সাধারণত অনেকের মনে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, ‘হজের মাস’গুলোতে ওমরাহ করা মাকরুহ বা নিষিদ্ধ। কিন্তু ইসলামি শরীয়তের আলোকে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হজের মাসগুলোতে ওমরাহ করা শুধুমাত্র বৈধই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে সুন্নাহ সম্মত। আজকের প্রতিবেদনে আমরা হজের মাসে ওমরাহ করার সঠিক নিয়ম ও বিধান নিয়ে আলোচনা করব।
হজের মাস কোনটি
ইসলামি ক্যালেন্ডারের শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ এই তিনটি মাসকে ‘হজের মাস’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারার ১৯৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এই মাসগুলোকে ‘নির্দিষ্ট মাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই মাসগুলোর অর্থ এই নয় যে পুরো সময়টাই হজের আমল চলবে; বরং এর অর্থ হলো, এই সময় থেকেই হজের আনুষ্ঠানিকতা বা ইহরাম বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
ওমরাহ কি মাকরুহ
হজের মাসে ওমরাহ করা মাকরুহ এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং বিষয়টি হলো:
- নিষিদ্ধ সময়: হজের নির্দিষ্ট ৫টি দিন (জিলহজের ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ) ছাড়া বাকি সব সময় ওমরাহ করা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং ফজিলতপূর্ণ।
- কেন নিষিদ্ধ: জিলহজের ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত হাজিরা হজের মূল আমলগুলোতে ব্যস্ত থাকেন, তাই এই দিনগুলোতে ওমরাহ করা ‘মাকরুহ তাহরিমি’ বা গুনাহের কাজ।
শাওয়াল ও জিলকদ মাসে ওমরাহর গুরুত্ব
শাওয়াল ও জিলকদ মাসে ওমরাহ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের একাধিক ওমরাহ এই মাসগুলোতে আদায় করেছেন। যেমন:
- হুদাইবিয়ার ওমরাহ (জিলকদ)।
- কাজা ওমরাহ (জিলকদ)।
- জি‘রানার ওমরাহ (জিলকদ)।
- বিদায় হজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওমরাহ (জিলকদ)।
তাই কেউ যদি নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের নিয়তে শাওয়াল বা জিলকদ মাসে ওমরাহ করেন, তবে তিনি দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী হবেন একটি হলো ওমরাহর সওয়াব এবং অন্যটি সুন্নাহ অনুসরণের সওয়াব।
হজের মাস হওয়ার প্রকৃত অর্থ
এই তিন মাসকে হজের মাস বলা হয় কারণ:
১. এই সময়ের আগে বা শাওয়ালের আগে হজের ইহরাম বাঁধা বৈধ নয়।
২. শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার পর থেকে হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধা যায়।
৩. তবে আরাফাতে অবস্থানসহ হজের মূল আমলগুলো অবশ্যই জিলহজের নির্দিষ্ট তারিখেই পালন করতে হবে।
ওমরাহ পালনকারীদের জন্য সতর্কতা
অনেকে হজের মাসে ওমরাহ করতে গিয়ে হজের আমল ও ওমরাহর আমলের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখতে হবে:
- শাওয়াল ও জিলকদ মাসে ওমরাহ পালনকারী ব্যক্তি যদি ওমরাহ শেষে হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধেন, তবে তিনি ‘হজে তামাত্তু’ পালনকারী হিসেবে গণ্য হবেন।
- কিন্তু জিলহজের ৯ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে ওমরাহ করা যাবে না, এটি মনে রাখা জরুরি।
ইসলাম কোনো ইবাদতকে কঠিন করে না। হজের মাসগুলোতে ওমরাহ করা নিষিদ্ধ নয়, বরং নিষিদ্ধ সময়টুকু বাদ দিলে এটি একটি নেক আমল। সঠিক জ্ঞান ও শুদ্ধ নিয়তে ইবাদত পালন করাই মুমিনের কাজ। তাই হজের মাসে ওমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা নির্দ্বিধায় শরীয়তসম্মত উপায়ে তাদের পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।








