা দেয়নি, কিন্তু ফাঁক গলে সে তার কাজ করেছে দুর্দান্তভাবে। গেতাফের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচেও সে ভালো খেলেছিল, আজও তাই ছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“অনেক দিন পর সে গোল পেয়েছে। মাঠে সে উপভোগ করেছে, লড়াই করেছে, তার জন্য আমি সত্যিই খুশি।”
‘পরিপূর্ণ ফুটবলার’ বেলিংহ্যাম
যদিও বেলিংহ্যাম মূলত একজন মিডফিল্ডার, তবুও তার উপস্থিতি দেখা যায় মাঠের প্রায় প্রতিটি জায়গায়। এজন্যই তাকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ফুটবলারদের একজন মনে করেন কোচ আলোনসো।
“সে যদিও মিডফিল্ডার, কিন্তু আক্রমণ গড়ে তোলার কাজটি দারুণভাবে করতে পারে। আক্রমণ শেষ করার ক্ষমতাও তার আছে। মাঠজুড়ে তার দৌড়, অংশগ্রহণ আর নেতৃত্ব তাকে পরিপূর্ণ করে তুলেছে,” বলেন আলোনসো।
বেলিংহ্যামের খেলার ধরন অনেকটাই অনন্য। সে শুধু পাস তৈরি করে না, বরং গোলের সুযোগ তৈরি করতে এবং নিজে স্কোর করতে সক্ষম। এজন্যই তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম ‘অলরাউন্ডার’ খেলোয়াড় বলা হয়।
কোচের পরামর্শ ও প্রত্যাশা
অস্ত্রোপচারের পর মাঠে ফেরার পর বেলিংহ্যামের প্রতি আলোনসোর ছিল বিশেষ পরামর্শ।
তিনি জানান,
“আমি তাকে বলেছিলাম, ম্যাচে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে এবং যতটা সম্ভব কার্যকর ভূমিকা রাখতে। আমরা চাই, সে সঠিক জায়গায়, সঠিক সময়ে থাকুক, যেখানে সে দলের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারে আসবে।”
কোচের বিশ্বাস, বেলিংহ্যাম কেবল একজন মিডফিল্ডার নয়, সে একজন গেমচেঞ্জার। তার বুদ্ধিদীপ্ত খেলা, বল কন্ট্রোল এবং গোল করার দক্ষতা রিয়ালের মাঝমাঠে এনে দিয়েছে নতুন গতি।
বেলিংহ্যামের প্রত্যাবর্তন: রিয়ালের জন্য স্বস্তির বার্তা
ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফিরছেন বেলিংহ্যাম। তার ফিরে আসা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আশার আলো। মাঝমাঠে ভারসাম্য ফিরেছে, দলে এসেছে আত্মবিশ্বাস। ভক্তদের চোখেও এখন আবার দেখা যাচ্ছে সেই চেনা বেলিংহ্যাম, যে মাঠে নামলেই খেলার গতি পাল্টে যায়।
বেলিংহ্যামের এই পারফরম্যান্স শুধু কোচকেই নয়, রিয়াল ভক্তদেরও নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। সামনে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার ফর্ম রিয়ালের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অস্ত্রোপচার ও ইনজুরির পর এক ফুটবলারের জন্য মাঠে ফেরা সব সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু জুড বেলিংহ্যাম তা করে দেখিয়েছেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও শক্ত হয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। তার দৃঢ়তা, মনোযোগ এবং পরিশ্রম প্রমাণ করেছে “ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি আবেগ ও অধ্যবসায়ের শিল্প।”
রিয়াল মাদ্রিদ এখন আগের চেয়ে আরও আশাবাদী। কারণ, তাদের দলে আবার ফিরে এসেছে সেই ‘পরিপূর্ণ ফুটবলার’ জুড বেলিংহ্যাম।








