হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআর্ন্তজাতিক৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালানোর ঘোষণা যুক্তরাষ্টের
spot_img

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালানোর ঘোষণা যুক্তরাষ্টের

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পুরনো শত্রুতা এবার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে। একটি টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের চাঞ্চল্যকর দাবি

সার্বিয়ার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘পিঙ্ক টিভি’-তে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জটিল। অনেক সময় কিছু ঘটনা শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলে। তিনি ইতিহাস টেনে বলেন, অতীতে বিল ক্লিনটনের মতো বড় বড় নেতাদের ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি ঢাকার জন্য প্রায়ই যুদ্ধ বা বড় কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারও তেমন কিছুর ইঙ্গিত পাচ্ছেন তিনি।

ট্রাম্পের ‘বিশাল নৌবহর’ ও কড়া হুঁশিয়ারি

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশালাকার নৌবহর ইরানের দিকে রওনা হয়েছে। তিনি সরাসরি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান। ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে একটি চুক্তিতে না আসে, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। তার ভাষায়, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।”

এপস্টেইন ফাইলস ও ট্রাম্পের ওপর চাপ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাব্য হামলার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সংকটও কাজ করতে পারে। সম্প্রতি কুখ্যাত অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারি সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ গোপন নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এই নথিতে ট্রাম্পের নাম আসায় এবং শিশু নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তিনি প্রচণ্ড চাপের মুখে আছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এই বড় কেলেঙ্কারি থেকে জনমনে দৃষ্টি সরাতে এবং নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ট্রাম্প ইরানে হামলার পথ বেছে নিতে পারেন।

নথিপত্রে কী আছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, দুই হাজার ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে। এই নথিপত্রগুলো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে এপস্টেইনের সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে দিচ্ছে, যা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শান্তির আশা নাকি ধ্বংসের পূর্বাভাস?

সার্বিয়ান প্রেসিডেন্ট মনে করেন, বর্তমান সময়ে শান্তি বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদি সত্যিই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো হামলা হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


যুদ্ধ কখনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না, তবে ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে অনেক সময় দেশগুলো ধ্বংসাত্মক পথে হাঁটে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এই হামলা কি কেবল পারমাণবিক ইস্যু, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রাজনৈতিক চাল? সেটি সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: নিউজ এজে

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!